dll

৩০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ 

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত এক তথ্যে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ৩০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। কভিড-১৯ মহামারীতে সরকারি ঋণের পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী হয়। কভিডজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারে বিপুল পরিমাণ প্রণোদনা বিতরণ করে ওয়াশিংটন। ফলে ঋণের পরিমাণও বাড়তে থাকে দেশটির। ২০১৯ সালের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৭ লাখ কোটি ডলার বেড়েছে। খবর সিএনএন।

কয়েক বছর ধরেই মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার সর্বনিম্ন স্তরে ছিল। তবে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির কারণে সুদের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ফেডারেল রিজার্ভ। এদিকে চড়া সুদহারের ফলে ঋণ পরিশোধের অর্থ জোগানো আরো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে জেপি মরগানের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান আন্তর্জাতিক কৌশলবিদ ডেভিড কেলি বলেন, এটা কোনো স্বল্পমেয়াদি সংকট নয়। তবে এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে আমরা আরো দরিদ্র হতে চলেছি।

চড়া সুদহারের ফলে শুধু সুদ বাবদ ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য। আগামী ১০ বছরে সুদ বাবদ ব্যয়ের পরিমাণ ৫ লাখ কোটি ডলারের কোটা ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে পিটার জি পিটারসন ফাউন্ডেশন। ২০৫১ সালের মধ্যে সুদ ব্যয় ফেডারেল রিজার্ভের আয়ের অর্ধেক পরিমাণ দাঁড়াবে। ডেভিড কেলি বলেছেন, ঊর্ধ্বমুখী সুদের ব্যয় নির্ধারণ করবে মূলত জলবায়ু পরিবর্তনসহ প্রধান বিষয়গুলোয় ওয়াশিংটন কী পরিমাণ ব্যয় করতে সমর্থ হবে তার ওপর।

বর্তমানে চীন ও জাপানসহ বৈদেশিক ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের থেকে প্রায় ৮ লাখ কোটি ডলার ধারে আছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা চড়া সুদসমেত ফেরতযোগ্য। কেলি জানান, এর অর্থ দাঁড়ায়, মার্কিন আয়করদাতারা চীন ও জাপানের অবসরপ্রাপ্তদের ভাতা পরিশোধ করছেন, যারা মূলত আমাদের পাওনাদার।

৩০ লাখ কোটি ডলার ঋণের সম্পূর্ণটাই বিদেশী পাওনাদার নয়। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ঋণও রয়েছে। মোট আন্তঃসরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ কোটি ডলারেরও বেশি। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোয় জাতীয় ঋণের পরিমাণ আকাশচুম্বী ছিল। ২০০৮ সালে আর্থিক সংকট ও এরপর কভিড-১৯ মহামারীকালে জাতীয় ঋণের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।

ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্য বলছে, মহামন্দার প্রারম্ভে ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার। তার ১০ বছর পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলে জাতীয় ঋণ প্রায় ২০ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেনার পরিমাণ আরো বাড়িয়ে তোলে। মহামারীর কারণে ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঋণ গ্রহণের পরিমাণও বাড়তে থাকে।

মার্কিন রাজস্ব অবস্থাকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দেন পিটারসন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পিটার জি পিটারসন। জাতীয় ঋণ বৃদ্ধির জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় রাজনৈতিক দলকেই দায়ী করেন পিটারসন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক জরিপে দেখা গেছে, বিদায়ী বছর ডিসেম্বরে দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক (৬৭ শতাংশ) জাতীয় অর্থনীতির জন্য প্রধান সমস্যা হিসেবে সরকারি ব্যয়কে দায়ী করেছেন।

বিনিয়োগবার্তা/এসএল//


Comment As:

Comment (0)