কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী। কোনো ধরনের আকস্মিক পরিবর্তন না হলে রক্ষণশীল দলের লিজ ট্রাসই হচ্ছেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে কথা বলা শুরু করেছেন সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গতকাল বিবিসি ওয়ানকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, প্রথম সপ্তাহেই ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া মন্দা ঠেকানো, দুই অংকের মূল্যস্ফীতির রাশ টেনে ধরা এবং শিল্পক্ষেত্রে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে তার অগ্রাধিকার।
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলে নেতৃত্বের দৌড়ে ভোটাভুটি শেষ হয়েছে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায়। প্রায় দুই মাস ধরে চলা এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে দুই প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে শুক্রবার ভোট হয়েছে। এ দুই প্রার্থী হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস ও সাবেক চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক। দুজনের মধ্যে লিজ ট্রাসই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
জনমত জরিপে সম্প্রতি ঋষি সুনাকের চেয়ে লিজ ট্রাসকেই অনেক বেশি এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।
সুনাক পার্লামেন্টে এমপিদের পছন্দের প্রার্থী হলেও দলের প্রায় দুই লাখ টোরি (কনজারভেটিভ) ভোটারের অধিকাংশ ট্রাসের দিকেই ঝোঁকে।
ভোটের আগে থেকেই দুই প্রতিপক্ষ প্রার্থী দেশজুড়ে প্রচার চালিয়েছেন। টেলিভিশনে তিনটি বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন। ভোট শেষ হওয়ার পরও আশা ছাড়েননি কেউই। লিজ ট্রাস বিরাট ব্যবধানে জয়ী হতে চলেছেন বলে ধারণা করা হলেও সুনাক এখনো হাল ছাড়েননি।
টুইটে এক পোস্টে সুনাক লিখেছেন, ভোটাভুটি শেষ। আমার সব সহকর্মী, প্রচার দল এবং আরো যারা আমার সঙ্গে দেখা করেছেন, আমাকে সমর্থন করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সোমবার (আজ) দেখা হবে।
পার্টিগেট কেলেঙ্কারির মুখে গত জুলাইয়ে দলীয় নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তার পরই কনজারভেটিভ দলে শুরু হয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। সেই থেকেই যুক্তরাজ্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় আছে। প্রথম দিকের ভোটে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাককেই এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছিল। এতে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে ধারণা জোরদার হচ্ছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে দৃশ্যপট।
ভোটাররা বরিসের মন্ত্রিসভায় সুনাকের কার্যকারিতাও বিশ্লেষণ করে দেখেছেন বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সময় সুনাক চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার হিসেবে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এমনকি সম্প্রতি লিজ ট্রাসের সঙ্গে মুখোমুখি টিভি বিতর্কে তার কর হ্রাস নীতির তীব্র সমালোচনাও করেছিলেন সুনাক। কেউ কেউ বলছেন, এসব কারণে ভোটারদের নিজের দিকে টানতে ব্যর্থ হয়েছেন সুনাক। তাই ভোটের ফল নিয়ে এখন দোলাচলে সুনাক। জয়ী হতে পারলে যুক্তরাজ্যে তার রাজনৈতিক লড়াই আলাদা তাৎপর্য পাবে। আর তা না হলে লিজের মন্ত্রিসভায় সুনাক থাকবেন না বলেই আভাস দিয়েছেন।
বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরদিনই স্কটল্যান্ডের বালমোরালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সেদিন বিদায়ী ভাষণও দেবেন বরিস। আর তার পরই নতুন প্রধানমন্ত্রীর অভিষেক হবে রানীর উপস্থিতিতে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//



