করপোরেট কর নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তিতে শিল্পোন্নত সাত দেশ
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: করপোরেট কর নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে বিশ্বের শিল্পোন্নত সাত (জি৭) দেশ।
শনিবার স্বাক্ষরিত এ চুক্তির ফলে গুগল, অ্যাপল ও অ্যামাজনের মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো করের আওতায় আসবে। খবর: রয়টার্স।
দেশগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, এ চুক্তির ফলে বিশ্বজুড়ে ১৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে। সেই সঙ্গে যে দেশে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে, সেখানেই যেন এ কর প্রদান করা হয়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।
ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, কয়েক বছরের পর্যালোচনা শেষে শিল্পোন্নত সাত দেশের মন্ত্রীরা যুগান্তকারী এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। এ চুক্তির ফলে বিশ্বে কর প্রদানের যে পদ্ধতি, সেটি পুনর্গঠিত হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির এ বিশ্বের জন্য যথার্থ হবে। করোনা মহামারী শুরুর পর শিল্পোন্নত দেশের প্রতিনিধিরা প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
চূড়ান্ত চুক্তি-সংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেশভেদে সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ করের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন অর্থমন্ত্রীরা। সেই সঙ্গে বিশ্বে জলবায়ুগত পরিবর্তনের পেছনে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব কেমন, সে ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের আরো সহজভাবে তথ্য প্রদান এবং বিনিয়োগের যথার্থ ক্ষেত্র নির্বাচনের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
এর আগে এক সাক্ষাত্কারে ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ব্রুনো কে মাইরে করপোরেট করের চূড়ান্ত হার নির্ধারণে শিল্পোন্নত সাত দেশ ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদনের খুবই কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বলে জানান। সেই সঙ্গে তিনি আয়ারল্যান্ডসহ স্বল্প করের দেশগুলোকে চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলন।
অন্যদিকে জার্মানির অর্থমন্ত্রী ওলফ শুলজ বলেন, ওয়াশিংটন থেকে ১৫ শতাংশ করের যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেটি কভিড-১৯ মহামারী থেকে পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান যাতে করের বাইরে থেকে না যায়, সেজন্য নতুন পদক্ষেপ কিংবা নিয়ম প্রয়োগ করা জরুরি বলেও মনে করে তিনি।
ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ব্রুনো কে মাইরে বলেন, অতীতে ইউরোপের যেসব দেশ আন্তর্জাতিক কর প্রদানে এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের এখন এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে সম্মতি প্রদান করা উচিত। তারা কেন সম্মতি প্রদান করবেন, সেটিও তারা বুঝতে পারছেন বলে আমি মনে করি।
ফ্রান্স ও জার্মানির অর্থমন্ত্রী উভয়ই ন্যূনতম করহারের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। ব্রুনো কে মাইরে বলেন, তার মতে ১৫ শতাংশ কর প্রদান এ পদ্ধতির শুরু হিসেবে ধরা যায়। আর যদি এ হার বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়, তবে এটাকে ১৫ শতাংশের ওপরে নিয়ে যাওয়া উচিত।
অন্যদিকে ওলফ শুলজ ১৫ শতাংশ কর প্রদানের বিষয়কে কার্যকর পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। সেই সঙ্গে কয়েক বছরের ব্যবধানে এ করহার অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন তিনি।
শিল্পোন্নত সাত দেশের মধ্যকার বৈঠকের পাশাপাশি ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ব্রুনো কে মাইরে এবং জার্মানির অর্থমন্ত্রী ওলফ শুলজ ইতালি ও স্পেনকে নিয়ে আন্তর্জাতিক করহার নির্ধারণ এবং এ বিষয়ে একমত পোষণের ব্যাপারে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। যেটিকে তারা একবিংশ শতাব্দীর জন্য প্রয়োজনীয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ওই চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, করোনা মহামারী-পূর্ববর্তী সময় থেকেই করপোরেট কর প্রদানে স্বচ্ছ ও কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ছিল। দিন দিন এর প্রয়োজনীয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে।
অন্য আরেকটি দেশের অর্থমন্ত্রী বলেন, এ চুক্তি একবিংশ শতাব্দীর জন্য নীতি প্রণয়ন শুরু করবে। আর শিল্পোন্নত সাত দেশ যদি এটি সম্পাদন করতে না পারে, তবে চীন এটি ঠিকই সম্পন্ন করবে।
(এসএএম/০৬ জুন ২০২১)



