ন্যূনতম করপোরেট করহার নিয়ে ঐকমত্যে জি২০

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক:  বিশ্বজুড়ে কোভিডের সংক্রমন পরিস্থিতিতে ভঙ্গুর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে সতর্ক করেছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি২০।  একইসঙ্গে ন্যূনতম করপোরেট করহার নিয়ে ঐকমত্যে পৌছেছে দেশগুলো।

 

মহামারী শুরুর পর সম্প্রতি প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে মিলিত হন দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রধানরা। ইতালির ভেনিস শহরে অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনে শিল্পোন্নত দেশগুলো ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক ন্যূনতম করপোরেট করহার নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এটি আগামী অক্টোবরে রোমে অনুষ্ঠেয় জি২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে করহার চূড়ান্তের পথ প্রশস্ত করেছে।

 

দেশগুলোর এ উদ্যোগ কোভিড-১৯ সংকটে পাবলিক কোষাগারে কয়েকশ কোটি ডলারের জোগান দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বলা হয়েছে, কভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম এবং অর্থনৈতিক সহায়তার প্যাকেজগুলোর কারণে এপ্রিলে অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনের পর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে উন্নতি হয়েছে। তবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ডেল্টার মতো ধরনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার বিষয়টিও স্বীকার করা হয়েছে।

 

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে দেশভেদে ব্যাপক অসমতা তৈরি হয়েছে। বিশেষত কোভিডের নতুন ধরন ছড়িয়ে যাওয়া এবং টিকাদান কার্যক্রমে অসমতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলনে জি২০ভুক্ত দেশগুলো মহামারী মোকাবেলায় সব ধরনের নীতিমালা ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আয়োজক দেশ ইতালি বলেছে, জনগণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ এড়াতেও চুক্তি হয়েছে।

ইতালির অর্থমন্ত্রী ড্যানিয়েল ফ্র্যাঙ্কো বলেছেন, আমরা সবাই একমত যে, আমাদের নাগরিকদের চলাচল ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর আবার কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা এড়ানো উচিত।

 

তবে জোটটি কভিড টিকার ন্যায্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে পারেনি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার টিকা তহবিল গঠনের সুপারিশকে স্বীকৃতি দিয়ে দেশগুলো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ঘোষণা করেনি। আন্তর্জাতিক ঋণদান সংস্থাগুলো মহামারী মোকাবেলায় ৫ হাজার কোটি ডলারের টিকা তহবিল গঠনের সুপারিশ করেছিল।

 

টিকাদান কার্যক্রমে বিশ্বজুড়ে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোতে তীব্র অসমতা তৈরি হয়েছে। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহ্যানম গেব্রেইসাস এ অসমতাকে ‘নৈতিক আক্রোশ’ বলে অভিহিত করেছে। এটি ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিস্তৃত প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ধনী দেশ তাদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিককে টিকার আওতায় নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টিকাদান হার এখনো ৫ শতাংশের নিচে রয়ে গেছে।

 

অলাভজনক জনস্বাস্থ্য গোষ্ঠী ওয়ান ক্যাম্পেইনের ব্র্যানডন লক এটিকে জি২০ভুক্ত দেশগুলোর নিষ্ক্রিয়তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি সবার জন্যই ব্যর্থ হওয়ার মতো পরিস্থিতি। এক্ষেত্রে কেবল দরিদ্র দেশগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এ দেশগুলোতে বিস্তৃত সংক্রমণ কভিডের আরো নতুন ধরন সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে, যা ধনী দেশগুলোর জন্যও সর্বনাশ ডেকে আনবে।

 

ইতালি বলেছে, রোম সম্মেলনের আগে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য প্রস্তাবিত টিকা তহবিল ইস্যুতে জি২০ আলোচনা করবে। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি দেশটি।

 

সম্মেলনটিতে মূল বিষয়বস্তু ছিল, বিশ্বব্যাপী করপোরেট করহার নিয়ে একটি চুক্তি, যা আট বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর ওপর ন্যূনতম ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা যাবে। ফলে গুগল ও অ্যামাজনের মতো বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে প্রতিটি দেশে মুনাফা অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হবে।

 

মার্কিন অর্থমন্ত্রী জেনেট ইয়েলেন বলেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্রতিটি দেশকে এ চুক্তিতে স্বাক্ষরের জন্য উৎসাহিত করা হবে। আমরা এটি করার চেষ্টা করব। এক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের অংশগ্রহণ করা উচিত। এ চুক্তিতে ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে সংস্থাগুলো উচ্চ করহার থাকা দেশগুলো থেকে নিম্ন করহারের দেশে মুনাফা সরিয়ে নেয়।

 

(এসএএম/১২ জুলাই ২০২১)


Comment As:

Comment (0)