আশাব্যঞ্জক নয় চীনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের কারণে পতনের পর অনেকাংশেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। কিন্তু মানুষ যতটা মনে করছে, চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঠিক ততটা আশাব্যঞ্জক নয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান চায়না বেইজ বুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেল্যান্ড মিলারের মতে, মহামারীর ধাক্কা সামলে নিশ্চয়ই চীন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধার দেখেছে কিন্তু বছরওয়ারি ভিত্তিতে এক্ষেত্রে কোনো উন্নতি হয়নি। খবর সিএনবিসি।
মিলার বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেটুকু পুনরুদ্ধার হয়েছে, তা চীনের পুরো অর্থনীতিতে সমভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। সত্যিকার অর্থে এই পুনরুদ্ধারের দুটি ভাগ রয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা গেছে, বড় শহর ও উপকূলীয় এলাকার অর্থনীতি দেশের অন্য সব এলাকা থেকে অনেক বেশি ভালো করছে। ফলে চীনে বর্তমানে যে দুই ধরনের পুনরুদ্ধার চলছে, কর্তৃপক্ষ তার মধ্য থেকে বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংডংয়ের পুনরুদ্ধারকেই প্রচার করতে চাইছে। কিন্তু এটি মোটেই দেশটির সার্বিক পুনরুদ্ধারের চিত্র নয়। মূলত বড় শহরের বাইরে চীনের অন্য এলাকায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চায়না বেইজ বুক চলতি বছরের আগস্টের ১৩ তারিখ থেকে সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ পর্যন্ত চীনের ৩ হাজার ৩০০টিরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ পরিচালনা করে। আর এ জরিপে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অক্ষুণ্ন রয়েছে দেশটির ধনী ও উপকূলীয় এলাকায়। তবে বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, এক বছর আগের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের প্রত্যেক অঞ্চলেই আয় ও মুনাফায় পতন হয়েছে ১০ শতাংশের বেশি। এছাড়া অধিকাংশ প্রদেশে আগের প্রান্তিকের তুলনায় কমেছে উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ ক্রয়াদেশ।
এর বাইরে চীনের পুনরুদ্ধারের জন্য আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ নিচ্ছে না। মিলার বলেন, ঋণবাজারের দিকে তাকালেই এ অসংগতি চোখে পড়বে। সেবা খাতের বহু প্রতিষ্ঠান এবং খুচরা বিক্রেতারা যতটা ঋণ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে হচ্ছে, ঠিক ততটা নিচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত মন্থরতা থেকে পুনরুদ্ধারের পথে আরো অনেক বেশি ঋণ গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু যেহেতু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ নিচ্ছে না, তার মানে হলো তারা অর্থনীতির কিছু একটা নিয়ে নিশ্চিতভাবেই শঙ্কিত। দেখা গেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলো তৃতীয় প্রান্তিকে তার আগের প্রান্তিকের চেয়ে অনেক কম ঋণ নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মোটেই এমন হওয়ার কথা ছিল না।
বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসে প্রথম আক্রান্ত দেশ চীন। দেশটির হুবেই প্রদেশের উহান থেকেই মূলত ভাইরাসটি ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে দেশের অধিকাংশ অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় চীনা কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রথম প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ অর্থনৈতিক সংকোচনের মুখে পড়ে দেশটি। এরপর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ।
তবে বর্তমানে চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সতর্কতার সঙ্গে হলেও আশাবাদের সুযোগ দেখছেন চায়না মার্কেট রিসার্চ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেনজামিন ক্যাভেন্ডার। আর তাকে আশান্বিত করছে সম্প্রতি চীনের পর্যটন জোয়ার। চীনের জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত সপ্তাহে বিপুল পর্যটকের সমাগম হয়। এ আটদিনে ট্রিপের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটিতে। গত বছরের ৮০ কোটি ট্রিপের তুলনায় এ সংখ্যা কম হলেও পর্যটকরা যে ফিরছেন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে খুচরা বিক্রেতা ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য বিষয়টি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। চীনের সংস্কৃতি ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে পর্যটন খাতের আয় হয়েছে ৬ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার ।
(এসআর / ১০ অক্টোবর ২০২০)



