নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাজ্য-অস্ট্রেলিয়া

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: নিজেদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া।

সোমবার অনুষ্ঠিত এক নৈশভোজে জনসন ও মরিসন এ চুক্তির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেন।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এ বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন।

নতুন এ চুক্তির আওতায় গাড়ি, স্কচ হুইস্কি, বিস্কুট ও সিরামিক-জাতীয় ব্রিটিশ পণ্য এখন থেকে স্বল্পমূল্যে অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যাবে। খবর: বিবিসি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার পর যুক্তরাজ্যে জন্য এটিই প্রথম বাণিজ্য চুক্তি। ফলে এ চুক্তিকে যুক্তরাজ্যের জন্য এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে অগ্রগামী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে বরিস জনসন বলেন, আজকের দিনটি অস্ট্রেলিয়ার ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্কের ইতিহাসে একটি নতুন ভোরের সূচনা করল। এর মাধ্যমে দেশ দুটির মধ্যকার ইতিহাস ও প্রচলিত মূল্যবোধ বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের মধ্যকার এ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ব্রিটিশ নাগরিকদের ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি যেসব তরুণ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ ও বসবাসের সুযোগ প্রত্যাশী, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় সুযোগ হয়ে উঠবে।

বরিস জনসন আরো জানান, বৈশ্বিকভাবে ব্রিটেন তার সেরা সময়ে অবস্থান করছে। বাইরের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এটি আমাদের মিত্রদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরো মজবুত করছে। মহামারী-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের চুক্তি আমাদের আরো ভালো অবস্থানে যেতে সহযোগিতা করবে।

কয়েক বছর ধরে যুক্তরাজ্য বেশ কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে এগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধীনে থাকা অবস্থায় সম্পাদিত হওয়ার কারণে তা ব্রিটেনের জন্য স্বতন্ত্র কোনো সুবিধা তৈরি করেনি। নতুন এ চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার খাদ্য উৎপাদনকারী এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উভয় দেশের বাজারে খুব সহজেই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে।

যুক্তরাজ্য সরকার জনায়, কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপের (সিপিটিপিপি) সদস্যপদের মাধ্যমে ব্রিটিশ কৃষকরা বহু সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এত কিছুর পরও ব্রিটিশ কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হলো, যুক্তরাজ্য এ চুক্তির আওতায় তাদের খাদ্যপণ্যের মানে কিছু ছাড় দিতে পারে। ব্রিটিশ পরিবেশমন্ত্রী জর্জ অস্টিন ও বাণিজ্যমন্ত্রী লিজ ট্রুসের মধ্যেও এ উদ্বেগ লক্ষ করা গেছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় কৃষক ইউনিয়নের মতে, অস্ট্রেলিয়ান কৃষকরা স্বল্পমূল্যে গরুর মাংস উৎপাদন করতে সক্ষম। ফলে ব্রিটিশ কৃষকদের বাজারে টিকে থাকা কিছুটা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

স্কটল্যান্ডও এ চুক্তির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, স্বল্পমূল্যে পণ্য সহজলভ্য করার ফলে বাজারে নিম্নমানের পণ্য বেশি প্রবেশ করতে পারে। তবে ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগ জানায়, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি ব্রিটিশ কৃষি খাতের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করবে না এবং খাদ্যের মানের সঙ্গেও কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

(এসএএম/১৬ জুন ২০২১)


Comment As:

Comment (0)