লেবানন 

রাজনৈতিক ব্যর্থতায় চরম দারিদ্র্যে ভুগছে লেবানন 

রাজনৈতিক ব্যর্থতায় চরম দারিদ্র্যে পতিত হয়েছে লেবাননের অধিকাংশ জনগণ। এর দরুন সরকারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে অধিকাংশ নাগরিক। সম্প্রতি জাতিসংঘের দারিদ্র্যবিষয়ক প্রতিনিধি ওলিভার ডে শাটার এমন মন্তব্য করেন। খবর এপি।

১২ দিনের লেবানন সফর শেষে এমন সতর্কবার্তা দেন জাতিসংঘের এ প্রতিনিধি। এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে লেবাননের রাজনীতিবিদরাও বুঝতে পারছেন যে তারা বৈদেশিক সাহায্য এবং অনিশ্চিত মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে থাকতে পারবেন না।

লেবাননের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাকে গত ১৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে নাজুক বলে মন্তব্য করেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। কয়েক মাসের ব্যবধানে দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ দারিদ্র্যে নিমজ্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির জাতীয় মুদ্রা ব্যবস্থা অনেক নিচে নেমে গেছে। পাশাপাশি বেড়েছে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের হার।

কঠিন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে লেবাননের অধিকাংশ ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষক এরই মধ্যে দেশ ত্যাগ করেছেন। জ্বালানি সংকটের ফলে স্কুলগুলো পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করতে হিমশিম খাচ্ছে। গরিব পরিবারগুলো তাদের কন্যাশিশুদের বাল্যবিবাহ দেয়াসহ দারিদ্র্য মোকাবেলায় শিশুদের কর্মক্ষেত্রে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে ‘নষ্ট প্রজন্ম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ওলিভার ডে শাটার।

ওলিভার ডে শাটার মনে করেন সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের হাতে সময় নষ্ট করার মতো যথেষ্ট সুযোগ নেই। ডে শাটার মূলত লেবাননে দ্রুত দারিদ্র্য মোকাবেলায় সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য লেবানন সফরে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, লেবাননের জনগণের সঙ্গে কথা বলে যে উত্তর পাওয়া গেছে তা হলো আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো দ্বারা দেশটিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

তবে এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নয়। লেবাননকে বিশ্বের সবচেয়ে ভারমাস্যহীন দেশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দেশটিতে মাত্র ১০ শতাংশ লোক ৭০ শতাংশ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশটিতে সমালোচনামূলক করনীতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন এবং বৃহৎ আকারের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অংশীদারদের খাতটিতে চলমান লোকসানের বড় অংশ বহন করা উচিত। মাসের পর মাস ধরে চলা সংকটের দায়ভার ক্ষুদ্র আমানতদারদের বহন করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন ডে শাটার।

বিনিয়োগর্বাতা/এসআর/ 


Comment As:

Comment (0)