রেকর্ড বেতন বৃদ্ধি সত্ত্বেও কর্মী সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: করোনাভাইরাসজনিত মহামারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য ব্যবসার যে ক্ষতি করেছে তা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য প্রয়োজনে বেতন বাড়িয়ে হলেও কর্মীদের ফিরিয়ে আনতে চান ব্যবসায়ীরা। টিকাদান চলমান থাকায় ও অনেক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় এ খাতগুলোতে মানুষের চাহিদা বাড়ছে। ফলে কর্মীদের কাজে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন হোটেল-রেস্টুরেন্টের মালিকরা। খবর রয়টার্স

খাতটি কভিড-১৯-এর আঘাতে সবচেয়ে বেশি জর্জরিত ছিল। গত বছরের শুরু থেকে সম্ভবত এ খাতেরই সবচেয়ে বেশি কর্মী কাজ হারিয়েছেন। ফলে এত কম সময়ের ব্যবধানে আবার সেসব কর্মীকে কাজে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে অবকাশ ও আতিথেয়তা খাতের কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক শূন্য ৯ ডলারে, জানুয়ারির তুলনায় যা ৫ শতাংশ বেশি।

এক বছরেরও বেশি সময় বাড়িতে থাকার পর কর্মীদের কাজে ফিরিয়ে আনতে বেতন বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। হোটেল ও রেস্টুরেন্ট-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকাদানের পাশাপাশি যেহেতু অনেক ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে, পর্যটকদের আকাশপথে ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়েছে— এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ঘরে আটকা থাকার পর মানুষের ঘুরে বেড়ানোর পরিমাণ বেড়ে গেছে। হঠাৎ তৈরি হওয়া এ দর্শনার্থী বা ভোক্তার চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো। ফলে অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে এ খাতে কর্মীদের জন্য আয়ের সুযোগ দ্রুত বাড়ছে।

তবে বেতন বাড়িয়েও যথাসময়ে যথাযথ কর্মী পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। কারণ অনেক কর্মীই কাজে যোগ দেয়ার মতো অবস্থায় নেই। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত উদ্বেগ এবং সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের যথাযথভাবে দেখভালের দায়িত্বও তাদের কাজে যোগ দিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ঝাও বলেন, সমস্যা হলো মহামারী এখনো চলছে। শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, ২৫ লাখের মতো মানুষ বলেছেন মহামারীর কারণে কাজ খুঁজতে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন তারা। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ মার্কিনকে টিকার আওতায় আনা গেছে। ড্যানিয়েল ঝাও বলেন, এর অর্থ হলো এখনো অসংখ্য কর্মী টিকা নিতে পারেননি। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তারা এখন চাকরির জন্য উৎসাহী না-ও হতে পারেন।

সব মিলিয়ে হোটেল – রেস্টুরেন্টসহ আতিথেয়তা ও সেবা খাত মহামারীর আগের অবস্থার তুলনায় এখনো গভীর সংকটে রয়েছে। এ খাতে মে মাসে ২ লাখ ৯২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ নিয়োগই হয়েছে রেস্টুরেন্ট ও বারগুলোতে। কিন্তু সার্বিকভাবে মহামারীর আগের সময়ের চেয়ে কর্মসংস্থান এখনো ১৫ শতাংশ কম, যা অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে বেশি।

মে মাসে যে হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে চাকরির বাজার আগের অবস্থায় ফিরতে আরো অন্তত আট মাস সময় লাগবে। আবার এটিও পরিষ্কার না যে, এর পরও চাকরির বাজার আসলেই আগের অবস্থায় ফিরবে কিনা। বিশেষ করে যদি ব্যবসায়ীর ভ্রমণ কমে যায় বা মহামারীর কারণে মানুষের অভ্যাস বদলে যায়, তাহলে বিষয়টি আরো কঠিন হয়ে যাবে।

যারা আগে হোটেল-রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন, তারা গত বছর কাজ হারানোর পর হয়তো অন্য কোনো খাতে নতুনভাবে শুরু করেছেন। এখন আবার তারা আগের কাজে ফিরবেন কিনা সে প্রশ্নও থেকে যায়।

(ডিএফই/০৭ জুন, ২০২১)


Comment As:

Comment (0)