রিলায়েন্স এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: এক্সনমবিল করপোরেশনকে টপকে এখন বাজার মূলধনের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এখন তাদের আগে রয়েছে কেবল সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকো। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি কোম্পানিকে ছোঁয়া রিলায়েন্সের পক্ষে প্রায় অসম্ভবই বলা চলে। কারণ সৌদি আরামকোর বাজার মূলধন যে পর্বতসম—১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি ডলার। খবর ব্লুমবার্গ।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিশোধনাগার পরিচালনাকারী রিলায়েন্সের শেয়ারদর গত শুক্রবার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলে একদিনেই কোম্পানিটির বাজার মূলধন ৮০০ কোটি ডলার বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। রিলায়েন্সের এমন উত্থানের দিনে এক্সনমবিলের বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১০০ কোটি ডলার।
চলতি বছরে রিলায়েন্সের বৃহস্পতি তুঙ্গে রয়েছে। অন্যদিকে শনির দশা চলছে এক্সনমবিলের। এখন পর্যন্ত চলতি বছরে রিলায়েন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। বিপরীতে এ সময়ে এক্সনমবিলের শেয়ারদর হারিয়েছে ৩৯ শতাংশ।
নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে গত এপ্রিলে জ্বালানির বাজারে যে বিশাল ধ্বস নেমেছিল, এক্সনমবিলকে তার খেসারত ভালোভাবেই দিতে হয়েছে। ওই সময় জ্বালানির চাহিদা দৈনিক তিন কোটি ব্যারেলে নেমে আসে, যা স্বাভাবিক সময়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। চাহিদার এ মন্দা ভাবের কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি কোম্পানিগুলো খাদের কিনারে চলে আসে। সে অবস্থা থেকে মাত্রই উত্তরণের পথে চলতে শুরু করেছে তারা।
নিকট অতীতে জ্বালানির সর্বনিম্ন দরের সঙ্গে ওপেকের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত, পরিশোধন কমাতে বাধ্য হওয়া এবং লাখ লাখ ব্যারেল তেল অবিক্রীত থেকে যাওয়া — এসব কারণে এক্সনমবিল ও শেভরনের মতো বৃহৎ জ্বালানি কোম্পানিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে রিলায়েন্সের জ্বালানির বাইরেও ব্যবসার অন্য খাত রয়েছে। যদিও গত অর্থবছরে কোম্পানিটির মোট রাজস্বের প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে জ্বালানি খাত থেকে। তবে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এখন ব্যবসায় বৈচিত্র্য বাড়াতে ডিজিটাল ও রিটেইল শাখার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছেন। সম্প্রতি রিলায়েন্সের জিও প্লাটফর্মস লিমিটেড ইউনিট ২ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হয়েছে। এসব বিষয় জ্বালানির দর ও চাহিদায় পতনের প্রভাব কিছুটা হলেও প্রশমন করতে পেরেছে।
রিলায়েন্সের ব্যবসায় বৈচিত্র্যকরণ প্রচেষ্টা কিছুটা হলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে, যার প্রমাণ মিলেছে কোম্পানিটির শেয়ারদরের উত্থানে। এতে কোম্পানিটির বাজার মূলধনের পাশাপাশি মুকেশ আম্বানির ব্যক্তিগত সম্পদমূল্যও বেড়েছে। ব্লুমবার্গের বিলিয়নেয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী তিনি বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি।
(ডিএফই/ ২৮ জুলাই, ২০২০)



