India Farmer

আন্দোলন শেষে ঘরে ফিরছেন ভারতের কৃষকরা

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলন ও বিক্ষোভ শেষে ঘরে ফিরছেন ভারতের কৃষকরা। বিক্ষোভস্থল ত্যাগের সময় উড়োজাহাজ থেকে তাদের মাথায় ফুলের পাপড়ি ছিটানো হয়। বছরব্যাপী কৃষক আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার প্রস্তাবিত কৃষি সংস্কার আইন বাস্তবায়ন থেকে পিছু হটায় বিজয়ী বেশে ঘরে ফিরছেন কৃষকরা। খবর এপি ও পিটিআই।

নয়াদিল্লির সিঙ্গু, টিকরি ও গাজিপুর সীমান্ত থেকে অবরোধ তুলে দিয়েছেন আন্দোলনরত কৃষকরা এবং তারা বিজয় মিছিল নিয়ে ঘরমুখো হয়েছেন। তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলে কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাক্টর, জিপ ও গাড়িতে করে ফিরতি পথে কৃষকদের সবুজ ও সাদা পতাকা ওড়াতে দেখা গেছে। নগেন্দ্র সিং নামে এক কৃষক বলেন, কৃষকরা গণতন্ত্র রক্ষা করেছেন। এটা ছিল ন্যায়ের জন্য লড়াই।

কুলজিৎ সিং নামে পাঞ্জাবের মোগার এক কৃষক বলেন, এক বছর ধরে সিঙ্গু আমাদের ঘর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ আন্দোলন সব কৃষককে ঐক্যবদ্ধ করেছে। আমরা বর্ণ, গোত্র ও ধর্ম নির্বিশেষে এ কালো আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং আন্দোলনে আমরা যা অর্জন করেছি তাও ঐতিহাসিক।

জয়গ্রান নামে আরেক কৃষক বলেন, দীর্ঘদিন একনায়কসুলভ মনোভাব ধরে রাখার পরই কৃষকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মোদি। আমাদের সন্ত্রাসী বলা হয়েছে। সামনের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আন্দোলনে নতিস্বীকার করেছেন তিনি।

অধিকাংশ শিখ কৃষকের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকে শুরুতে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছিল বিজেপি শিবির। তারা খালিস্তানি, তারা সন্ত্রাসী এমন কথা বলা হচ্ছিল। কিন্তু এসব অভিযোগ কৃষকদের আরো ক্ষেপিয়ে তুলেছে এবং তাদের প্রতি জনসমর্থন বাড়িয়ে দিয়েছে। বছরজুড়ে চলা কৃষক আন্দোলনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনও ছিল লক্ষণীয়। ২০১৪ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর এমন চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েনি বিজেপি সরকার।

নতুন কৃষি আইন কৃষকদের উপকারে আসবে এক বছর ধরে এ যুক্তি দেখিয়ে এলেও গত মাসে তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন মোদি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এ সিদ্ধান্ত পক্ষে-বিপক্ষে থাকা সবাইকে বিস্মিত করেছে। আইনগুলো বাতিলে গত ৩০ নভেম্বর লোকসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিল পাস হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য চাহিদা পূরণ না হওয়ায় কৃষকরা আন্দোলনস্থল ত্যাগ করেননি। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার এবং গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণের মতো দাবি বাস্তবায়নে রাজধানী অভিমুখের সড়ক অবরোধ করে বসে ছিলেন কৃষকরা। গত বৃহস্পতিবার কৃষকদের এ দাবি বাস্তবায়নে সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী বছর উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবে স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে পিছু হটেছে গেরুয়া শিবির। তবে তা নির্বাচনে কেমন প্রভাব রাখবে এখনই বলা যাচ্ছে না।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)