ব্যাংক অব জাপানের সম্পদ বেড়েছে

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: ২০২০ অর্থবছরে ব্যাংক অব জাপানের নিট সম্পদ বেড়েছে ৬ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার (৭১৪ দশমিক ৫৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন)।

সম্প্রতি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত আট বছরে গভর্নর হারুহিকো কুরুদার অধীনে ব্যাংকটির সম্পদের পরিমাণ চার গুণ বেড়েছে। ব্যাংকের সম্পদে এমন প্রবৃদ্ধির পেছনে মূলত হারুহিকোর আগ্রাসী অর্থনৈতিক নীতি কাজ করেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। খবর: কিয়োদো নিউজ।

৩১ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির ব্যালান্স শিট অনুযায়ী, কভিড-১৯ মহামারীতে সংস্থাগুলোয় তহবিল সহায়তা বৃদ্ধির জন্য এবং স্বল্প সুদহার নীতিতে সরকারি বন্ড ক্রয়ের ফলে এ পরিমাণ সম্পদ বৃদ্ধি পায়। হারুহিকো কুরুদার দায়িত্ব গ্রহণের আগে মার্চ ২০১৩ পর্যন্ত ব্যাংক অব জাপানের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৬৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন।

গত বছর ব্যাংকটির মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬০৪ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন, যা জাপানের ২০২০ অর্থবছরের মোট জিডিপি ৫৩৫ দশমিক ৭২ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি। এসব সত্ত্বেও এখনো ব্যাংক অব জাপানের ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। তবে এপ্রিল ২০২৩-এ হারুহিকো কুরুদার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ব্যাপারটা এখনো অনিশ্চিত বলে ধারণা করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংক অব জাপানের জিডিপির তুলনায় মোট সম্পদের অনুপাত অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়েও বেশি। এমনকি ব্যাংকিং খাতে তহবিল জোগানের জন্য মার্কিন ফেডেরাল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃক সম্পদ ক্রয়ের পরও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক্ষেত্রে এগিয়ে আছে।

ব্যাংক অব জাপানের সম্পদের মধ্যে জাপান সরকারের বন্ডের মোট পরিমাণ ৫৩২ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন, যা এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২ দশমিক ৩ গুণ, যার পরিমাণ ১২৫ দশমিক ৮৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন।

বুধবার ব্যাংক অব জাপানের বোর্ড সদস্য হিতোশি সুজুকি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ ট্রেডিং ফান্ড ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে এটা অবশ্যই একটি সীমার মধ্যে থেকে করতে হবে। হোল্ডিংগুলোর বৃদ্ধির গতি ব্যালান্স শিটের প্রভাব রাখতে পারে বলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিবেচনার পরিচয় দিতে হবে।

নীতিমালা পর্যবেক্ষণের সময় ব্যাংক অব জাপানের বোর্ড সদস্যরা ক্রয় সামঞ্জস্য রেখে আগের তুলনায় ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ড বৃদ্ধি করারও প্রস্তাব রাখেন। তবে তাদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত অর্থনীতিবিদদের ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে।

(এসএএম/২৯ মে ২০২১)


Comment As:

Comment (0)