চার দশকের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি
তুমুল সমালোচনার মুখে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড
ডেস্ক রিপোর্ট: ১৯৮২ সালের পর যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি প্রথমবারের মতো দুই অংক ছুঁয়েছে। বিগত জুন মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থাকলেও পরের মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির এ হার গত ৭০ বছরের মধ্যে চতুর্থবার দুই অংক পেরোল। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ইংল্যান্ডজুড়ে। বিশেষ করে নীতিনির্ধারণী মহল যেমন দেশটির রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪০ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডের মূল্যস্ফীতি দুই অংকে পৌঁছেছে, যা বৃহৎ অর্থনীতির জি৭ (কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপান) সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এ অবস্থায় রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদদের তোপের মুখে পড়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।
যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৫ বছর আগে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে রাখার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। কিন্তু বর্তমানে থ্রেডনিডল স্ট্রিটের (কেন্দ্রীয় ব্যাকের প্রধান কার্যালয়) কর্মকর্তারা তাদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন কিনা সেই প্রশ্ন উঠছে। কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে যাওয়া লিজ ট্রাস ও সহযোগীরা এজন্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি তার মুদ্রানীতি নির্ধারক সহকর্মীদের দিকে আঙুল তুলেছেন।
বিজনেস সেক্রেটারি কোয়াসি কার্টেক্স, যাকে আগামী দিনে চ্যান্সেলর বলা হচ্ছে; তিনি বলেছেন, যদি আপনার লক্ষ্য থাকে ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির এবং আপনি যদি আভাস দেন ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ তাহলে সেটি অবশ্যই বড় ধরনের গলদ।
লিজ ট্রাসের প্রধান সহযোগী ও অ্যাটর্নি জেনারেল সুয়েলা ব্রেভারম্যান এ মাসের শুরুতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ব্যাপারে স্কাই নিউজকে বলেছিলেন, সুদহারের ক্ষেত্রে তাদের নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা উপযুক্ত কিনা তা খতিয়ে দেখবে লিজ ট্রাস।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ যে তারা করোনা মহামারীকালীন সংকট থেকে অর্থনীতি বেরিয়ে এসেছে ভেবে ঘুমিয়ে গিয়েছিল। এতে খুব দ্রুত ব্যয় বৃদ্ধি ঘটে। কারণ কর্মকর্তারা মহামারী-পরবর্তী প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। যার ফল হলো অতিরিক্ত চাহিদা ও মূল্যস্ফীতি।
আগের মাসের সঙ্গে জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতি বাড়তে বাড়তে বার্ষিক সর্বোচ্চ অনুমিত হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। দুই অংকের এ মূল্যস্ফীতি এক বছর স্থায়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা অন্যান্য অর্থনীতির জন্য পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটির সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু সেনটেন্স বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মানুষকে অত্যন্ত কম সুদহারের সঙ্গে অভ্যস্ত করেছে। মহামারীর পর ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সরবরাহ এবং মূল্যস্ফীতি সমস্যা বেড়ে যাওয়ার দিকে অত্যন্ত ধীরে নজর দিয়েছে।
কঠোর মুদ্রানীতির সমর্থক অ্যান্ড্রু সেনটেন্সকে ব্যাংক বরখাস্ত করেছিল। তবে তার মতামতকে অন্য সাবেক কর্মকর্তারা শেয়ার করেছেন যারা জনসমক্ষে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সমালোচনা করতে চান না।
মুদ্রানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য এমন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা খুব বিস্মিত হন যে কমিটি ২০২১ সালজুড়ে পরিমাণগত সহজীকরণ কর্মসূচি, মুদ্রা ছাপানো এবং সম্পদ ক্রয় অব্যাহত রেখেছিল; যদিও প্রত্যাশার চেয়ে পুনরুদ্ধার অত্যন্ত কঠিন।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের পরিচালক জগজি চাধা বলেন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের আরো দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল। তারা সুদহার অত্যন্ত নিম্নস্তর থেকে স্বাভাবিক করার প্রয়োজন বলতে অনিচ্ছুক বলে মনে হয়েছে। ডানপন্থী থিঙ্কট্যাংক হিসেবে পরিচিত ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের ছায়া এমপিসির নিয়মিত বৈঠকে তার এ বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে। সূত্র: বনিকবার্তা।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//



