সৌরভ গাঙ্গুলীর রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: ভারতের প্রখ্যাত ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে জল্পনা এখন তুঙ্গে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, কলকাতায় একটি স্কুল গড়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতার দেওয়া দুই একর জমি ফিরিয়ে দিয়েছেন সৌরভ।
আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ২৯৪ আসনের নির্বাচন। নির্বাচনী তৎপরতা ইতিমধ্যে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। এই দুলেরই এবার লক্ষ্য রাজ্যের শাসনক্ষমতায় যাওয়া। একদিকে যেমন তৃণমূল বলছে, তারাই তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় যাচ্ছে; আর বিজেপিও ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবে তারা।
এসবের মধ্যে সৌরভ গাঙ্গুলীকে দেওয়া রাজ্য সরকারের দুই একর জমি অবশেষে তিনি ফিরিয়ে দিলেন। যদিও এর আগে সৌরভ মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে দেখা করে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন; তবে সে কথা সংবাদমাধ্যমে আসেনি। তখন সৌরভ বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকার ছিল নেহাত সৌজন্যমূলক। কিন্তু আজ সোমবার সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, সৌরভ স্কুল গড়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া দুই একর জমি ফিরিয়ে দিয়েছেন। গাঙ্গুলী এডুকেশন ও ওয়েলফেয়ার সোসাইটি গড়ার জন্য সৌরভ সল্টলেকের নিউটাউনে পেয়েছিলেন দুই একর জমি।
জমি ফেরত দেওয়ার পর রাজ্যজুড়ে এই জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি সৌরভ রাজনীতির আঙিনায় পা দিচ্ছেন? রাজনীতিতে পা দিলেও তিনি কোন দলে যাবেন, তা অবশ্য এখনো স্পষ্ট হয়নি। তবে রাজ্যে যে জল্পনার হাওয়া চলছে, তাতে মনে করা হচ্ছে, সৌরভ যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে। বিজেপিও সৌরভকে দলে চাইছে বলে জল্পনা আছে। কারণ, সৌরভের ভাবমূর্তি এখনো রাজ্যজুড়ে স্বচ্ছ। তাই বিজেপি মনে করছে, সৌরভকে মুখ্যমন্ত্রী প্রোজেক্ট করে নির্বাচনে লড়লে বিজেপির জয়লাভের সম্ভাবনা প্রবল।
এর আগে বামফ্রন্টের আমলে রাজ্যের তৎকালীন নগর উন্নয়নমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যও সৌরভকে স্কুল গড়ার জন্য সল্টলেকে জমি দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই জমি নিয়ে মামলা হওয়ায় সৌরভ ছেড়ে দিয়েছিলেন।
যদিও তৃণমূল আগামীর নির্বাচনের মুখ্যমন্ত্রীর পদের তৃতীয়বারের জন্য মুখ করবে মমতাকেই; সেটি নিশ্চিত। তবে বিজেপি এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তাদের মুখ্যমন্ত্রী পদের কে মুখ হবেন নির্বাচনী প্রচারে? বিজেপি কি সৌরভকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচারের মুখ করবে—সেই প্রশ্নটিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে। আর এই ঘুরপাক খাওয়ার অন্যতম কারণ বিজেপির সঙ্গে সৌরভের সখ্য। পাশাপাশি সৌরভের মধুর সম্পর্ক রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও।
সৌরভ রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি। সৌরভের স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলি সম্প্রতি কলকাতার একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘সৌরভ রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, তা বলতে পারব না। তবে এটা বিশ্বাস করি, যদি তিনি রাজনীতিতেও যান, সেখানেও তিনি “টপে” থাকবেন।’
যদিও সৌরভ ক্রিকেটের ময়দানে অধিনায়ক হিসেবে ‘টপে’ (শীর্ষে) ছিলেন, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল বা সিএবির সভাপতি হিসেবে তিনি বড় ভূমিকায় ছিলেন। আবার এখন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি হিসেবে রয়েছেন শীর্ষে।
বিসিসিআইয়ের সচিব ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র জয় শাহ। তাঁর সঙ্গে সৌরভের সুসম্পর্ক আছে। আর এসবই সৌরভের রাজনীতিতে বা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাকে উসকে দিচ্ছে।
(ডিএফই/২৪ আগস্ট, ২০২০)



