৩৬ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি চীনের

বিনিয়োগবার্ত ডেস্ক, ঢাকা : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আংশিক চুক্তি স্বাক্ষরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের আগে ৩৬ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি করেছে বেইজিং। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর ব্লুমবার্গ, সিএনবিসি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে গত সেপ্টেম্বরে আরোপিত ১১ হাজার কোটি ডলারের পণ্য ও গত বছর আরোপিত ২৫ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কমানোর দাবি চীনের প্রতিনিধি দলের।

যুক্তরাষ্ট্র যেন সাময়িকভাবে আরো কিছু শুল্ক প্রত্যাহার করে চীনা কর্মকর্তারা সে দাবি তুলেছেন বলে জানায় বেইজিংয়ের অবস্থান সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যে, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের কৃষিপণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে।

চীন এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ১৬ হাজার কোটি ডলারের আমদানি পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি তোলে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া ওই শুল্কে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের মতো ভোক্তাপণ্য ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। চীনের অবস্থান সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনবিসিকে জানায়, সব শুল্ক প্রত্যাহারে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে চাইছে বেইজিং।

কয়েকদিন আগে বিষয়সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, পোশাক, যন্ত্রপাতি ও ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভিসহ বিভিন্ন ভোক্তাপণ্যে শুল্ক নিয়ে দেনদরবার করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। চীনের প্রকৃত অবস্থান কী, এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ফ্যাক্স পাঠানো হলে কোনো জবাব আসেনি ব্লুমবার্গের হাতে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইটহাইজার ও অন্যান্য কর্মকর্তা যুক্তি দেখিয়ে আসছেন যে, ২৫ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে এ কারণে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যাতে চীন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে অথবা দীর্ঘমেয়াদে এ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়।

গতকাল সাংহাইয়ে আয়োজিত ‘চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো ইন সাংহাই’য়ের উদ্বোধনী ভাষণে অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় চীনের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এবারের সম্মেলনে কিছুটা নমনীয় সুরে কথা বলেন তিনি। গত বছর তার বক্তৃতায় ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’নীতির সমালোচনা করেছিলেন শি। বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াবে, মুদ্রা স্থিতিশীল রাখবে এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা করবে চীন।

সোমবার ব্লুমবার্গের অন্য এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে কোথায় সাক্ষাৎ করবেন শি, তা পর্যালোচনা করে দেখছে বেইজিং। চীনের কর্মকর্তারা প্রাথমিক পর্যায়ে একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফরের কথা বলছিলেন, যেখানে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। তবে বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রীয় সফর বাদেই যুক্তরাষ্ট্রে আসতে বাধা নেই তাদের। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সূত্র বলছে, চুক্তি স্বাক্ষরের ভেনু হিসেবে বর্তমানে আলাস্কা ও আইওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

গতকাল ব্যাংকক থেকে টেলিফোন বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস জানান, চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন উভয়পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তী আলোচনার দ্বারও উন্মোচন করবে।

ইউরেশিয়া সেন্টারের চায়না প্রোগ্রামের পরিচালক রালফ উইনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন এ বাণিজ্য চুক্তি উভয় দেশের অর্থনীতিই চাঙ্গা করবে। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঝে ট্রাম্পের বড় বিজয় হিসেবে দেখা দেবে। আগামী বছরের নির্বাচনে কৃষকদের ভোট ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অবশ্য ভিন্ন মতও রয়েছে অনেক বিশ্লেষকের। লুইজিয়ানার সাবেক কংগ্রেসম্যান ও বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যুরো অব এশিয়ান রিসার্চের পরামর্শক চার্লস বৌস্তানি মনে করেন, এ ধরনের প্রাথমিক চুক্তি সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ও অস্থিতিশীল হয়।

( এসআর /০৬ নভেম্বর ২০১৯)


Comment As:

Comment (0)