ন্যূনতম কর্পোরেট কর

ন্যূনতম করপোরেট কর নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছে ১৩৬ দেশ

ন্যূনতম ১৫ শতাংশ করপোরেট করহার নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছে বিশ্বের ১৩৬টি দেশ। ফলে সরাসরি উপস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে মুনাফা করা সংস্থাগুলোকে কর দিতে হবে।খবর: এপি।

খবরে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে এমন বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে যেখানে করপোরেট করের হার অনেক কম। এ সুযোগ কাজে লাগায় অনেক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। সংস্থাগুলো বিভিন্ন দেশের মুনাফার অর্থ সরিয়ে নেয় করহার কম থাকা দেশগুলোয়। বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় বাকি দেশগুলো। এবার এ করস্বর্গের দিন ফুরাতে চলেছে।  

এপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বায়ন ও ডিজিটালাইজেশন বিশ্ব অর্থনীতিকে যেভাবে বদলে দিয়েছে, তা সমাধানের একটি প্রচেষ্টা এ চুক্তি। এর মাধ্যমে বড় বড় কোম্পানি যে দেশে ব্যবসা করছে, সেই দেশেই কর দিতে বাধ্য হবে। কভিড-১৯ মহামারীর বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এ চুক্তি দেশগুলোর রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব অর্থনীতির ৯০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী ১৩৬টি দেশের মধ্যকার এ চুক্তির ঘোষণা দেয় প্যারিসভিত্তিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৫ শতাংশ ন্যূনতম কর সরকারকে বার্ষিক প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলার রাজস্বের জোগান দেবে। তবে ন্যূনতম করহার ১৫ শতাংশ হলেও শিল্পোন্নত দেশগুলোয় এ করের হার প্রায় ২৩ দশমিক ৫ শতাংশের কাছাকাছি।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন এক বিবৃতিতে বলেন, আজকের চুক্তি অর্থনৈতিক কূটনীতির জন্য এক প্রজন্মের সাফল্যের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি করহার কমানোর প্রতিযোগিতা বন্ধ করবে। করপোরেট করহার কমানোর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র এখন কর্মীদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনের ক্ষমতা নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে বেশ কয়েকটি বাধার সম্মুখীন হয়। বাইডেনের প্রস্তাবিত কর আইন নিয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু বিশ্বের বৃহত্তম এ অর্থনীতি অনেক বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানির বাসস্থান। কংগ্রেসে আইনটি প্রত্যাখ্যান হলে পুরো বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

তবে গুগল ও অ্যামাজনের মতো বড় কোম্পানিগুলো ওইসিডির আলোচনা সমর্থন করেছে। কারণ এরই মধ্যে অনেক দেশেই সংস্থাগুলো ডিজিটাল করের মুখোমুখি হয়েছে। ন্যূনতম করপোরেট করহারের বিনিময়ে সংস্থাগুলো ওই কর থেকে মুক্তি পাবে। এর মানে হলো, কোম্পানিগুলোকে কেবল একটি আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থার মোকাবেলা করতে হবে। আগে যেমন দেশভেদে বিভিন্ন ধরন বা হারে কর দিতে হতো সে ব্যবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে সংস্থাগুলোর।

ফরাসি অর্থমন্ত্রী ব্রুনো লে মাইরে বলেন, এ চুক্তি একবিংশ শতাব্দীর জন্য সত্যিকারের কর বিপ্লবের পথ খুলে দিয়েছে। অবশেষে ডিজিটাল জায়ান্টরা যে দেশ থেকে আয় করবে, সেখানে ন্যায়সংগত অংশ পরিশোধ করবে।

আয়ারল্যান্ডের মতো দেশও এ চুক্তিতে যোগ দিয়েছে। দেশটিতে করের হার কম হওয়ায় গুগুল ও ফেসবুকের মতো কোম্পানিগুলো তাদের ইউরোপীয় কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করেছে। এদিকে এ চুক্তি নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোও আপত্তি তুলেছে। নাইজেরিয়া, কেনিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা এ চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

দারিদ্র্যবিরোধী ও কর ন্যায্যতার সমর্থকরা বলছেন, নতুন কর রাজস্বের সিংহভাগ ধনী দেশগুলোয় যাবে এবং করপোরেট করের ওপর অধিক নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশগুলো স্বল্প পরিমাণ পাবে। উন্নয়নশীল দেশের জি২৪ গ্রুপ বলেছে, মুনাফা থেকে রাজস্বের একটি বড় অংশ ছাড়া চুক্তিটি ‘নিম্নমানের হবে এবং এটি স্বল্পমেয়াদেও টেকসই হবে না।

আগামী সপ্তাহে শিল্পোন্নত জোট জি২০ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা চুক্তিটি গ্রহণ করবেন এবং চলতি মাসের শেষ দিকে রোমে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে জি২০ নেতারা এ চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন। সরাসরি উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে মুনাফা করা সংস্থাগুলোকে কর ব্যবস্থার মধ্যে আনতে দেশগুলো একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)