ব্যয়সংকোচন নীতিতে সৌদি সরকার
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: নভেল করোনাভাইরাসের সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের ব্যাপক দরপতনে চাপের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতি। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক ধস মোকাবেলায় ব্যয়সংকোচন নীতি গ্রহণের কথা ভাবছে দেশটির সরকার।
সৌদি টেলিভিশন চ্যানেল আল-অ্যারাবিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান। খবর ব্লুমবার্গ।
আল-জাদান বলেন, ‘গত কয়েক দশকে এত গভীর সংকট সৌদি আরব দেখেনি। আমাদের জ্বালানি রাজস্ব অর্ধেকের বেশি কমেছে। জ্বালানিবহির্ভূত খাতেও রাজস্ব পতনমুখী। এ অবস্থায় আমাদের জন্য কিছু কঠোর ও শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এগুলো হয়তো পীড়াদায়ক মনে হবে, কিন্তু এছাড়া কোনো উপায় নেই।’
করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সৌদি আরবে কঠোরভাবে সান্ধ্য আইন পালন করা হচ্ছে। এতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ওপর দেশটির তেলনির্ভর অর্থনীতিতে বাড়তি সংকট তৈরি করেছে জ্বালানির রেকর্ড সর্বনিম্ন দাম। মার্চে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে অর্ধেকের বেশি। এতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট বৈদেশিক সম্পদমূল্য এক মাসে রেকর্ড ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার কমে যায়। যে জ্বালানিতে ভর করে গতিশীল সৌদি অর্থনীতি, সেই জ্বালানির কারণেই দেশটির সামনে আরো ভোগান্তি অপেক্ষা করছে। ওপেক ও মিত্র দেশগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে জ্বালানি উত্তোলন কমাতে বাধ্য হচ্ছে সৌদি আরব। আর জ্বালানির উৎপাদন কমলে স্বাভাবিকভাবেই দেশটির অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।
সৌদি অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ব্যয় ব্যাপক আকারে কমানোর দরকার এখন। যেসব খাতে বাজেটের বরাদ্দ থেকে কাটছাঁট করা হবে, তার তালিকাটা একটু দীর্ঘই।’ জ্বালনিনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের রূপকল্প ‘ভিশন ২০৩০’-এর কিছু কার্যক্রমও এর আওতায় পড়বে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো বাদে আর যেসব খাতে ব্যয় কমানো যায়, তার সব খাতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ সরকারি ঋণ বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে তারল্য প্রবাহের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বিষয়টি মোকাবেলায় আমরা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড বিক্রি অব্যাহত রাখব।’
আল-জাদান আরো বলেন, ‘সৌদি অর্থনীতির ওপর সরকারি ব্যয়ের প্রভাব অনেক বেশি। এজন্য সামনের বছরগুলোয় অর্থনীতিকে রক্ষার স্বার্থে পাবলিক ফিন্যান্সকেও সুরক্ষা দেবে সরকার। আমাদের কঠিনতর সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সবকিছু গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’
(এসএএম/০৪ মে ২০২০)



