মঞ্জুরুল

মার্জিন রুলস আইন-১৯৯৯ এর ফাঁকফোকর দূর করা উচিত

মঞ্জুরুল আলম: আমরা ২০১০ সালে লক্ষ্য করেছিলাম অনেক বেশি ঋণ প্রদানের কারণে মার্কেটে একটি ইকুইটি নেগেটিভ সৃষ্টি হয়েছিল। সেকারণে মার্কেটে যখন পতন ঘটে, তখন ইকুইটি নেগেটিভ এর বিষয়টি অনেক পরিমাণে বেড়ে যায়। কারণ, তখন ঋণের পরিমাণ বেশি ছিল এবং ইকুইটির পরিমাণ কম ছিল। যেকারনে পতনের পরে তাদের ইকুইটি নেগেটিভ হয়ে যায়। যাতে দেখা যায়, একজন বিনিয়োগকারী হয়তো একটি শেয়ারে লোকসান হয়েছে, কিন্তু একটি ইনস্টিটিউশনের তিনটি শেয়ারের পরিমাণ লোকসান হয়েছে। যে কারণে সেই পতনের পরে অতিরিক্ত সুদ ও ফোর্স সেল না করার কারণে এখনো অনেক ইনস্টিটিউশনের ইকুইটির নেগেটিভ থেকে পজিটিভে ফিরে আসতে পারেনি।

আমাদের মার্জিন রুলস আইন ১৯৯৯ মধ্যে কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে। সেখানে ফোর্স সেল বিষয়ে স্পষ্টিকরণের অভাব আছে। এছাড়া ইক্যুইটি নেগেটিভ হলে কিভাবে তারা কাজ করবে- বিষয়ে সম্পূর্ণ নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়নি। আইনের মধ্যে ইকুইটি নেগেটিভ হয়ে গেলে কি করা প্রয়োজন- সে বিষয়ে একটি নির্দেশনা থাকা দরকার ছিল। বিএসইসি চাইলে এটাকে এখনো স্পষ্ট করে দিতে পারে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে যে, বর্তমানে ইকুইটি নেগেটিভ এর যে ঋণ আছে তার বিপরীতে সুদ যোগ হচ্ছে। যেসব ইনস্টিটিউটে নেগেটিভ ইকুইটি রয়েছে তারা তো অবশ্যই ব্যাংক ঋণ করেছে, আর ব্যাংক ঋণের তো সুদ হচ্ছে, সেটা তো আর বন্ধ নেই। তারা যে হারে ঋণ গ্রহণ করেছে তাতে অবশ্যই তার বিপরীতে সুদ দিচ্ছে। তাই এই বিষয়টি থেকে যেন সবাই বেরিয়ে আসতে পারে তার একটি ব্যবস্থা করতে হবে।

আমরা জানি যে, আইসিবি ইনস্টিটিউটগুলোকে ঋণ দিয়ে থাকে যাতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সাপোর্ট দেয়। তা অনেক অল্প পরিমাণ অর্থ। দেখা যাচ্ছে যেখানে হাজার কোটি টাকার বেশি ইকুইটি নেগেটিভ রয়েছে সেখানে তার বিপরীতে ১০০- ২০০ কোটি টাকা পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আইসিবি একটা ফান্ড তৈরি করে এই পুরাটাই নিয়ে নিতে পারে তাদের শেয়ার লিয়েন নেওয়ার মাধ্যমে। দেখা যাচ্ছে ইকুইটি নেগেটিভ কোডে যেসব শেয়ারগুলো রয়েছে সেসব শেয়ারের বিপরীতে পুরো টাকাটা দিয়ে দিবে এবং শেয়ারগুলো তারা নিয়ে নিবে। এতে অতিরিক্ত সুদ দিতে হলো না এবং ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে ইকুইটি নেগেটিভের বোঝা থাকলো না। এতে যারা বিনিয়োগকারী আছে তাদেরকেও ঋণের দায় থেকে মুক্তি দেয়া যাবে। আর আইসিবি পরবর্তীতে যখন মার্কেট ভালো হবে তখন তারা ধীরে ধীরে শেয়ারগুলো বিক্রি করে তাদের অর্থ সংগ্রহ করবে। এতে করে আইসিবির উদ্যোগের মাধ্যমে ইনস্টিটিউটগুলো বিনিয়োগকারী উভয় মুক্তি পাবে এবং বাজারে একটি চাঙ্গাভাব চলে আসবে বলে আশা করা যায়।

লেখক: চীফ অপারেটিং অফিসার (সিওও), এনসিসিবি সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

 


Comment As:

Comment (0)