যেমন হতে পারে জো বাইডেনের বৈদেশিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চীনা হাতব্যাগ থেকে শুরু করে ফরাসি ওয়াইন বা স্কটিশ ক্যাশমেয়ার—এ রকম বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কর্মসংস্থান রক্ষা এবং আমেরিকার মুনাফা বৃদ্ধিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে ওই দেশগুলোর পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করেছেন, যেগুলো অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছিল বলে দাবি স্বঘোষিত ট্যারিফ ম্যানের। যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্র কী সুবিধা পেল তা স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউজে পরিবর্তনের ফলে আমেরিকার বাণিজ্যনীতিতে কেমন পরিবর্তন আসবে, সে বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বহুল প্রত্যাশিত যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন বাণিজ্য চুক্তি কি স্বাক্ষরিত হবে? ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের বাণিজ্যযুদ্ধ কি শেষ হবে? ইতালির পারমিসান নির্মাতারা কি কর অব্যাহতি পাবে? এসব প্রশ্নের আলোচনায় পাঁচটি বিষয় উঠে এসেছে—

জো বাইডেনের অগ্রাধিকার ভিন্ন নয়
নির্বাচনী প্রচারণার সময় জো বাইডেনের ‘আমেরিকান পণ্য ক্রয় করো’ স্লোগান অনেকটা ট্রাম্পের স্লোগানেরই প্রতিধ্বনি করে। মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব হার দ্বিগুণের বেশি দাঁড়ানোয় কর্মসংস্থান চাঙ্গা করা হবে বাইডেনের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাইডেন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে বিদেশে কার্যক্রম সরিয়ে নেয়া মার্কিন কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করা। ব্যবসা পদ্ধতি ও চীনের একচেটিয়া উত্থান নিয়ে তিনিও ট্রাম্পের মতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

একই স্বপ্ন, ভিন্ন পন্থা
বিশ্বমঞ্চে আমেরিকা শক্তিশালী অবস্থান নিক—এমন প্রত্যাশা দুজনেরই। কিন্তু দুজনের এটা নিশ্চিত করার কর্মসূচি ভিন্ন। চীনের বিরুদ্ধে শুল্কযুদ্ধ এবং ইউরোপকে চাপে রাখার মাধ্যমে একলা চলো রে নীতি অনুসরণ করে আসছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু বাণিজ্যে বহুপাক্ষিক নীতি অনুসরণ করতে চান বাইডেন এবং পুরনো মিত্রদের সঙ্গে নিয়েই এগোবেন তিনি।

ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো
বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্পের নীতি থেকে সরে এসে ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাবেন বলেই মনে হচ্ছে। এতে ইইউর নেতাদের মধ্যে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। ফ্রান্সভিত্তিক ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাস ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বোয়িংয়ের মধ্যে বিরোধ ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই চলে আসছিল। কিন্তু ট্রাম্প এসে ৭৫০ কোটি ডলারের বিলাস দ্রব্যে শুল্ক আরোপ করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাইডেন অন্তত শুল্কযুদ্ধ তিক্ত হওয়া ঠেকাবেন। এছাড়া ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করবেন। গাড়িতে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকেও রেহাই পাবে ইইউ মিত্ররা।

ব্রিটেনের সঙ্গে অতটা দহরম-মহরম সম্পর্ক নয়
হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প এবং ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে বরিস জনসনের উপস্থিতিতে দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে একটি বিশেষ রসায়ন খুঁজে পেয়েছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণ করলে ব্রিটেনকে আলাদা সুবিধা দেবেন না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাইডেন এমনিতেই ব্রেক্সিটের বড় ভক্ত নন। গুড ফ্রাইডে চুক্তির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন হলে লন্ডনের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে না-ও যেতে পারে ওয়াশিংটন।

শুধু পণ্য বাণিজ্যই নয়, আরো বেশি কিছু
বন্দরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিপিং কনটেইনারের বাইরেও অনেক বাণিজ্য হয়। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে ট্রাম্প যেখানে সন্দেহ ও নিন্দার চোখে দেখেছেন, সেখানে সংগঠনটির আধুনিকায়নে জোর দিতে পারেন বাইডেন। ইউরোপে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সেবা করের মতো বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে হয়তো ডব্লিউটিওর সঙ্গে উদ্বেগ বহাল থাকবে, কিন্তু বাইডেন দায়িত্ব গ্রহণ করলে হয়তো ভিন্ন অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা প্রশমনে এগিয়ে আসতে পারেন। বৈশ্বিক বাণিজ্যে মনোযোগ দেয়ার আগে অভ্যন্তরীণ বেশকিছু ইস্যুতে আগে মনোযোগ দেবেন—এমনটাই ভাবছে ডেমোক্র্যাট থিংক ট্যাংকগুলো। মহামারী নিয়ন্ত্রণ, নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ, অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা, বর্ণবৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া—এমন কর্মসূচি বাইডেনের প্রথম ১০০ দিনে সবচেয়ে অগ্রাধিকার পেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
-বিবিসি অবলম্বনে।

(ডিএফই/১০ নভেম্বর ২০২০)


Comment As:

Comment (0)