India Japan

ভারতে ৪ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা জাপানের

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: আগামী পাঁচ বছরে ভারতে ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ১৪তম বার্ষিক সম্মেলনে এ ঘোষণা আসে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা-সংক্রান্ত ছয়টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ভারত ও জাপান। খবর এপি ও দ্য হিন্দু।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে এসেছেন ফুমিও কিশিদা। অর্থনীতি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করেন কিশিদা।

নয়াদিল্লিতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি বলেন, ভারত-জাপানের সম্পর্ক সুদৃঢ় হলে তা শুধু দুই দেশের জন্যই নয় বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় সহায়তা করবে।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ভারতে ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে টোকিওর। নগর অবকাঠামো থেকে সবুজ জ্বালানির মতো বিভিন্ন খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন শিল্প খাতের জন্য তা অনেক সুবিধা দেবে বলে জানান কিশিদা।

২০১৪ সালে অন্য এক অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারতে ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল জাপান।

২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার। প্রধানত গাড়ি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, টেলিযোগাযোগ, রাসায়নিক, বীমা ও ওষুধ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে। দ্রুতগতির রেল প্রকল্পের পাশাপাশি ভারতের অবকাঠামো খাতে সহায়তা করে আসছে জাপান।

সরকারি উপাত্তে দেখা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারত ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১ হাজার ১৮৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। জাপানে ভারতের রফতানি হয়েছে ৩৯৪ কোটি ডলার। এছাড়া জাপান থেকে ভারতে পণ্য আমদানি হয়েছে ৭৯৩ কোটি ডলারের পণ্য।

গত সেপ্টেম্বরে চার দেশীয় জোট কোয়াড নেতারা জানান, কভিড-১৯ টিকা ও ওষুধ তৈরিতে ভারতে ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান।

আলোচনায় রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট উঠে এলেও দুপক্ষ সমান গুরুত্ব দেয়নি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদা মস্কোর আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করলেও এ ইস্যুতে নীরব ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। কোয়াডভুক্ত একমাত্র সদস্য হিসেবে রুশ আগ্রাসনের ব্যাপারে নীরব নয়াদিল্লি।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে কিশিদা বলেন, রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন বিশ্ব ব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের এর বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিতে হবে।

জাপান যেখানে রুশ আগ্রাসনের অব্যাহত সমালোচনা করছে এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে সেখানে মস্কোর প্রকাশ্য সমালোচনা থেকে বিরত রয়েছে ভারত। এছাড়া রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারতীয় কোম্পানিগুলো।

সাইবার নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা, নগর উন্নয়ন ও সবুজ জ্বালানি প্রকল্পে ছয়টি অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে ভারত ও জাপান। এর মধ্যে একটি চুক্তিতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাঁশজাত পণ্য তৈরিতে অংশীদারিত্বের কথা বলা হয়েছে।

২০১৮ সালে সর্বশেষ বার্ষিক সম্মেলনের পর এটা ছিল প্রথম জাপান-ভারত সম্মেলন। বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন ও করোনা মহামারীর কারণে কয়েক বছরে দ্বিপক্ষীয় এ সম্মেলন আয়োজন হয়নি। রোববার কম্বোডিয়ার উদ্দেশে ভারত ত্যাগ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)