বর্তমান বিশ্বে ২০ কোটির বেশি শ্রমিক বেকার

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: বর্তমান বিশ্বে ২০ কোটি ১০ লাখ শ্রমিক বেকার অবস্থায় আছে।এবছর বেকার শ্রমিকের সংখ্যা ৩৪ লাখ বেড়েছে। সব মিলিয়ে সারা বিশ্বে বেকারত্বের হার এখন ৫.৮ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট সোশ্যাল আউটলুক ২০১৭’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এতে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে কিছু উন্নতি হলেও এখনো উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশের ৭৮ কোটি শ্রমিক অতি দারিদ্র্য বা তার আশপাশে অবস্থান করছে। এ ছাড়া ১৪০ কোটি শ্রমিকের চাকরি সুরক্ষিত নয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রতিবছর এই সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ করে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত বেতন প্রাপ্তি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে শ্রমিকদের চাকরি সুরক্ষিত করার বিষয়টি চ্যালেঞ্জের। যেখানে বিশ্বে এখন শোভন কাজের ঘাটতি কেবলই বাড়ছে।

আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বিশ্বের ২৮০ কোটি বা ৮৭ শতাংশ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে বেসরকারি খাতে। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় খাতের শ্রমিকই অন্তর্ভুক্ত আছে। বেসরকারি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগই শোভন কাজ নিশ্চিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

বেসরকারি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানেও (এসএমই) কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট কর্মসংস্থানের ৩১-৩৫ শতাংশই এসএমইএর দখলে। তবে অঞ্চল ও আয়ের হিসাবে এটি একেক রকম হয়। যেমন এসএমই খাতে উন্নয়নশীল দেশে ৫২ শতাংশ, উদীয়মান অর্থনীতির দেশে ৩৪ শতাংশ এবং উন্নত দেশে ৪১ শতাংশ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। এসএমই ও নতুন প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থান বাড়াতে ভালো কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৩২টি দেশে গত বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে আইএলওর প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট সোশ্যাল আউটলুকে বলা হয়েছে, রপ্তানি করে এমন প্রতিষ্ঠানে ১৬ কোটি ৭০ লাখ বা ৩৭ শতাংশ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক মন্দা ও আর্থিক সংকটে পড়লে সংখ্যাটি কিছুটা কমে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে পারলে নতুন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এভাবেই টেকসই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়বে। শ্রমিকেরা পাবেন শোভন কাজ।

(এম আর / ১১ অক্টোবর, ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)