পরপারে উইনি ম্যান্ডেলা
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার সাবেক স্ত্রী উইনি মাদিকিজেলা ম্যান্ডেলা মারা গেছেন।
গতকাল সোমবার ৮১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। উইনি ম্যান্ডেলার ব্যক্তিগত সহকারীর উদ্ধৃতি দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাপক জনপ্রিয় অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন উইনি। নেলসন ম্যান্ডেলার কারাবন্দীর পর বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন উইনি ম্যান্ডেলা।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ উইনিকে এ বছর কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সম্প্রতি কিডনি ইনফেকশনের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে উইনি মাদিকিজেলা-ম্যান্ডেলার মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। জোহানেসবার্গে নেটকেয়ার মিলপার্ক হাসপাতালে সোমবার বিকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। যে কারণে এ বছরের শুরু থেকেই তাকে কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। পরিবার ও প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে তিনি চিরনিদ্রায় হারিয়ে গেছেন।
ম্যান্ডেলা পরিবারের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে উইনি ম্যান্ডেলাকে বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের অন্যতম সেরা প্রতীক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা এবং দেশের মুক্তির জন্য উইনি জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে উইনির অবস্থানের কারণে তাকে কয়েকবার জেল খাটতে হয়েছে।
নেলসন ম্যান্ডেলা জেলে থাকার সময় উইনিই স্বামীর আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের জন্য দীর্ঘ ২৭ বছর কারাভোগ করেন নেলসন ম্যান্ডেলা।
১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়ার পর উইনির হাতে হাত রেখে কারাগার থেকে নেলসন ম্যান্ডেলার বেরিয়ে আসার ছবিটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় ছবিটি।
যদিও তার পরের কয়েক বছরে নানা দুর্নীতি ও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ায় উইনির নাম কলঙ্কিত হয়।
১৯৩৬ সালে ইস্টার্ন কেপটাউনে জন্মগ্রহণ করেন উইনি। ১৯৫০ সালে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে যখন তার পরিচয় হয় তখন তিনি তরুণ সমাজকর্মী। ১৯৫৮ সালে এই জুটির বিয়ে হয়। ১৯৬২ সালে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নেলসন ম্যান্ডেলার গ্রেপ্তার হওয়া এবং তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা হওয়ার পর উইনি তার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ে অদম্য সংগ্রামের কারণে সারা বিশ্বে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।
তাকে দমাতে দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন শ্বেতাঙ্গ সরকার ম্যান্ডেলাকে কারাদণ্ড দেওয়ার পাঁচ বছর পর উইনিকেও গ্রেপ্তার করে। উইনির বিরুদ্ধে নানা ধরণের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও শুরুতে স্ত্রীর পাশেই ছিলেন ম্যান্ডেলা। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
যদিও বিচ্ছেদের পরও নিজের নামের শেষে ম্যান্ডেলা নামটি যুক্ত রেখেছিলেন উইনি। নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে তার সুসম্পর্কও বজায় ছিল।
(এসএএম/ ০৩ এপ্রিল ২০১৮)



