জাপানে ফের জরুরি অবস্থা; অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা
বিনিয়েোগবার্তা ডেস্ক: কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানে নতুন করে জরুরি পরিস্থিতি জারি করা হয়েছে। আর এরফলে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। খবর কিয়োদো নিউজ।
গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা ভ্রমণের জন্য বছরের অন্যতম ব্যস্ত সময় আসন্ন গোল্ডেন উইকের ছুটিতে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ রোধে নতুন জরুরি অবস্থা জারি করেন। এ ঘোষণায় রাজধানী টোকিওসহ ওসাকার পশ্চিমাঞ্চল, কিয়োটো ও হিয়োগো অঞ্চল তৃতীয় জরুরি অবস্থার আওতায় পড়েছে।
রোববার থেকে কার্যকর হওয়া এ জরুরি অবস্থা আগামী ১১ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এ ঘোষণার আওতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বার, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও শপিংমল বন্ধ রাখাসহ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবে। এ পদক্ষেপের কারণে চলতি প্রান্তিকে অর্থনীতি সম্ভবত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখোমুখি হবে।
অনেক বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, জাপানের অর্থনীতি আগের প্রান্তিকের মন্দার চেয়ে এপ্রিল-জুন সময়কালে প্রত্যাবর্তন করবে। জানুয়ারি-মার্চ সময়কালে দেশটির টোকিও, ওসাকা ও অন্যান্য শহরে জরুরি অবস্থা জারি ছিল। এ সময়ে খাদ্য পরিষেবা শিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেস্তোরাঁ ও বারগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা ছিল। বছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিসংখ্যান আগামী মাসে প্রকাশের কথা রয়েছে। তবে এরই মধ্যে অর্থনীতিবিদরা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি সংকোচনের পূর্বাভাস দিচ্ছেন।
এ মাসের শুরুতে জাপান অর্থনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রকাশিত ৩৬ জন অর্থনীতিবিদের গড় পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ সময়কালে আগের প্রান্তিকের তুলনায় অর্থনীতি ৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমীক্ষায় পরের প্রান্তিকে তারা প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাসও দিয়েছিলেন। তবে নতুন বিধিনিষেধ সে আশাকে ম্লান করে দিতে পারে।
দাইওয়া ইনস্টিটিউট অব রিসার্চের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ কেউজি কান্দা বলেন, আমি মনে করি না যে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ জরুরি অবস্থা শেষ হয়ে যাবে। এটি আরো দুই মাস বা তারও বেশি বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া এ জরুরি অবস্থার অঞ্চলগুলোও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা প্রসারিত হলে তার অর্থনৈতিক ক্ষতিও ব্যাপক হবে।
গত বছরের এপ্রিলে টোকিওসহ ছয়টি অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে জরুরি অবস্থা জারি করার পর পরবর্তী সময়ে সেটা ৪৭টি অঞ্চলে প্রসারিত করা হয়েছিল।
(এসএএম/২৫ এপ্রিল ২০২১)



