আমেরিকা-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: যুক্তরাষ্ট্রে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন দায়িত্ব বুঝে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন মুক্তবাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নেয়া যায় সে বিষয়ে পূর্ব প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রমানিয়াম জয়শঙ্কর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর ব্লুমবার্গ।

নয়াদিল্লিতে ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) জয়শঙ্কর বলেন, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিলে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আশা করছি। আমরা একটি বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধিতে অনেক দূর এগিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছিল ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি।

চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর। বাজারে বিস্তৃত প্রবেশ সুবিধাসহ বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যকার আলোচনায় টানাপড়েন সৃষ্টি হয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন সময়ের দাবি। গত বছর প্যান-এশিয়ান একটি চুক্তি এবং গত মাসে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতের অনুপস্থিতিতে সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই চুক্তিগুলোতে এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি চীন ও দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপান থাকলেও বাদ পড়েছে তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতি ভারত।

মোদি সরকার যদিও আরেক মেয়াদে ট্রাম্পকেই প্রত্যাশা করেছিলেন কিন্তু বাইডেনের জয়ে নয়াদিল্লিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে ভারতের তেলমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আশা করছেন আরো বেশ কয়েকটি দেশ থেকে তেল আমদানি করতে পারবে ভারত। ইরান ও ভেনিজুয়েলার ওপর হোয়াইট হাউজের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আশা করছে নয়াদিল্লি। ট্রাম্পের মেয়াদে খুবই আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ২০১৮ সালে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তুলনামূলক সাশ্রয়ী অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য ভারতের পছন্দের গন্তব্য ছিল ইরান। ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে ভারত। এছাড়া গত বছর ভেনিজুয়েলার ওপরও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

গত বুধবার এক ওয়েবিনারে ভারতের তেলমন্ত্রী বলেন, ক্রেতা হিসেবে আমরা চাই যেন অনেক বাজার থেকে কিনতে পারি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, সন্ত্রাসবাদ, পাকিস্তান, অস্ত্র বিক্রি, বাণিজ্য, ভিসা ও মানবাধিকারের মতো বিষয়। কৌশলে পরিবর্তন আনলেও চীনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নীতিই বহাল রাখতে পারেন বাইডেন। বেইজিংকে চাপে রাখার এ নীতিতে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হতে পারে নয়াদিল্লি।

বাণিজ্য ক্ষেত্রে ভারতীয় পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার করে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বাইডেন, এ প্রত্যাশা বিশ্লেষকদের। এছাড়া এইচওয়ান ভিসার ক্ষেত্রেও নীতিমালা শিথিল করবেন তিনি, যাতে সুযোগ বাড়বে ভারতীয়দের। তবে এক্ষেত্রে কংগ্রেসে যে বাধার মুখোমুখি হবেন সেদিকে ইঙ্গিত করছেন তারা।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সেন্টার অন এশিয়া অ্যান্ড গ্লোবালাইজেশনের পরিচালক কান্তি বাজপাই বলেন, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত আমেরিকানদের তুষ্ট রাখার নীতি মেনে চলবে। উদার মার্কিন অর্থনীতি থেকে গত দুই দশক সুবিধা ঘরে তুলেছে চীন। ভারত কিছুটা দেরিতে এ দলে যুক্ত হয়েছে। ভারতের পক্ষে অতীতের উদার বাণিজ্যের সুযোগ গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না।

(ডিএফই/১৪ ডিসেম্বর, ২০২০)


Comment As:

Comment (0)