কারখানার শ্রমিক থেকে বিলিয়নিয়ার
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: পাইপ কারখানার সাধারণ শ্রমিক থেকে আজ নিজেই উদ্যোক্তা। শুধু তাই নয়, রীতিমতো বিলিয়নিয়ার বনে গেছেন চীনের ইয়ে গুয়োফু। ব্যবসায় নতুন ধারণা নিয়ে এসে তিনি পেয়েছেন দারুণ সফলতা। গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করেই আজ প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের মালিক ৪২ বছর বয়সী ইয়ে ও তার স্ত্রী।
চলমান কভিড-১৯ মহামারীতে মানুষের আয়-রোজগার কমে যাওয়ার ফলে কমেছে ক্রয়ক্ষমতাও। এ সুযোগটাকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে মুনাফা করেছেন ইয়ে। তিনি গৃহস্থালি পণ্য অত্যন্ত সস্তা দামে বিক্রি করে কোটি কোটি ডলার আয় করেছেন।
চীনের গুয়ানডংভিত্তিক মিনিসো গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড মূলত ‘বাজেট স্টোর’ ব্যবসায়িক ধারণাকে পুঁজি করেই দ্রুত উন্নতির শীর্ষে উঠে এসেছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্সের তথ্যমতে, কোম্পানিটি বৃহস্পতিবার একদিনেই প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) শেয়ার বিক্রি থেকে ঘরে তুলেছে ৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। কোম্পানিটিতে স্ত্রী ও তার নিজের ৬৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি।
ঘরের বাতি থেকে শুরু করে বাথরুমের স্লিপার পর্যন্ত সবকিছুই বিক্রি করে মিনিসো। তাদের পণ্যও বাহারি রঙের। কোম্পানিটি বলছে, চীনে তাদের পণ্যের ৯৫ শতাংশেরই দাম ৫০ ইউয়ানের (৭ ডলার ৪৪ সেন্ট) নিচে। যুক্তরাজ্যে যেমন প্রিমার্ক, জাপানের ডন কুইজোত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ডলার জেনারেল, ঠিক তেমনই চীনে সব ধরনের ক্রেতার মনে আবেদন তৈরি করতে পেরেছে মিনিসো।
মহামারীর কারণে মানুষ আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে অনলাইনে কেনাকাটা করছে। এই সুযোগে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠছে খুচরা বিক্রেতা কোম্পানিগুলো। মহামারী বর্তমান প্রজন্মকে মিতব্যয়িতার দিকে ধাবিত করেছে, যারা মূল্যছাড়ের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এ ট্রেন্ডের সূচনা অবশ্য এক দশক আগেই ২০০৭-০৮ সালের আর্থিক মন্দার সময় হয়েছিল। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনাল বলছে, আধুনিক কিন্তু সস্তা জিনিসপত্র বিক্রি করা মিনিসো চীনে মুদি দোকানগুলো বাদে অন্যান্য জেনারেল মার্চেন্ডাইজিং আউটলেটের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বাজার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ইয়ে বলেছেন, ‘যেহেতু মহামারীতে মানুষের ব্যয়ের ক্ষমতা কমে গেছে, তাই তারা এখন কম দামে ভালো জিনিস কেনার দিকে ঝুঁকছেন। এটাই মিনিসোর জন্য বিরাট সুযোগ হয়ে আসে। আমরা যত বেশি আর্থিক মন্দায় পড়ব, আমাদের জন্য তত বড় সুযোগ আসবে এবং বাজেট ব্র্যান্ডেরও তত বেশি উন্নয়ন ঘটবে।’
২০১৮ সালে কোম্পানিটিতে ১০০ কোটি ইউয়ান বিনিয়োগ করেছিল চীনা টেক জায়ান্ট টেনসেন্ট হোল্ডিং ও হেজ ফান্ড হিলহাউজ ক্যাপিটাল। এখন কোম্পানিটিতে তাদের প্রতেকেরই রয়েছে ৪ শতাংশ শেয়ার। দুই কোম্পানির শেয়ারের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৬১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। দুই বছর আগে যে বিনিয়োগ করেছিল তারা, তা এখন বেড়ে প্রায় চার গুণ হয়েছে।
মান্দারিন ভাষায় ইয়ের নামের শেষাংশের অর্থ ‘ধনী’। হুবেই প্রদেশে জন্মগ্রহণ করা ইয়ের জীবনের শুরুটা বেশ সাদামাটা। তিনি কাজ করতেন একটি ইস্পাত পাইপ ফ্যাক্টরিতে। চীনে যখন কনজিউমার পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকে, তখন তিনি নামেন ট্রেডিং ব্যবসায়। শুরুতে সিরামিকস, কসমেটিকস আর ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজের ব্যবসায় যুক্ত হন।
২০১৩ সালে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় জাপান সফর করে। সেখান থেকে বাজেট শপের ধারণা পান এবং তা চীনে নিয়ে আসেন। তাকে এ কাজে সাহায্য করেন জাপানি ডিজাইনার মিয়াকে জুনিয়া। সেই থেকে শুরু। এখন মিনিসোর রয়েছে ৪ হাজার ২০০ স্টোর, যার ৬০ শতাংশই চীনে। বাকিগুলো বিশ্বের ৮০টি দেশে ছড়িয়ে আছে।
ইয়ের সম্পদমূল্য নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তার প্রতিনিধি। তবে ইয়েকে যখন তার বিলিয়নেয়ার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন সাত সেকেন্ড চুপ থেকে জবাব দেন, ‘এ নিয়ে আমি এখনো মোটেও ভাবিনি। আসলে নিজের কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় কাটাই আমি।’- ব্লুমবার্গ
(ডিএফই/এসআর/১৭ অক্টোবর ২০২০)



