আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বেতন ও পেনশন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, দায়িত্বে থাকাকালীন প্রেসিডেন্টদের একটি নির্দিষ্ট অংকের বেতন দেওয়ার নিয়ম আছে। ইউএস কোডের অনুচ্ছেদ ৩ বলছে, একজন প্রেসিডেন্ট বছরে বেতন হিসেবে ৪ লাখ ডলার (অর্থাৎ মাসে ২৮ লাখ টাকার বেশি) পাবেন। এ ছাড়া প্রতি বছর আনুষঙ্গিক ব্যয় হিসেবে ৫০ হাজার ডলার (৪২ লাখ টাকার বেশি), বেড়ানোর জন্য ১ লাখ ডলার (প্রায় ৮৫ লাখ টাকা) এবং বিনোদন ভাতা হিসেবে বছরে ১৯ হাজার মার্কিন ডলার (১৬ লাখ টাকার বেশি) পান একজন প্রেসিডেন্ট। তবে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবারের সাজসজ্জার জন্য আলাদা করে কোনো অর্থ বরাদ্দ থাকে না। কোনো ডিজাইনার যদি পোশাক উপহার দিতে চান, সাধারণত তা গ্রহণ করার নিয়ম নেই। প্রেসিডেন্ট যদি উপহার গ্রহণ করেনও, একবার পরার পরই সেটি জাতীয় সংগ্রহশালায় জমা দিয়ে দিতে হয়।
আর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সরকারি তহবিল থেকে নির্দিষ্ট অংকের বেতন পান। এছাড়াও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিমার মতো কিছু সুবিধা অব্যাহত থাকে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অবসরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পান অভিজাত এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য বিশাল জায়গা। যার সাবতীয় খরচ বহন করে সরকার। এছাড়া ওই অফিসে যেসব কর্মী কাজ করবেন তাদের খরচও বহন করে সরকার। আর বিভিন্ন ভ্রমণ ও টেলিফোন খরচ বাবদ ভাতা পান সাবেক প্রেসিডেন্টরা। শুধু প্রেসিডেন্ট নয় বরং অবসর নেওয়ার পর সরকারি সুবিধা পাবেন প্রেসিডেন্টের পরিবারও। প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের জন্য সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা রক্ষার সুবিধার সব খরচই বহন করবে সরকার। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্টের স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পেনশন পাবেন বছরে ২০ হাজার ডলার (১৭ লাখ টাকা)। সঙ্গে তারাও পান ঘোরাঘুরি, টেলিফোন ও যোগাযোগের যাবতীয় খরচ।
আমেরিকার সংবিধানের রীতি অনুযায়ী, সব সাবেক প্রেসিডেন্টই বেতন পান প্রেসিডেন্টের ক্যাবিনেটের সদস্যদের বেতনের মত। ২০১৭ সালে এর পরিমাণ ছিল বছরে ২ লাখ ৭ হাজার ৮০০ ডলার (১ কোটি ৭৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা)।
(ডিএফই/২১ জানুয়ারি, ২০২১)



