যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে পাঁচ তারকা হোটেলের ভাড়া
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পর্যটন ব্যবসা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে লোকসান গোনেন হোটেল মালিকরা। তবে সম্প্রতি কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হতে শুরু করায় আবারো মুনাফা করতে শুরু করে হোটেলগুলো। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার গত চার দশকের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। সবে মহামারীর প্রাদুর্ভাব কমায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও শ্লথগতি দেখা গেছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা অচিরেই মন্দার মুখে পড়তে পারে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও থেমে নেই হোটেল শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি। খবর সিএনবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিল্টন হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের আয় ঊর্ধ্বমুখী। এ বিষয়ে হিল্টনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস নাসেটার আশাবাদ, এবারের গ্রীষ্মকালে হোটেল চেইনের ব্যবসা ১০৩ বছরের ইতিহাসের সেরা গ্রীষ্মকালীন ব্যবসা করবে।
মহামারীর কারণে পিছিয়ে পড়লেও টিকাদানের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিধিনিষেধ ক্রমে শিথিল হতে থাকে। ফলে ভ্রমণপিপাসুরা আবারো ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছেন। অন্য শহর কিংবা বিদেশে গিয়ে হোটেলে আশ্রয় নিচ্ছেন। চলতি বছরের মে মাসে বৈশ্বিক ফ্লাইটের সংখ্যা মহামারীর পর এ প্রথমবার ২০১৯ সালের ফ্লাইটের সংখ্যাকে টপকে গেছে।
একদিকে যেমন হোটেল ব্যবসার চাহিদা বেড়েছে, তেমনি লাফিয়ে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির হারও। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দামও। হোটেল পরিচালকদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে আরো দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রিস নাসেটা জানান, সবকিছুরই দাম বেড়েছে। আমাদের ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম নেই। অবসর কাটানো ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দুই বছর স্থবির পরিস্থিতি ছিল।
ম্যারিয়ট হোটেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টনি ক্যাপুয়ানো বলেন, মেমোরিয়াল ডে সপ্তাহান্তে ২০১৯ সালের তুলনায় এ বছর প্রতিষ্ঠানের কক্ষপ্রতি আয় ২৫ শতাংশ বেশি ছিল। এছাড়া ম্যারিয়টের বিলাসী পোর্টফোলিওর অন্তর্ভুক্ত জেডব্লিউ ম্যারিয়ট, রিটজ-কার্লটন ও সেন্ট রেজিসের আয় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। দাম বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমবাজারের পরিবেশ প্রতিকূল। এ অবস্থায়ও আমার মনে হয় আমরা ভোক্তাদের সময়মতো পরিষেবা দিতে পারছি। যদিও অবসর ও উপকূলবর্তী গন্তব্যে পর্যটন চাহিদা বাড়লেও কয়েকটি শহুরে অঞ্চলে এখনো সম্পূর্ণরূপে ভ্রমণ খাত পুনরুদ্ধার হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার কমায় বিদেশী পর্যটকদের জন্য কভিড পরীক্ষার আবশ্যিকতা শিথিল করেছে বাইডেন সরকার। এতে ভ্রমণ চাহিদা আরো বাড়ছে।
যদিও যুক্তরাজ্য ও গ্রিসসহ বেশ কয়েকটি দেশে বহু আগেই কভিড পরীক্ষার আবশ্যিকতা সম্পূর্ণরূপে তুলে নেয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বোর্ডিংয়ের আগে এখনো কভিড নেগেটিভ পরীক্ষার সনদ আবশ্যক। পর্যটন শিল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ চাহিদা ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে টনি ক্যাপুয়ানো এক বিবৃতিতে জানান, বোর্ডিংয়ের আগে কভিড পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা পর্যটকদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সংস্থার সভাপতি রজার ডো এক বিবৃততি বলেন, এ ধরনের বিধিনিষেধের জন্য মার্কিন সরকার নিন্দাযোগ্য। বিধিনিষেধ তুলে দিলে বিশ্ব পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশের ভ্রমণ খাদের পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত হবে। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও ব্যবসাগুলো ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে। তাই বর্তমানে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে হায়াট হোটেলের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক হপলামাজিয়ান বলেন, দেশীয় পর্যটকদের তুলনায় বিদেশী ভ্রমণার্থীরা বেশি ব্যয় করে থাকেন। তবে কভিড পরীক্ষার বিধিনিষেধ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//



