undefined

টানা ছয় মাস যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক উৎপাদন নিম্নমুখী 

টানা ছয় মাস যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক উৎপাদন কমছে। দেশটির বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা একটি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। মূলত সরবরাহ চেইনে সৃষ্ট সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মী সংকটের কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

আর্থিক বিষয়সংক্রান্ত জরিপ প্রতিষ্ঠান বিডিও জানিয়েছে, চলতি বছর মার্চে সর্বশেষ জাতীয় লকডাউনের পর থেকে ব্যবসায়িক উৎপাদনে এ নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। পরিমাপের একক সেপ্টেম্বরে ছিল ১০৫ দশমিক ২৩ পয়েন্ট, যা অক্টোবরে নেমে হয়েছে ১০৩ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।

যদিও লকডাউন শেষ হওয়ার পর মহামারীর কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সব ধরনের চেষ্টা শুরু করে ব্যবসাগুলো। আবার বাজারে চাহিদাও বাড়ছিল। কিন্তু সরবরাহ চেইনে সংকটের কারণে আশানুরূপ সাফল্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাজারের চাহিদা বাড়ার পূর্ণ সুযোগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহণ করতে পারেনি। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানির দাম। তার কারণে উৎপাদন খরচও বেড়েছে, যা মোট ব্যবসায়িক উৎপাদনের গতিকে শ্লথ করে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কভিড-১৯ জনিত মহামারীর কারণে একটা দীর্ঘ সময় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সরবরাহে বা বিতরণেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এরপর যখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করল, তখন শিল্পোৎপাদন খাতটি সঠিক পণ্য বেছে নেয়ার সংকটে পড়ল। যেমন যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের সব দেশের গাড়ি নির্মাণ শিল্প এখন চিপ সংকটে পড়েছে। এ সমস্যা একাধারে সবাইকে প্রভাবিত করেছে।

বিডিওর উৎপাদন সূচক ৯৭ থেকে কমে ৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। যা উৎপাদন কমে যাওয়ার দিক নির্দেশক। কর্মী সংকটের কারণ শিল্পোৎপাদনে শ্লথগতি বিরাজ করছে, যা সার্বিকভাবে গোটা দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে।

বিডিওর অংশীদার কেলি ক্রসওয়েট বলেন, দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশ কঠিন সময় পার করছে। একে তো মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, অন্যদিকে রয়েছে কর্মী সংকট। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে ২০২২ সাল ব্যবসাগুলোর জন্য একটি কঠিন বছর হতে পারে। বিশেষ করে তাদের জন্য, যারা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার চাইতে স্বল্পমেয়াদি সমস্যার সমাধানে বেশি জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন বছরে ভোক্তারা এসব সংকটের ফলাফল দেখতে শুরু করবেন। বিশেষ করে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়বে। এ কারণে ভোক্তারা হয়তো খরচের ক্ষেত্রে কাটছাঁট শুরু করবেন।

এ বছরের শেষ দিকে বড়দিনসহ অন্যান্য ছুটির হাওয়া বাজারে কিছুটা পরিবর্তন আনবে বা বাজার চাঙ্গা হবে বলে প্রত্যাশা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের। এ ধারাবাহিকতা নতুন বছরেও থাকবে বলে এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

কেবল সরবরাহ সংকটই নয়। যুক্তরাজ্যে বাড়ছে মূল্যস্ফীতিও, যা এ মুহূর্তে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। বাজার স্থিতিশীল রাখার দিকেই এখন নজর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সচল থাকে সেটিও লক্ষ রাখা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ভোক্তা মূল্যসূচক গত সেপ্টেম্বরে ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা ব্যাংকটির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের চাইতে বেশি। অন্যদিকে ২০১৭ সালের পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে বলে বিডিওর পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

বিডিওসহ ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংক পরামর্শ দিয়েছে যে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন আগামী বছর নিয়ে আশাবাদী থাকে। কারণ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

বিনিয়োগর্বাতা/এসআর/


Comment As:

Comment (0)