Zero Carbon

শূন্য কার্বন নিঃসরণে প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: জলবায়ু সুরক্ষায় কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি নিজেদের কার্যক্রম নিট-জিরো করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানগুলোও। তবে নতুন একটি সমীক্ষা বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। কার্বন নিঃসরণ শতভাগ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও সংস্থাগুলো মাত্র ৪০ শতাংশ কমানোর পথে রয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

অ্যামাজন, আইকিয়া, নেসলে ও ইউনিলিভারের মতো বৈশ্বিক জায়ান্টগুলো কার্বন নিঃসরণ ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে সমীক্ষাটি পরিচালনা করা নিউক্লাইমেট ইনস্টিটিউটের থমাস ডে বলেন, সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানোর প্রচেষ্টা সামান্যই পরিলক্ষিত হয়েছে। আমরা খুব হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি যে, এক্ষেত্রে সংস্থাগুলোর উন্নতির জন্য কতটা জায়গা ছিল। এ অবস্থায় কার্বন নিঃসরণ কমাতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো স্বচ্ছ হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা সর্বাধিক উদ্বেগের বিষয় ছিল। জরিপে অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ গড়ে প্রায় ২৩ শতাংশ কমিয়ে আনবে। এ হার পরবর্তী দশকের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের চেয়ে অনেক কম। যদিও বিজ্ঞানীরা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ করার কথা জানিয়েছেন। জলবায়ু সংকটে এ স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখনই ব্যাপকভাবে নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ না নেয়া হলে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের কার্যক্রম থেকে নিঃসরণ কমানোর পরিবর্তে নিট-জিরোর শর্তানুসারে ক্ষতিপূরণের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো বন রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা নতুন গাছ লাগানোর মতো বিতর্কিত অনুশীলনে অর্থ সরবরাহ করছে।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত ২৫ প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই জলবায়ু সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের দাবি করেছে। থমাস ডে বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমি আরো বেশি উদ্যোগ আশা করেছিলাম। বিশেষ করে আইকিয়া, ইউনিলিভার ও নেসলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বেশি উদ্যোগ নিতে পারত।

নিউক্লাইমেট ইনস্টিটিউট ও কার্বন মার্কেট ওয়াচ যৌথভাবে ‘করপোরেট ক্লাইমেট রেসপনসিবিলিটি মনিটর’ শীর্ষক এ সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সমীক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্যমাত্রা, নিট-জিরোর শর্তানুসারে ক্ষতিপূরণের পরিকল্পনা, নিঃসরণ কমানোর অগ্রগতি এবং সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের স্বচ্ছতার মতো বিষয় মানদণ্ড ধরা হয়েছে। ২৫টি প্রতিষ্ঠানের একটিও উচ্চ স্কোর অর্জন করতে পারেনি। কম স্বচ্ছতা দেখানো প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল অ্যামাজন ও আইকিয়া। এছাড়া খুব কম স্বচ্ছতা দেখানোর প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ই.ওন ও নেসলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

থমাস ডে বলেন, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান কার্বন নিঃসরণে ক্ষতিপূরণের দিকে অগ্রসর হয়েছে। যদিও ক্ষতিপূরণ হিসেবে বনাঞ্চল সংরক্ষণ ও গাছ লাগানোর মতো পদক্ষেপগুলো নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে এসব কার্যক্রম নিয়ে কিছু জালিয়াতিও সামনে এসেছে। তাছাড়া এ সময়ে এসে বনায়ন নিঃসরণ কমানোর একটি দুর্বল বিকল্প। কারণ বায়ুমণ্ডলে নির্গত কার্বন এখন বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করতে শুরু করেছে এবং অন্তত এক শতাব্দী ধরে তা অব্যাহত রয়েছে। যেখানে গাছ বড় হতে এবং বায়ু থেকে কার্বন শোষণ করতে কয়েক দশক সময় নেয়।

এ বিষয়ে অ্যামাজনের এক মুখপাত্র বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিট-জিরোতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছিল। তবে আমরা জানি, জলবায়ু পরিবর্তন একটি গুরুতর সমস্যা এবং এখন আগের চেয়ে আরো বেশি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এজন্য আমাদের লক্ষ্য পাঁচ বছর এগিয়ে এনেছি। ২০৩৫ সালের মধ্যে অ্যামাজন তাদের কার্যক্রম শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের পথে রয়েছে।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)