জর্জিয়া মেলোনি

শপথ নিলেন ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কট্টর ডানপন্থী ব্রাদার্স অব ইতালি দলের নেতা জর্জিয়া মেলোনি।

 

শনিবার (২২ অক্টোবর) মেলোনি এবং তার মন্ত্রিসভা ইতালির রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাতারেলার সামনে শপথ নেন।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে হিসেব করলে ইতালির ৬৮তম সরকারপ্রধান হচ্ছেন মেলোনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির ফোরজা ইতালিয়া ও মাত্তেও সালভিনির লিগের সঙ্গে জোট বেঁধে গত মাসের জাতীয় নির্বাচনে জয় পায় তার নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দল ব্রাদার্স অফ ইতালি।

 

দলটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আন্দোলনের এক ধরনের যোগসূত্র আছে। তার ওপর মেলোনি জোট বেঁধেছেন অতিডানপন্থী লিগ এবং মধ্যডান ফোরজা ইতালিয়ার সঙ্গে। ফলে এ শপথের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার পেতে যাচ্ছে ইতালি। পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা নেয়ার আগে তাকে পার্লামেন্টের উভয় চেম্বারে আস্থা ভোটে জিততে হবে।

 

রয়টার্সের একটি খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেলোনিকে মন্দার হুমকি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও ইউক্রেনের যুদ্ধ ঘিরে বেশকিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

 

 

প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লার সঙ্গে দেখা করে তার মন্ত্রীদের তালিকাও জমা দিয়েছেন মেলোনি। তালিকায় ব্রাদার্স অব ইতালির রাজনীতিকরা মন্ত্রিসভার নয়টি পদ পাচ্ছেন। লিগ ও ফোরজা পার্টি পাচ্ছে পাঁচটি করে পদ, বাকি পাঁচটি পদ পাবেন টেকনোক্র্যাটরা। মেলোনির নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন লিগের জাংকার্লো জর্জিয়েত্তি, আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে ফোরজা পার্টির আন্তোনিও তইয়ানিকে। বার্লুসকোনি মন্ত্রিসভার কোনো দায়িত্ব পাচ্ছেন না। তিনি সিনেট সামলাবেন, আর লিগের নেতা সালভিনি নেবেন অবকাঠামো মন্ত্রীর দায়িত্ব।

 

 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতৃত্ব দেয়ার আগে আগামীকাল রোববার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দ্রাঘির কাছ থেকে মেলোনির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

 

 

উল্লেখ্য, ইউেক্রনে রুশ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই মেলোনির সঙ্গে তার জোটের অন্য দুই অংশীদারের মতিবিরোধ শুরু হয়। ফোরজা ইতালিয়া এবং লীগ, উভয় পক্ষের নেতাদেরই রুশপন্থী মনে করা হয়। আর মেলোনি স্পষ্টতই ইউক্রেনের পক্ষে। জোট গঠনের শুরু থেবেই এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত টিকে যায় এই ডানপন্থী জোট। জোটে মতবিরোধের ছায়া দেখেই মেলোনি বলেছেন, তার প্রশাসন দৃঢ়ভাবে আটলান্টিক জোট তথা ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী হবে। এই মূলনীতির সঙ্গে যিনি একমত হবে না তিনি নতুন সরকারের অংশ হতে পারবেন না।

 

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)