আইএমএফ

আন্তঃদেশীয় অর্থ লেনদেনে শক্তিশালী কাঠামো তৈরির আহ্বান আইএমএফের

বিনিয়োগবার্তা ডেস্কঃ বিশ্বের এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ লেনদেনের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা। খবর: দ্য ন্যাশনাল।

চলতি সপ্তাহে ব্যাংক অব ইতালি আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়ে আইএমএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এ মুহূর্তে আন্তঃদেশীয় অর্থ লেনদেনের গতি অনেক ধীর। এ পদ্ধতি অনেক ব্যয়বহুল, অস্বচ্ছ ও কিছু মানুষের জন্য দুর্গম। বিশেষ করে দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, যাদের কাছে এ অর্থ পৌঁছানো দরকার। আমাদের অবশ্যই এক্ষেত্রে যত বাধা আছে, সেগুলোর সমাধান করতে হবে। এমন একটি পদ্ধতিতে আসতে হবে যেটা সব দেশের জন্য সুবিধাজনক হয়। সাময়িক সমাধান দেয়া হলে তা ভোক্তাদের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না।

বৈশ্বিক আন্তঃদেশীয় অর্থ লেনদেনের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখন এর বার্ষিক হার ৫ শতাংশের মতো। আগামী বছর নাগাদ এ পরিমাণ ১৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং জানিয়েছে, মহামারীর কারণে আন্তঃদেশীয় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।

ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেন, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড দেখিয়েছে যে কীভাবে আন্তঃদেশীয় লেনদেন ব্যবস্থাকে সহজ করা যায়। এ দুই দেশের মধ্যে অর্থ লেনদেন ব্যবস্থার চুক্তি রয়েছে। এর মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে কর্মরত কোনো ব্যক্তি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে থাইল্যান্ডে নিজের পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে পারে। আর মাত্র দুইদিনের মধ্যে তার পরিবারের কাছে অর্থ পৌঁছে যায়। তিনি আরো বলেন, এখন নতুন নতুন প্রযুক্তির আবিষ্কার হচ্ছে। এর মাধ্যমে অর্থ পাঠানো ও লেনদেন আরো সহজ করা সম্ভব।

এক দেশ থেকে আরেক দেশে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে আইএমএফ হস্তান্তরকরণের ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেত পারে বলেও জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো তাদের মধ্যে আন্তঃদেশীয় লেনদেনের জন্য মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

ইতালির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ইগানজিও ভিসকো বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ লেনদেনের চেয়ে আন্তঃদেশীয় লেনদেনে অনেক বেশি ধীরগতির, ব্যয়বহুল, অস্বচ্ছ ও প্রান্তিক মানুষের কাছে সহজলভ্য নয়। আরো বেশি দেশ এটির জন্য এগিয়ে এলে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

পাশাপাশি এসব লেনদেনের ক্ষেত্রে ভোক্তা ও ব্যবসাগুলোর গোপনীয়তা শতভাগ নিশ্চিতেও জোর দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, যেহেতু ডিজিটাল পদ্ধতিতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাবে, তাই প্রচুর ডাটা বা তথ্য তৈরি হবে। ফলে সেটির যথাযথ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সেজন্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক হতে হবে। নিজেদের মধ্যে আস্থা স্থাপন করতে হবে।

প্রতারণা ও জালিয়াতিকে এড়িয়ে ত্রুটিমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। এক্ষেত্রে পুরো পদ্ধতিটি যেন স্বচ্ছ, কাঠামোবদ্ধ ও যথাযথ আইন মেনে করা হয় সেটি লক্ষ রাখতে নীতিনির্ধারকদের আহ্বান জানান তিনি।

এ মুহূর্তে আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তঃদেশীয় লেনদেনের বিষয়টি নেতৃত্ব দিচ্ছে। একটি পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই বছরে দেশটির ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করে, ২০৩০ সাল নাগাদ তাদের দেশে নগদ অর্থের বিনিময় একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।

বিনিয়োগবার্তা//এসএএম//

 


Comment As:

Comment (0)