ভারতে মহাসড়ক অবরোধের পর কৃষকদের অনশন

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: হরিয়ানা রাজ্যের সীমান্তে রিওয়ারি এলাকায় ১৩ ডিসেম্বর কৃষি আইন বিরোধী বিক্ষোভের সময় দিল্লি–জয়পুর মহাসড়ক অবরোধ ও মিছিল করেন কৃষকেরা। প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।

ভারতে কৃষকদের চলমান বিক্ষোভ ১৯তম দিনে এসে সোমবার আরও গতি পেয়েছে। নতুন করে পাস করা তিনটি কৃষক আইন বাতিলের দাবিতে আজ আন্দোলনরত কৃষকেরা অনশন কর্মসূচি পালন করবে। কৃষকদের ৩২টি সংগঠনের সদস্যরা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনশনে বসবেন। এ ছাড়া কৃষকদের সংগঠন বিকেইউর নেতা গুরমিত সিংহ চাডাউনি বলেন, ‘১৯ ডিসেম্বর থেকে আমি আমরণ অনশনে বসব।’

নতুন তিন আইন বাতিলের দাবিতে ভারতে বেশ জল ঘোলা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার এসব আইনের প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলছেন, এসব আইন কার্যকর হলে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হবে। এরপরও কৃষকেরা মানতে নারাজ। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকনেতাদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে ছয় দফা। কিন্তু সুরাহা হয়নি। সরকারের প্রস্তাব খারিজ করেছেন তাঁরা।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, রোববার কৃষকেরা রাজস্থান–হরিয়ানা রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা শাহজাহানপুর থেকে ট্রাক্টর র‍্যালি করেন। আট শতাধিক কৃষক এতে অংশ নেন। এর নেতৃত্ব দেন স্বরাজ ইন্ডিয়ার প্রধান যোগেন্দ্র যাদব। সমাজকর্মী মেধা পাটেকরও র‍্যালিতে অংশ নেন। এর ফলে দিল্লি–জয়পুর মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

সরকারের সঙ্গে ব্যর্থ হওয়া আলোচনা এবং আইনটি প্রসঙ্গে যোগেন্দ্র যাদব বলেন, ‘এটা এক অদ্ভুত আলোচনা। সরকার জোর করে “উপহার” দিতে চাইছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, “এসব আইন কৃষকদের জন্য ঐতিহাসিক উপহার।” কিন্তু কৃষকেরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বলছেন, “যে র‍্যাপিং পেপারে মুড়িয়ে উপহার দেওয়া হয়েছে, তা আমরা বদলে দেব।” কিন্তু এরপরও কৃষকেরা বলছেন, “তাঁরা এই উপহার চান না।” কৃষকের কল্যাণের কথা বিবেচনা করা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রীর। আইনগুলো বাতিল করা দরকার।’ গতকাল কৃষকদের এই র‍্যালি হরিয়ানার সীমান্ত এলাকা রিওয়ারিতে গিয়ে শেষ হয়।

এ ছাড়া সংযুক্ত কিষান আন্দোলনের নেতা কামাল প্রিত সিং পান্নু আন্দোলনরত কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই আইনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জানিয়ে দিতে শত শত ট্রাক্টর নিয়ে দিল্লি যাব। সরকার এই আন্দোলন কলঙ্কিত ও ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

এদিকে আন্দোলন জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লিতে ঢোকার মুখে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শিগগির অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, কৃষিসংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিকাশে যেসব বাধা রয়েছে, নতুন আইন সেগুলো দূর করবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও তাঁদের আরও উন্নতির জন্য এসব উদ্যোগ নিয়েছি। কৃষিতে বিনিয়োগ ও কৃষকদের উপকারে সাহায্য করবে এই সংস্কার।’

কৃষক বিক্ষোভ–সংশ্লিষ্ট তিনটি আবেদনের ওপর আগামী বুধবার শুনানি নেবেন সুপ্রিম কোর্ট।

সম্প্রতি ভারতীয় পার্লামেন্টের বাদল অধিবেশনে প্রায় বিনা আলোচনায় পাস করা হয় কৃষিসংক্রান্ত তিনটি বিতর্কিত বিল। সেই থেকে রাজ্যে রাজ্যে কৃষক অসন্তোষের জন্ম।

সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হলেও বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষকেরা।

(ডিএফই/১৪ ডিসেম্বর, ২০২০)


Comment As:

Comment (0)