সিঙ্গাপুরের শিল্পোৎপাদন খাতে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত
ডেস্ক রিপোর্ট: সিঙ্গাপুরের শিল্পোৎপাদন খাতে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত মাসে দেশটির উৎপাদন খাতের সংকোচন আরো ত্বরান্বিত হয়েছে। বিশেষকরে ইলেকট্রনিকস খাতের মন্দা পুরো শিল্পোৎপাদনে ধস নামাতে ভূমিকা রেখেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সুদের হার এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকির মধ্যেই উৎপাদন খাতে নিম্নমুখী প্রবণতার তথ্য জানাল এশিয়ার নগর রাষ্ট্রটি। খবর: স্ট্রেইটস টাইমস।
গতকাল প্রকাশিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে সিঙ্গাপুরের শিল্পোৎপাদন এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। এ পতনের হার অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ১ দশমিক ১ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। এর আগে গত অক্টোবরে এক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দেশটির উৎপাদন খাত সংকুচিত হয়েছিল। তবে সে সময় সংকোচনের হার ছিল দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও প্রাথমিক প্রতিবেদনে দশমিক ৮ শতাংশ সংকোচনের কথা বলা হয়েছিল।
গত মাসে শিল্পোৎপাদন সংকোচনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ইলেকট্রনিকস খাত। বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রনিকসের চাহিদা কমে যাওয়ায় গত মাসে এ খাতের উৎপাদন এক বছর আগের তুলনায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ইলেকট্রনিকস সিঙ্গাপুরের রফতানিনির্ভর উৎপাদন খাতে ৪০ শতাংশ অবদান রাখে। পাশাপাশি খাতটি এশিয়ার নগর রাষ্ট্রটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরও চাবিকাঠি।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, দেশটির সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন গত মাসে ১৪ শতাংশ কমেছে। যদিও অক্টোবরে খাতটির উৎপাদন ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছিল। চিপ দেশটির মোট ইলেকট্রনিক উৎপাদনে ৮০ শতাংশ অবদান রাখে। সিঙ্গাপুর বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টরগুলোর ১১ শতাংশ এবং চিপমেকিং সরঞ্জামের ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। গত মাসে অন্যান্য ইলেকট্রনিক মডিউল এবং যন্ত্রাংশগুলো উৎপাদন ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি এবং ভোক্তা ইলেকট্রনিকস বিভাগের উৎপাদন কমার হার ১২ দশমিক ১ শতাংশ। ইলেকট্রনিক শিল্পের মধ্যে কেবল কম্পিউটারের সহায়ক ও ডাটা স্টোরেজ সম্পর্কিত বিভাগের উৎপাদন ৯ দশমিক ৩ শতাংশ প্রসারিত হয়েছে।
এদিকে সংকোচনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছে দেশটির ফার্মাসিউটিক্যাল খাত। গত মাসে এ খাতের উৎপাদন ১৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে অক্টোবরে খাতটির উৎপাদন ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। এছাড়া বায়োমেডিকেল উৎপাদন ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। এ বিভাগের উৎপাদনও অক্টোবরে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল।
ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারিং একটি উজ্জ্বল স্থানে ছিল। কারণ গত মাসে খাতটির উৎপাদন ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে অক্টোবরে এ খাতের উৎপাদন বেড়েছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ ভ্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক এয়ারলাইনসগুলো থেকে আরো রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজ ছিল বলে মহাকাশ বিভাগের উৎপাদন ২৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে রাসায়নিক উৎপাদন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
মালয়েশিয়াভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান আরএইচবির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বার্নাবাস গ্যান এর আগেই সিঙ্গাপুরের উৎপাদন খাতে মন্দার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, আগামী বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের উৎপাদন খাতে মন্দা অব্যাহত থাকবে। বার্নাবাস গ্যান বলেন, আমরা চীনের অর্থনৈতিক মন্দা এবং বিশ্বজুড়ে চাহিদা হ্রাসের বিরূপ প্রভাবের জন্য সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। ইলেকট্রনিকস ও রাসায়নিকসহ আগামী ছয় থেকে আট মাস সিঙ্গাপুরের রফতানিনির্ভর উৎপাদন নিম্নমুখী থাকবে। কারণ চীন বিশ্বের বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর ও পেট্রোকেমিক্যালের আমদানিকারক।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//



