দেশে দেশে বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। স্বশরীরে ও অনলাইনে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেছে বিশ্ববাসী।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবর:
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বাংলাদেশের বিজয়ের সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে লাল-সবুজ বাতিতে আলোকিত হয়ে ওঠে বিশ্ব বিখ্যাত লন্ডন টাওয়ার ব্রিজ। সিটি অব লন্ডন করপোরেশনের একমাত্র বাংলাদেশি সদস্য কাউন্সিলম্যান মনসুর আলী এ সজ্জিতকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
মনসুর আলী বলেন, আমি গর্বিত এবং আনন্দিত যে আমরা ইতিহাস তৈরি করেছি। বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিতে আইকনিক লন্ডন টাওয়ার ব্রিজ লাল-সবুজে রাঙানো আমাদের জন্য সম্মানের। যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির অবস্থান অনেক উঁচুতে এবং এ কমিউনিটির একজন ও কাউন্সিলম্যান হিসেবে আমি গর্বিত।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রুশনারা আলী। এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন সিটি অব লন্ডন করপোরেশনের লর্ড মেয়রের প্রতিনিধি ডেভিড উটন, ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ টিমের ডেপুটি হেড ড্যানিয়েল পাশা, কাউন্সিলম্যান মনসুর আলী ও পপি জামান।
ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবসের সু
বর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করা হয়েছে। ইতালিতে কোভিড-১৯ অতিমারীর সংকটময় পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সশরীরে এবং অনলাইন উভয় মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। ইতালি, সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসান সকালে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এক মিনিট নীরবতা পালন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
দূতাবাসের সম্মেলনকক্ষে বিদেশি অতিথি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সশরীরে এবং ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব আয়োজন করা হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ এবং ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি কি করে আমাদের হলো’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা অংশে বাংলাদেশের দু’জন অনারারি কনসালসহ অন্যান্য বিদেশি অতিথিবৃন্দ বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে অভিনন্দন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন অভিযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু এবং সকল শহিদের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু ও শহিদদের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
পরে সবাই ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর সম্মোহনী নেতৃত্বই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের মূল চালিকা শক্তি। ২০২১ সালের বিশেষ তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ইতিহাসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতা ও মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করছে।
একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্যের জন্য বিশ্ব পরিমণ্ডলে রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের সেবা কার্যক্রমের মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রবাসীদের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের শহিদ সদস্যবৃন্দ ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং দেশের উত্তরোত্তর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশিগণ, গণমাধ্যমকর্মীগণ এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের ৫০তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শপথ অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচারে যোগদানের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সমগ্র জাতির সঙ্গে দূতাবাসের কর্মকর্তারাও শপথ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসের কর্মচারীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এর আগে রাষ্ট্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আবদুল মোমেন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের বাণী দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পাঠ করে শোনান।
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ব্যুরোর প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডিন থম্পসন তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।
রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম তার স্বাগত বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে সমগ্র জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ত্রিশ লাখ শহীদ এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় অসম্মানিত দুই লাখ নারীর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের জন্য গভীর শ্রদ্ধা জানান।
আমরা একটি মুক্ত, উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য একই দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক বলে উল্লেখ করেন তিনি। আমি বিশ্বাস করি আমাদের দেশগুলো বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বের চেতনায় সম্পর্ককে আরও জোরদার ও এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে,” বলেন রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম।
ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডিন থম্পসন বলেছেন, 'আগামী ২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে। যেহেতু আমরা সেই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের অপেক্ষায় আছি, আমি গত ৫০ বছরে ইউএস-বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট ও গর্বিত।' তিনি আরও বলেন, 'দক্ষিণ এশিয়ার একটি আঞ্চলিক নেতা এবং একটি অর্থনৈতিক শক্তি, বাংলাদেশ যেমন একটি চিত্তাকর্ষক যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে, আসুন আমরা আগামী ৫০ বছরে আমাদের অংশীদারিত্ব অবশ্যই অনেক সুযোগ উপলব্ধি করে একসাথে কাজ করি।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের অনুষ্ঠান শেষ হয়। অনুষ্ঠানে দূতাবাসের পরিবারের সদস্যরা, বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এছাড়াও, কানাডার অটোয়ায়, পর্তুগালের লিসবন, ইতালির রোম, নাইজেরিয়ার আবুজা ও মেক্সিকো সিটির বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমূখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবসের ও সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করা হয়।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//



