24100

রফতানিতে রুবলের ব্যবহারে হিতে বিপরীত হবে

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: ফোর্বস তালিকাভুক্ত রুশ ধনকুবের স্টিল ব্যারন ভ্লাদিমির লিসিন বলেছেন, ডলার কিংবা ইউরো থেকে রুবলে আসার সিদ্ধান্ত মস্কোকে ভোগাবে। বৈশ্বিক বাজারে এটি রাশিয়ার অবস্থানকে নাজুক করে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিসিন বলেন, রুশ সরকার বেশকিছু পশ্চিমা কোম্পানির ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সরকারের এটা বোঝা উচিত অনেক রুশ নাগরিকের বিনিয়োগ রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। এমন হুট করে নিষেধাজ্ঞা আরোপে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এর আগে গত মাসের শেষার্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, সরকার ও সেন্ট্রাল ব্যাংক এক সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস বিক্রির প্রক্রিয়া রুবলে করার জন্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সেরে ফেলবে। এরপরই গ্যাস সংস্থা গ্যাজপ্রমকে সেই মতো চুক্তিতে বদল করার কথা বলা হবে।
 
পুতিনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১ এপ্রিল) মধ্যরাতের পর থেকে রুবল ছাড়া গ্যাস মিলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল রাশিয়ার সরকার।

পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্দেশে রাশিয়া বলেছে, অবন্ধুসুলভ দেশগুলোকে অবশ্যই রুবলের মাধ্যমে গ্যাসের অর্থপ্রদান করতে হবে। নতুবা গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
 
তবে রুশ মুদ্রা রুবলে গ্যাসের অর্থ প্রদানের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে পশ্চিমা কোম্পানি এবং সরকার। কারণ বিদ্যমান চুক্তিতে এ অর্থ ইউরো বা মার্কিন ডলারে প্রদানের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এখন রুবলে প্রদানের দাবি করার অর্থ হলো বিদ্যমান চুক্তির লঙ্ঘন করা।
 
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং মোট তেল আমদানির ৩০ শতাংশ রাশিয়া থেকে হয়ে থাকে। রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে ইইউর কাছে এর কোনো সহজ বিকল্প নেই। এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোয় গ্যাস বিক্রি করে রাশিয়া বর্তমানে প্রতিদিন ৪০০ মিলিয়ন ইউরো আয় করে এবং দেশটির কাছে অন্য বাজারে জ্বালানি সরবরাহ করার কোনো উপায় নেই।
 
জার্মানি তাদের চাহিদার প্রায় অর্ধেক গ্যাস এবং এক তৃতীয়াংশ তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করে। ইতোমধ্যে দেশটি তার নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্ভাব্য ঘাটতির আশঙ্কায় গ্যাস ও তেল ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে পুতিনের এ ঘোষণাকে হুমকি হিসেবে অবহিত করেছে জার্মানি ও ফ্রান্স।
 
তবে শুক্রবার (০১ এপ্রিল)  রাজধানী মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এ নিয়ে গতকালই (৩১ মার্চ) অনেক প্রশ্ন পেয়েছি। জানতে চাওয়া হয়েছে, ১ এপ্রিল মধ্যরাতের পর গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে কি না।
 
পেসকভ বলেন, ‘বিষয়টা তেমন না। নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করে এক্ষুনি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হবে না। তবে আমি আবারও জানিয়ে দিচ্ছি, গ্যাস পেতে হলে আমাদের গ্যাজপ্রমের সঙ্গে নতুন করে অ্যাকাউন্ট করতে হবে।’
 
রাশিয়ার এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে লিসিন বলেন, 'আমরা বিগত কয়েক দশক ধরে রফতানি বাজারে জায়গা করে নিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গেছি। তার ফলস্বরূপ বিশ্বের ৭০টি দেশে আমাদের কয়েক হাজার ক্লায়েন্ট সৃষ্টি হয়েছে। হুট করে ডলার ও ইউরো ছেড়ে রুবলে চলে আসলে এদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।'
 
এছাড়া দিন যত গড়াচ্ছে কাঁচামাল ও সরবরাহ চেইনের সংকট ততটাই প্রকট হয়ে উঠছে। এমতবস্থায় রুবল সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী মনে করছেন লিসিন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজার থেকে রাশিয়া ছিটকে পড়বে বলে জানিয়েছেন রুশ এ ধনকুবের।

বিনিয়োগবার্তা/এসএল//


Comment As:

Comment (0)