মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার পথে কোরিয়ার রফতানি খাত

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক:  কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে দ্রুত উত্তরণের পথে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি খাত। যদিও গত মাসে দেশটির রফতানির পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে, তবুও দৈনিক রফতানি বাড়তির দিকে থাকায় শিগগিরই এ পতন কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর ব্লুমবার্গ।

কোরিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশটির রফতানি কমেছে বছরওয়ারি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্লেষকরা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সংকোচনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে গত মাসে মোট রফতানি কমলেও দৈনিক গড় রফতানি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ বছর অক্টোবরে দুই কার্যদিবস কম থাকায় দৈনিক রফতানির পরিসংখ্যানে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য সবচেয়ে আশার কথা হলো, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট স্থবিরতা কাটিয়ে বৈদেশিক চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করেছে। আবার এই বৈদেশিক চাহিদাই কোরিয়ার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় নতুন করে লকডাউনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। এতে সেসব দেশে চাহিদায় ফের ধস নামতে পারে।

গত মাসে চীনে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে দেশটির সেমিকন্ডাক্টর রফতানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। আর ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে গাড়ি রফতানিতে।

অক্টোবরে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা পণ্য রফতানি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। আলোচ্য সময়ে এসব পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। গৃহস্থালি সরঞ্জামের রফতানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ। তবে ইস্পাত রফতানি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, জ্বালানি পণ্য ৫০ শতাংশ ও তারবিহীন যোগাযোগ সরঞ্জামের রফতানি ১২ শতাংশ কমেছে।

আলোচ্য সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোরিয়ার রফতানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে জাপানে কমেছে ১৯ শতাংশ। অক্টোবরে কোরিয়ার মোট আমদানি কমেছে বছরওয়ারি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে দেশটির বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি যে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে, তা সর্বশেষ প্রান্তিকের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই পরিষ্কার হয়। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশটির রফতানি আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে ১৬ শতাংশ। এ সময় তাদের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। ১৯৮৬ সালের পর দেশটিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এটাই সর্বোচ্চ। কোরিয়ার এই রেকর্ড প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসও ছাড়িয়ে গেছে। তৃতীয় প্রান্তিকের জন্য দেশটির জিডিপিতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জানিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা।

কোরিয়ার এই পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে চীন ও অন্যান্য শীর্ষ অর্থনীতিতে মেমোরি চিপ ও ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি। করোনা প্রতিরোধে ঘরে বসে কাজ করার প্রচলন বাড়ায় এসব পণ্যের চাহিদা বাড়তির দিকে।

অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। রফতানিতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি, পর্যাপ্ত প্রণোদনা ও কভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় সাফল্য তাদের এ শক্ত অবস্থানে যেতে সহায়তা করেছে।

(এসআর/ ০৩ নভেম্বর ২০২০)


Comment As:

Comment (0)