শুক্রবারের মধ্যে সমঝোতা না হলে আসন্ন সব সিরিজ বয়কট করবে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররা

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে দেশটির ক্রিকেটারদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন। এর পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের সদস্যসহ প্রায় ২৭০ ক্রিকেটাররা কার্যত বেকার হয়ে যান। বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই অচলাবস্থার কবে নাগাদ শেষ হবে তা নিশ্চিত করা কিছুই বলা যাচ্ছে না।

তবে দেশটি ক্রিকেটারদের সংগঠন (এসিএ) ঘোষণা দিয়েছে, আগামী শুক্রবারের মধ্যে যদি চুক্তি বা সমঝোতা না হয় তবে আসন্ন সব সিরিজ বয়কট করবে ক্রিকেটাররা।

দেশটির ‘এ’ দলের অধিনায়ক উসমান খাজার বরাত দিয়ে এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সমঝোতা চুক্তি না হলে ১২ জুলাই শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে না অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দল।

উসমান খাজা বলেছেন, সফর বয়কট করা মোটেও সহজ কিছু নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি সত্যিই ক্রিকেট খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। অনেক দিন হলো খেলিনি। বাকিরাও নিশ্চয়ই তা-ই চায়। কিন্তু আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমরা তবু অনুশীলনে যোগ দিচ্ছি। আমরা আমাদের কাজটা চালিয়ে যাব, প্রস্তুত হব। আশা করি, এর মধ্যে কিছু একটা সমাধান বের হবে। কিন্তু তা না হলে আমাদের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

উসমান জানান, আগামীকাল দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটাররা সবাই হাজির হবেন ব্রিসবেনে। মঙ্গলবার থেকে শুরু অনুশীলন।

বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তার ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশে ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট সূচিতেও।

এসিএর প্রধান নির্বাহী অ্যালিস্টার নিকলসন বলেছেন, প্রথমেই যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বয়কট করা হবে। তবে তা যদি করতেই হয় তবে সেটি হবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের জন্য ভয়ানক ক্ষতির।

সেই সিদ্ধান্ত যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর বয়কট করা হবে, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন সফরটা ‘এ’ দলের হলেও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের জন্য তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেটাররা জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যে অন্তত সমঝোতা চুক্তি না হলে সফরে তারা যাবেন না।

আসছে ১২ জুলাই থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে ‘এ’দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’দলের একটি সিরিজ শুরুর কথা রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজ উপলক্ষ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড মনীষ পাণ্ডেকে রেখে ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করে দিয়েছে।

এর পরই আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া মূল দল টেস্ট খেলতে আসবে বাংলাদেশে। তবে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তির অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশে মূল দল আসতে পারবে কিনা তা নিয়ে নিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

অস্ট্রেলীয় সংবাদ মাধ্যম এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ১০ আগস্ট অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের ডারউইনে সমবেত হওয়ার কথা। সেখানে অনুশীলন শেষে ১৮ আগস্ট ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে অসিদের। হাতে দেড় মাস সময় হাতে থাকলেও এই সফর নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

খবরে বলা হয়েছে, বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি না হলে খেলোয়াড়েরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বদলে ঘরোয়া লীগগুলোতে খেলবেন। আগামী ৪ আগস্ট থেকে শুরু হবে ক্যারিবীয় লীগ সিপিএল। চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অথচ এই সময়টাতেই বাংলাদেশে আসার কথা অসিদের।

তাই চুক্তির বিষয়ে এর মধ্যে কোনো সুরাহা না হলে বাংলাদেশ সফর বাদ দিয়ে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররা সিপিএল খেলতে চলে যেতে পারেন বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ, ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ২০০৬ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফর করেছিল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল। এরপর ১০ বছরের বেশি সময় পার হলেও টেস্ট র্যাং কিংয়ের সামনের কাতারের দলটির বিপক্ষে আর কোনো টেস্ট খেলা হয়নি টাইগারদের।

২০১৫ সালের অক্টোবরে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে দুইটি টেস্ট খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল। কিন্তু সেবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ইস্যু করে সে সফর বাতিল করে নেয় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড।

এরপর দেশের মাটিতে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। সে টুর্নামেন্ট থেকেও নিজেদের দল প্রত্যাহার করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদাহরণ তৈরি করে বাংলাদেশ।

ওইসব টুর্নামেন্ট এবং সিরিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে নজর দিয়ে বার বার অস্ট্র্রেলিয়াকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছিল বিসিবি। অবশেষে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

(এমআর/ ০২ জুলাই ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)