পানগোলে বিজনেস পার্ক নির্মাণ
সিঙ্গাপুরে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ইউওবি
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রথম স্থানীয় ব্যাংক হিসেবে সিঙ্গাপুরে ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংক (ইউওবি) বিনিয়োগ করছে ৫০ কোটি ডলার। সিঙ্গাপুরের পানগোলে ৫৪ লাখ বর্গফুটের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বাণিজ্যিক পার্ক তৈরি করা হবে। নতুন এ উদ্যোগ সিঙ্গাপুরকে প্রযুক্তি খাতে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে দাবি করেছেন দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। খবর: ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
২০২৬ সাল নাগাদ পানগোল ডিজিটাল ডিস্ট্রিক্টে (পিডিডি) নির্মাণ শেষ করা হবে পাঁচটি টাওয়ারের একটি। জেটিসি করপোরেশনের মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে তৈরি হচ্ছে টাওয়ারগুলো। পরবর্তী সময়ে শিগগিরই ১২ লাখ বর্গফুটজুড়ে যুক্ত হবে তিনটি টাওয়ার। কাজ শেষ হলে পিডিডি ২৮ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এসআইটি) নতুন ক্যাম্পাস হিসেবে ১২ হাজার ছাত্র ও কর্মকর্তার আবাসন হিসেবে কাজ করবে টাওয়ার। এসআইটি ও অন্যান্য অত্যাধুনিক ব্যবসাও সহযোগিতা লাভ করতে পারবে সেখান থেকে।
ইউওবির বাইরে আরো দুটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে প্রকল্পে। প্রথমটি টার্গেট মিডিয়া কালক্রিয়েটিভ (টিএমসিসি) এবং অন্যটি ডেলটেক। টিএমসিসি ১৫ হাজার ডিজিটাল বিজ্ঞাপন স্থাপন করেছে দ্বীপজুড়ে। ডেলটেক হলো ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের প্রথম স্থানীয় সমন্বয়ক। প্রতিষ্ঠানটি মূলত গ্রাহককে প্রযুক্তিবিষয়ক সব ধরনের তথ্য দিয়ে থাকে। নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত।
বাণিজ্য পার্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার সমন্বয়ের মধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারা সেখানে সরে যাওয়ার আগেই নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী গান কিম ইয়ং সম্প্রতি আরো কিছু উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে ইউওবি ও এসআইটি যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে ফিনটেক ইনোভেশন ল্যাব। সেখানে প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও প্রায়োগিক গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। টিএমসিসি ও এসআইটির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
গান কিম ইয়ং বলেছেন, ‘পিডিডির গৃহীত পদক্ষেপ প্রযুক্তি বাণিজ্য খাতে সিঙ্গাপুরকে আরো জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। কারণ এ পদক্ষেপ বিনিয়োগের মাধ্যমে অবকাঠামোগত ও প্রায়োগিক পরিবর্তন আনবে। বিশ্বব্যাপী টেক কোম্পানিগুলোয় কর্মী ছাঁটাইয়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমাদের অত্যাধুনিক অর্থনীতি এখনো ব্যাপক সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুর এখনো সমকালীন প্রতিকূলতা মোকাবেলায় ভালো অবস্থানে রয়েছে।
ইউওবি প্রধান নির্বাহীর ভাষ্য অনুযায়ী, উই ই চিয়ং পিডিডির উদ্যোগ সিঙ্গাপুরের অগ্রগতিতে ভূমিকা পালন করবে। উপকৃত হবে আসিয়ানের অন্তর্ভুক্ত দেশের সদস্যরা। তিন লাখ বর্গফুট তৈরি হওয়ার পর তিন হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়ে সেখানে সরে যাবে ব্যাংকটি। ইউওবি ও জেটিসি পরস্পরকে সহযোগিতা করবে কার্বনমুক্ত করার ক্ষেত্রে। স্থানীয় শিল্পের জন্য শক্তিশালী করবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। টিএমসিসি ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সেখানে যাওয়ার জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। টিএমসিসির চেয়ারম্যান হেনরি গোহ বলেছেন, তিনি এসআইটির ছাত্রদের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক। সত্যিকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান বের করতে প্রযুক্তির দুনিয়ায় সহযোগী হয়ে উঠবে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//



