বৈশ্বিক বাণিজ্যের বৃহত্তম কেন্দ্র হতে পারে চীন

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ চীন। ক্রমবর্ধমান চীনা বাজারে খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাড়তি জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের এ গতি অব্যাহত রাখতে শিল্পের বিকাশের স্বার্থে দেশটিতে দিন দিন জ্বালানি ও ব্যবহারিক ধাতুর চাহিদাও বাড়ছে। সব মিলে অভ্যন্তরীণ চাহিদার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পণ্যবাজারের (খাদ্য, জ্বালানি ও শিল্পপণ্য) সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে চীন।

তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদার সিংহভাগ পণ্যই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে চীনা সরকার। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য, জ্বালানিপণ্য ও ব্যবহারিক ধাতুর বৈশ্বিক বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় গন্তব্য চীন। ২০১৭ সালেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, আকরিক লোহা ও সয়াবিন আমদানিতে নতুন রেকর্ড করেছে দেশটি।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার অন্যতম শর্ত হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা। আর চীন সরকার ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্যবহারের মাধ্যমে।

২০১৭ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে চীন। এমনকি এশিয়ার পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছে বেইজিং।

 

চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চীনে দৈনিক গড়ে ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে। এর বিপরীতে বছরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৭৯ লাখ ৪ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)। ২০০৫ সালে চীনে দৈনিক গড়ে ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় আমদানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৯ হাজার ব্যারেল। এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ক্রমেই কমলেও বিপরীত চিত্র দেখা গেছে চীনের বাজারে।

২০১১ সালে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় আমদানি প্রথমবারের মতো ৫০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে যায়। এ সময় দেশটি দৈনিক গড়ে ৫০ লাখ ৯৬ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছিল। ২০১৬ সালে দেশটি দৈনিক গড়ে ৭৬ লাখ ৫২ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছিল। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি পণ্যটির আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ৭৮ লাখ ৯৯ হাজার ব্যারেল। ২০১৮ সালে চীনের বেসরকারি পরিশোধন কেন্দ্রগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির কোটা বাড়ানোর ফলে চলতি বছর দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বেইজিংভিত্তিক চায়না ইন্টারন্যাশনাল ক্যাপিটাল করপোরেশনের বিশ্লেষক গুও চাওহুই বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিশীলতা চীনের বাজারে সব ধরনের কমোডিটির চাহিদা ও আমদানি বাড়িয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি হওয়ার পথে দেশটির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকায় খাদ্য, জ্বালানিপণ্য ও ব্যবহারিক ধাতুর আমদানি বাড়তি থাকবে। ফলে সব ধরনের কমোডিটির বৈশ্বিক বাণিজ্যের বৃহত্তম কেন্দ্র হবে চীন।

(এএইচএন/ ১৪ জানুয়ারি, ২০১৮)


Comment As:

Comment (0)