ইউরোপ-আমেরিকার ১২ দেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে এইচএসবিসি
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: এশিয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার জেরে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১২টি দেশকে তালিকায় রেখেছে এইচএসবিসি। বিশেষ পর্যালোচনার পর দেশগুলো থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ বিনিয়োগকারী চীনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ফিং অ্যানের চাপেই সিদ্ধান্তটি নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা জর্জ এলহেদেরি। খবর রয়টার্স।
কোম্পানিটির সামগ্রিক আয়ের ৭৮ শতাংশই আসে এশিয়া থেকে। ফলে এশিয়াকেই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ফিং অ্যান। যার অংশ হিসেবেই পরিকল্পনা নেয়া হয় ফ্রান্স, গ্রিস, রাশিয়া ও কানাডায় ব্যবসা বিক্রি করে দেয়ার। সেখানকার বাজার হয়তো তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও সিদ্ধান্তটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের ব্যবসা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইউরোপে ২০২২ সালে নিট হিসাবে ক্ষতি হয়েছে। এদিকে সার্বিক আয়ে লাতিন আমেরিকার হিস্যা ছিল ৫ শতাংশেরও নিচে। তার পরও ইউরোপের সব দেশেই কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎকারে বসেছেন এল হেদেরি। তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দেশে প্রক্রিয়াটা তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে হতে পারে। তবে সিদ্ধান্তের বদল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমরা ব্যবসাকে এশিয়ায় সরিয়ে নেয়ার জন্য সব রকম ধাপ অনুসরণ করব।’
তবে মেক্সিকো নিয়ে বর্তমানে তেমন কোনো চিন্তা নেই। ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে যদিও এখনো মুখ খোলেননি বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকরা। একদিকে মেক্সিকোতে ব্যাংকের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট ভালো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার বাণিজ্য চুক্তি এবং চীনের প্লাস ওয়ান পরিকল্পনার ইতিবাচক প্রভাব। মেক্সিকোর অর্থনীতি বর্তমানে এইচএসবিসির কাজের জন্য যথেষ্ট অনুকূলে। দেশটির রিটেইল পরিষেবার ৭০ শতাংশ গ্রাহকই বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত, যা আশাব্যঞ্জক। চীনা ইন্স্যুরেন্স ফিং অ্যান প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে এশীয় ও পশ্চিমা ব্যবসার পৃথক হিসাব প্রকাশের দাবি করে আসছিল। ৫ মে বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ফিং অ্যানের মুখপাত্র এ বিষয়ে বাড়তি কোনো মন্তব্য না করলেও এলহেদেরি বলেছেন, ‘বিষয়টি এখন আমাদের সামনে স্পষ্ট। অধিকাংশ বিনিয়োগকারী আসলে কী চায়, ফলে সব মনোযোগ এখন শুধু ব্যবসা ও গ্রাহকদের কেন্দ্র করে।’
কোম্পানির জন্য বর্তমানে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। প্রথমত, সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করা; দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দাম কম রাখার যুদ্ধে টিকে থাকা ও তৃতীয়ত, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপড়েন। কানাডা ইউনিটে ১ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ হস্তান্তরের কথা, যা আগামী বছর পর্যন্ত বিলম্বিত হবে। রয়েল ব্যাংক অব কানাডা নীতিমালা অনুযায়ী বুঝে নেবে মালিকানা। ফ্রান্সের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। কোনো একটি প্রক্রিয়া ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলে মারাত্মক ফল বয়ে আনতে পারে এইচএসবিসির জন্য। বিপরীত দিকে চুক্তির বাইরেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে আয় বাড়ানোর পথে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার সেখানে অন্যতম। ব্যাংকটি এখন আয় বাড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মহামারী-পরবর্তী চীন ও হংকংয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসার পর থেকে। এশিয়ায় বাণিজ্য বিস্তারের অংশ হিসেবেই চীনে আগামী দুই বছরে নিয়োগ দেয়া হবে প্রায় দুই হাজার সম্পদ ব্যবস্থাপক।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



