কার্বন নিরপেক্ষ জাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে মায়েরস্ক

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে জোর প্রচেষ্টা চলছে। ২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হয়ে ওঠার ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ উদ্যোগে শামিল হয়েছে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান এপি মুলার-মায়েরস্ক এ/এস। মায়েরস্ক নামে অধিক পরিচিত ড্যানিশ সংস্থাটি এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আটটি কার্বন-নিরপেক্ষ জাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরীয় যানবাহন নির্মাতা সংস্থা হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে এ জাহাজ তৈরির ক্রয়াদেশ দিয়েছে মায়েরস্ক। কার্বন নিরপেক্ষ মিথানল দিয়ে জাহাজগুলো চলতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে সংস্থাটির কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ ত্বরান্বিত হবে এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনে আগ্রহী গ্রাহকদের চাহিদা বাড়বে।

ডেনমার্কের শিপিং সংস্থাটি কার্বন নিরপেক্ষ জ্বালানি ব্যবহার করতে পারে শুধু এমন নতুন জাহাজেরই ক্রয়াদেশ দিয়েছে। কারণ ২০৫০ সাল নাগাদ সংস্থাটি কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। জাহাজের সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ বছরের জীবনকাল থাকে। এ জাহাজগুলো ২০৩০ সালের মধ্যেই কার্বন নিরপেক্ষ বহর সৃষ্টিতে সংস্থাটিকে এগিয়ে নেবে।

ক্রয়াদেশ দেয়া নতুন একেকটি জাহাজ ১৬ হাজার কনটেইনার বহন করতে সক্ষম। ২০২৪ সালের মধ্যে জাহাজগুলো সরবরাহ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মায়েরস্ক জানিয়েছে, তাদের অ্যামাজন, ডিজনি ও মাইক্রোসফটের মতো ২০০ বৃহত্তম গ্রাহকের মধ্যে অর্ধেকের বেশি সংস্থার সরবরাহ চেইনে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে কিংবা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মায়েরস্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সরেন স্কু বলেন, এ ক্রয়াদেশ প্রমাণ করে, কনটেইনার পরিবহনেও আজ কার্বন নিরপেক্ষ সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। মায়েরস্ক গ্রাহকদের কাছে ক্রমেই এমন জাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে যেসব গ্রাহক তাদের সরবরাহ চেইনকে কার্বন নিরপেক্ষ করে তুলতে চান।

বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই পরিবহন হয় সমুদ্রপথে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৩ শতাংশের জন্য দায়ী পণ্য পরিবহন জাহাজগুলো।

নতুন জাহাজগুলোতে এমন ইঞ্জিন লাগানো হবে, যা সবুজ জ্বালানি মিথানল ও প্রচলিত জ্বালানি উভয়ই ব্যবহার করা যাবে। নবায়নযোগ্য উৎস যেমন জৈববস্তু ও সৌরশক্তির মাধ্যমে মিথানল তৈরি করা হয়। অন্যদিকে বাজারে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত কার্বন নিরপেক্ষ জ্বালানি না থাকায় প্রচলিত জ্বালানি দিয়েও জাহাজগুলো চালানো যাবে।

(ডিএফই/২৫ আগস্ট, ২০২১)


Comment As:

Comment (0)