জাপানে রেকর্ড

অর্থনীতির গতি ফেরাতে জাপানে রেকর্ড প্রণোদনার প্রস্তাব

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত মহামারীর কারণে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিই বেশ টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়েছে। প্রায় সব দেশই অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদাও তার দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে বড় একটি প্রণোদনা প্যাকেজের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। এ প্যাকেজের আয়তন ৫৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৪৯ হাজার কোটি ডলার। এর আওতায় রুগ্ণ হয়ে পড়া ব্যবসাগুলোকে নগদ অর্থসহায়তা দেয়া হবে। যেন মহামারীর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ব্যবসায়ীরা আবার মূল ধারার ব্যবসায় ফিরতে পারেন। খবর এপি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্যাকেজের আওতায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সক্ষমতা রাখা হয়েছে যেন তা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে। তার দেয়া এ প্রস্তাবনা এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য যাবে। এরপর সংসদ থেকে অনুমোদনের পর সেটি বাস্তবায়ন করা যাবে। ফুমিও কিশিদা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী মাসেই সংসদের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে, যেখানে এ প্রস্তাব অনুমোদন পাবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সীদের মাথাপিছু দেয়া হবে ১ লাখ ইয়েন বা ৮৮০ ডলার আর্থিক সহায়তা। পাশাপাশি রুগ্ণ হয়ে পড়া ব্যবসাগুলোকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।

দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারীতে কখনই পূর্ণাঙ্গ লকডাউনে ছিল না বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান। পাশাপাশি তাদের সংক্রমণের পরিমাণও ছিল তুলনামূলক কম। দেশটিতে কভিড-১৯ রোগে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার। তবে কেবল মহামারীর কারণেও নয়, এর আঘাতের আগে থেকেই দেশটির অর্থনীতি অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিল।

লকডাউন না দিলেও রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারি করে দেশটির সরকার। সেই সময় নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হয় বা সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান ও থিয়েটারগুলোতে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়। জনগণকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে নির্দেশ দেয়া হয়।


পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো জাপানের গাড়ি উৎপাদন শিল্পও চিপ সংকটের কবলে পড়ে। এ কারণে টয়োটা মোটরস করপোরেশনসহ দেশটির এ শিল্প খাত বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করে সরকার। যেমন রেস্তোরাঁ ও দোকানগুলোর জন্য বিশেষ ধরনের প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। যেমন অভ্যন্তরীণ পর্যটনের জন্য দেশের মানুষকে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। গত বছরই এ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু সংক্রমণের পরিমাণ বাড়তে শুরু করলে তা বন্ধ হয়ে যায়।

তবে সরকারের এ প্রণোদনা বা উদ্দীপনা প্যাকেজ দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির জন্য অকার্যকর প্রমাণ হতে পারে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।


অন্যদিকে এত বড় আয়তনের প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে জাপান ঋণের সাগরের গভীরে ডুবে যাবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

এসএমবিসি নিক্কো সিকিউরিটিজের প্রধান বাজার অর্থনীতিবিদ ইয়োশিমাসা মারুইয়ামা বলেন, সরকারকে ব্যয় বৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। জাপানের অর্থনীতি জুলাই-সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩ শতাংশ হারে সংকুচিত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ ছিল ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয় কমে যাওয়া। তাই ভোক্তারা যেন ব্যয় করেন, সেদিকটি মাথায় রাখতে হবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছে, আগামী বছর পর্যন্ত অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার তেমন কোনো সুযোগ নেই।

এসবের পাশাপাশি টিকার ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গবেষণায় ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে জাপান সরকার। দেশটিতে এখন ফাইজার, মডার্না ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশেই যেন টিকা উৎপাদন করা যায়, সে লক্ষ্যেও কাজ করা হবে। কারণ এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার।

বিনিয়োগর্বাতা/এসআর //


Comment As:

Comment (0)