কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ৫ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ আইএমএফ’র

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চলছে কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ৫ হাজার কোটি ডলারের তহবিল প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

 

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এ অর্থ কয়েক লাখ কোটি ডলারের সহায়তা করবে বলৌ জানিয়েছে বৈশ্বিক ঋণদানকারী সংস্থাটি।

 

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেন, এ পদক্ষেপ হবে আমাদের জীবনের সেরা পাবলিক বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক গেম-চেঞ্জার। ক্রমবর্ধমান মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধে এ তহবিল গঠনে শিল্পোন্নত ২০ দেশকে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

চলতি সপ্তাহে ইতালির ভেনিসে জি২০ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকের আগে জর্জিভা টিকা তহবিলে এ সহায়তার আহ্বান জানালেন।

 

এক বিবৃতিতে আইএমএফ প্রধান বলেন, টিকাপ্রাপ্তিতে বৈষম্য অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। টিকার প্রাপ্যতা, সংক্রমণের হার ও নীতিসহায়তা দেয়ার ক্ষমতায় পার্থক্যের কারণে বিশ্ব দুই ধরনের পুনরুদ্ধারের মুখোমুখি হচ্ছে। এটি এমন একটি জটিল মুহূর্ত, যা বিশ্বজুড়ে জি২০ ও নীতিনির্ধারকদের জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

 

এ তহবিলের মাধ্যমে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকার ব্যবস্থা করা হবে। এ পদক্ষেপ আগামী ছয় মাসে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

আইএমএফ মনে করছে, মহামারী থেকে কাটিয়ে উঠতে ৫ হাজার কোটি ডলার অর্থ প্রয়োজন। এ তহবিল গঠনে বড় অর্থনীতির দেশগুলো থেকে ৭০ শতাংশ সহায়তা দরকার হবে। সম্ভাব্য ব্যয়ের এ পরিকল্পনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে। আইএমএফ জানিয়েছে, ২০২১ সালের শেষ নাগাদ প্রতিটি দেশের অন্তত ৪০ শতাংশ জনগণ এবং ২০২২ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনতে বহুপক্ষীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

 

আইএমএফ জানিয়েছে, টিকাদান কার্যক্রমের বাইরে টিকে থাকার জন্য দুর্বল অর্থনীতিগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক তরলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আরো বিপজ্জনক অসমতা এড়াতে এ অর্থনীতিগুলোকে সহায়তায় দ্বিপক্ষীয় দাতা, ঋণদাতা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর অনুদান দরকার হবে। পাশাপাশি ঋণ মওকুফ ও ঋণ পরিশোধে দেশগুলোকে আরো সময় দেয়া দরকার।

 

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ সুদহারে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনায় বৈশ্বিক আর্থিক অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে। জর্জিভা বলেন, এমনটা হলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, বিশেষত যে দেশগুলোতে বড় ধরনের বৈদেশিক অর্থায়ন কিংবা ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন।

 

জি২০ দেশগুলোর ঋণ পরিশোধ কার্যক্রম স্থগিতকরণ এবং এর সম্প্রসারণে ৪০টিরও বেশি দেশ উপকৃত হয়েছে। এ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় জি২০ সভায় নতুন স্থিতিস্থাপকতা ও টেকসই ট্রাস্টের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এটি স্বল্প আয়ের দেশগুলোর পাশাপাশি দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে মহামারী বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণে সহায়তা করবে।

 

আইএমএফ প্রধান বলেন, আমরা আমাদের জরুরি অর্থায়ন তহবিলের সন্ধান করছি। এ তহবিলের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে টিকাদান কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

 

(এসএএম/১০ জুলাই ২০২১)


Comment As:

Comment (0)