টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের অনুমোদন দিলো আইসিসি

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: টি-২০’র দ্রুত জনপ্রিয়তার পর পাঁচদিনের ফর্মেটের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আজ দীর্ঘপ্রতিক্ষীত নয় জাতির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের অনুমোদন দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ড সভায় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ ছাড়াও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি এবং এবং চারদিনের টেস্টেও বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আইসিসি প্রধান নির্বাহি ডেভিড রিচার্ডসন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের কাছে অগ্রাধিকারের বিষয় ছিলো একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্থবহতা ও বিশেষ করে টেস্ট অঙ্গনের উন্নতি।’

অনুমোদিত সূচি অনুযায়ী ২০১৯ সালে শুরু হবে টেস্ট লীগ এবং নয়টি দল এতে অংশ নেবে। দুই বছরে দলগুলো ছয়টি করে সিরিজ খেলবে যার মধ্যে তিনটি হবে দেশের মাটিতে এবং অপর তিনটি হবে এ্যাওয়ে। লেিগর শীর্ষ দুই দল লর্ডসে ফাইনাল খেলবে।

ধুমধারাক্কা ও বিগ হিটিং টি-২০ ভার্সনের দ্রুত অগ্রগতির বিষয়টি বিচেনা করে দর্শক ও টেলিভিশনে লংগার ভার্সনের জনপ্রিয়তা বাড়াতে বেশ কয়েক বছর যাবত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের প্রয়োজনীয়তার কথা বওে আসছে আইসিসি।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের ধারণা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে ১৯৯৮ সালে প্রথমে একটি কমিটি গঠন করেছিল আইসিসি। ২০১০ সালের পর দু’বার একটি লীগ কমিটি গঠনও করা হয়েছিল। তবে কতিপয় দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন শংকা থেকে এখন পর্যন্ত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ আরোর মুখ দেখেনি।
আইসিসি চেয়ারম্যান শশাংক মনোহর বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট থেকে বেড়িয়ে নতুন ধারা আনাটা নতুন চ্যালেঞ্জ নয়। তবে এবারই প্রথম একটি সত্যিকারের সমাধানে সকলের সম্মতি পাওয়া গেছে।’

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ গ্রহণকারী নয়টি দেশ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) প্রধান জেমস সাদারল্যান্ড এ সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে একটি সত্যিকারের ‘তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এটা একটা তাৎপর্যপূর্ণ’ অগ্রগতি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিষয়ে আইসিসি এবং সদস্য দেশগুলো একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়েছেন। এভাবেই আমরা খেলাটির তিন ফর্মেটের অগ্রগতি দেখতে চাই।’

-তৃতীয়বার- সৌভাগ্য-

ইতোপুর্বে দুইবার পদক্ষেপ নেয়া হলেও বিভিন্ন দেশ ক্ষুদ্ধ হওয়ায় সেটা সম্ভব না হওয়ার পর এই তৃতীয়বার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের বিষয়টি আলোর মুখ দেখেবে বলে আশা করছে আইসিসি।

২০১৩ সালেই এ ভার্সনটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যমান বাণিজ্যিক চুক্তির কারণে সেটা আর মাঠে গড়ায়নি। অর্থাৎ তার পরিবর্তে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন করে বিশ্ব ক্রিকেটের নির্বাহি সংস্থা।

এরপর ২০১৭ সালের জুন মাসে শুরুর পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু ভারতসহ খেলাটির কতিপয় পাওয়ারব্রোকারদের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর ক্ষতি হবে উল্লেখ করে তারা প্রস্তাবিত দুই স্তরের লীগের বিরোধিতা করে।

অবশ্য টেলিভিশন কোম্পানীগুলো থেকেও খুব একটা আগ্রহ দেখানো হয়নি।
ক্রিকেটের প্রধান ভিত্তি টেস্ট ভার্সন হলেও বিশেষ করে আকর্ষনীয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) কারণে এশিয়ার মাটিতে এটা তেমন একটা শক্ত ভিত্তি পাচ্ছেনা।

টেস্ট ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে সম্প্রতি দিবা-রাত্রির ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে।
অকল্যান্ড সভায় পরীক্ষামূলকভাবে চারদিনের টেস্ট আয়োজনের বিষয়েও সম্মতি দেয়া হয়। আগামী ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে পরীক্ষামুলকভাবে প্রথম চার দিনের টেস্ট খেলবে।

২০২০ সালে ১৩ জাতির একটি ওয়ানডে লীগও শুরু করবে আইসিসি। এ লীগের ফল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বিবেচনা করা হবে।

(এমআইআর/ ১৪ অক্টোবর ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)