৪ শর্তে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি মিয়ানমার

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। তবে কাদের ফেরত নেবে তার জন্য চার শর্ত দিয়েছে দেশটির সরকার।

গতকাল শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে ভারত-মিয়ানমার সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শরনার্থী বিষয়ে দেশটির এ অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।

ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজার জানিয়েছে, সম্মেলনে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য এ শর্ত ৪টি দিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউ কিইয়াও জেয়া। তার এ বক্তব্যকে ‘কড়া’ বলে মন্তব্য করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

শর্ত ৪টি হল- যে সব রোহিঙ্গা এ দেশে দীর্ঘদিন বসবাসের প্রমাণপত্র দাখিল করতে পারবেন, স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরতে চাইবেন, পরিবারের কেউ এ দিকে রয়েছেন তেমন প্রমাণ দেখাতে পারবেন এবং বাংলাদেশে জন্মানো শিশুগুলোর বাবা-মা উভয়েই মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণিত হলে তবেই তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, স্কুলে পড়া, হাসপাতালে চিকিৎসা, চাকরির নথি- এ সবের মতো কিছু প্রমাণ তো দেখাতেই হবে। না হলে ফেরত নেওয়াটা মুশকিল। আর এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের মতে মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে শরণার্থী ১০ লাখ রোহিঙ্গা ফেরতে মিয়ানমারের শর্তগুলো পূরণ যে দু:সাধ্য তা অনেক বিদেশি অনেক কূটনীতিকই স্বীকার করেছেন।

তারা বলছেন, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে যারা ভিটেমাটি ছেড়ে এসেছেন, তাদের কাছে নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে প্রমাণের কোনো নথি না থাকাটাই স্বাভাবিক।কলকাতার ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ, ইয়াঙ্গুনের ভারতীয় দূতাবাস এবং মিয়ানমারের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনেও বিষয়টি উঠে আসে।

শরণার্থী সঙ্কটের বিষয়ে কেন এত কড়া শর্ত তার ব্যাখ্যায় মিয়ানমারের এ সচিব বলেন, রাখাইন প্রদেশের এই সমস্যা কেবল মানবিক বিষয় নয়। নিরাপত্তাও একটা বড় কারণ।

রাখাইনে সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়াকে নিজেদের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন ইউ কিইয়াও জেয়া।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মংডুতে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) বিলি শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার।

রোহিঙ্গারা যে রাখাইনের অধিবাসী তা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরা হলেও মিয়ানমার সরকারের দৃষ্টিতে এরা অবৈধ বাঙালি অভিবাসী।

গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে সেনা নির্যাতন শুরু হলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এ সংখ্যা আড়াই মাসে ৬ লাখ ছাড়িয়েছে।

(এসএএম/ ১১ নভেম্বর ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)