poribohon

মার্কিন করপোরেট আয়ে উল্লম্ফন; ব্যয় বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা 

কভিডের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরের শুরু থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে মার্কিন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। বছরের প্রথমার্ধে দেখা পায় রেকর্ড পরিমাণ আয়ের। তৃতীয় প্রান্তিকেও (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শক্তিশালী আয়ের পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে। তবে চলমান সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত ও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগে বিনিয়োগকারীরা।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে শেষ হওয়া প্রান্তিকে আবারো শক্তিশালী মুনাফার দেখা পেতে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে কভিডের সংক্রমণ অব্যাহত, সরবরাহ চেইন ব্যাহত ও মূল্যস্ফীতির চাপের মতো বিষয়গুলো এখন ওয়াল স্ট্রিটের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে।

উপার্জন মৌসুমের ঠিক আগে বেশ কয়েকটি সংস্থা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। পণ্য পরিবহন পরিষেবা সরবরাহ করা ফেডএক্স করপোরেশন জানিয়েছে, শ্রমিক সংকট মজুরি ব্যয় ও ওভারটাইম ব্যয় বাড়িয়েছে। এদিকে ২০২২ সালের বিক্রির পূর্বাভাস কমিয়েছে স্পোর্টস ব্র্যান্ড নাইকি। সংস্থাটি ছুটির মৌসুম নিয়েও সতর্ক করেছে। এক্ষেত্রে সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করেছে সংস্থাটি।

আর্থিক পরিষেবা দেয়া ইউএস ব্যাংক ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের স্ট্র্যাটেজিস্ট টেরি স্যান্ডভেন বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর বৃদ্ধির গতি কমে যাচ্ছে। যদিও সেটি এখনো একটি অর্থপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। পণ্য ও কর্মী ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ প্রভাব ফেলছে। এখন আমরা দেখতে চাই যে কতটা চাহিদা রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ছুটির মৌসুমে এটি কতটা প্রভাব ফেলে।

আর্থিক বাজারের তথ্য সরবরাহকারী রিফিনিটিভের আইবিইএস ডাটা অনুসারে, তৃতীয় প্রান্তিকে বাজার মূলধনে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কোম্পানির আয় বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ। এ বৃদ্ধির হার দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৯৬ দশমিক ৩ থেকে কম। আবার তৃতীয় প্রান্তিকের এ আয়ের পূর্বাভাসটি কয়েক সপ্তাহ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম।

সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পর ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের ওপর চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতি জ্বালানি উৎপাদকদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিলেও বিস্তৃতভাবে এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি এয়ারলাইনস ও শিল্প-কারখানার মতো অনেক কোম্পানির জন্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করেছে। পাশাপাশি এ ব্যয় নিয়ে চাপে থাকায় অন্যান্য পরিষেবায় ভোক্তাদের ব্যয় কমেছে।


এখন পর্যন্ত মার্কিন কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য রেকর্ড স্তরে মুনাফা মার্জিন রেখেছে। সংস্থাগুলো একদিকে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করেছে এবং অন্যদিকে গ্রাহকদের ওপর উচ্চমূল্যের বোঝা চাপিয়েছে। তবে সংস্থাগুলোর পক্ষে এমন ভারসাম্য বজায় রাখা কতদিন সম্ভব হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা।

সেপ্টেম্বরে বাজারে দুর্বল ও অস্থিতিশীল পরিবেশের পরও তৃতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফার পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে। গত মাসে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে বড় পতন দেখা দেয়। মহামারী শুরুর পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় মাসিক পতনের রেকর্ড। এটি গত জানুয়ারির পর সূচকের প্রথম মাসিক পতনও ছিল। যদিও এ পতনের মূল্য নিয়ে বিশ্লেষকরা সন্দিহান।

বোফা সিকিউরিটিজের ইউএস ইকুইটি অ্যান্ড কোয়ান্টিটিভ স্ট্র্যাটেজির প্রধান সবিতা সুব্রামানিয়ান বলেন, কভিডজনিত সরবরাহ চেইনের সমস্যাগুলো ভোগ্যপণ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সহজেই ধারণা পাওয়া যায়।

মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা একটি নোটে লিখেছেন, সরবরাহ চেইনের সীমাবদ্ধতাগুলো প্রতিষ্ঠানগুলোর উপার্জনের প্রত্যাশা পুরোপুরি ম্লান করে দিতে পারেনি। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় একই হারে পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকের আয় নির্ধারণ করতে পারে—শেয়ারবাজার কতটা নিচে নেমে গেছে।

তারা জানান, সব ধরনের ভোক্তা সম্পর্কিত সংস্থাগুলো সরবরাহ ঘাটতি, উচ্চ পরিবহন ও শ্রম ব্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। এজন্য ইকুইটি মার্কেটে আরো বড় পতন দেখা যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

বিনিয়োগবার্তা/এসআর / 


Comment As:

Comment (0)