মিহির স্যার

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর মাস ও বিশ্বায়নের বাংলাদেশ

ড: মিহিরি কুমার রায়: বাংলাদেশ বর্তমানে পাঁচ দশক অতিক্রান্ত করতে চলছে এবং বর্তমান বছরটি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী তথা মুজিব বর্ষ উদযাপনের বছর। বিজয়ের মাসে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরন করছে সেই সব শহীদদের যাদের আত্মত্যাগে এরই মধ্যে অনেক চড়াই - উতরাই পার হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এখন একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে। এখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন সূত্রে গাথা। ১৯৪৭ সালের ব্রিটিশ বিতাড়নের পর থেকেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ছক কষেছেন, আপামর জনগণের মাঝে উদ্দীপনা ছড়িয়েছেন এবং পাকিস্তান নামের কৃত্রিম দেশটিকে বিপর্যস্ত করার অহিংস কৌশল নির্ধারণ করে নিজ বলে বলীয়ান থাকেন যদিও মাঝে মধ্যেই কৌশল পরিবর্তন করলেও তবে মূল লক্ষ্য স্বাধীনতার পথ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে মত পাল্টাননি। সে পথে ১৯৫২তে বাংলা ভাষার আন্দোলন; ১৯৫৪ এর  পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন (একুশ দফা প্রণয়নসহ), ১৯৫৫ সালে গণপরিষদে জোরালো বক্তব্য, ১৯৫৮ সালে সারা দেশে প্রতিশ্রুত সাধারণ নির্বাচন না দিয়ে সামরিক আইন জারি ও গ্রেফতারসহ শেখ মুজিবের ওপর অত্যাচারের খড়্গ চালানো; ১৯৬২ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কাছে পত্র পাঠানো এবং ১৯৬৩ সালের মার্চে আগরতলা গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মারফত একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা ও লন্ডনে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন করা হলে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা; ১৯৬৩ সালে ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে স্বাধীনতার বিষয়ে আলোচনা; রাজনীতির বাইরে বুদ্ধিদীপ্ত দেশপ্রেমিকদের নিয়ে ‘নিউক্লিয়াস’ গঠনের দাবি, ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের লাহোরে বাংলা ও বাঙালির মুক্তিসনদ এবং প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার ইশতেহার ছয় দফা ঘোষণা; ১৯৬৮-৬৯-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসে অবলীলাক্রমে ‘নওজোয়ান, নওজোয়ান বিশ্বে জেগেছে নওজোয়ান’ কোরাস গাওয়া’; ১৯৬৯-এর অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান, প্যারোলে পিন্ডির আইয়ুব খানের আহূত গোলটেবিল বৈঠকে যোগদানের অস্বীকৃতি,  স্বাধীনতা-মুক্তির দীপ্তশিখা বাঙালির হৃদস্পন্দন মুজিবের মুক্তি এবং কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ অভিধায় ভূষিত হওয়া; অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তায় বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বাধীনতার দীপন হিসেবে সত্তরের নির্বাচনের প্রস্তুতি; ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর ভয়াল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উপকূলীয় এলাকায় দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন; শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের পাকিস্তান গণপরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে সাতটি সংরক্ষিত নারী আসনসহ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টিতে বিজয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন; ১৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রস্তাবিত তারিখের পরিবর্তে ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাজধানীর নিয়মিত ক্রমের ঢাকায় গণপরিষদের অধিবেশন ডাকা; অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণায় বাংলাদেশে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি; অসহযোগ আন্দোলন; ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং তার অনুপস্থিতে কীভাবে স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ চলবে তার সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রদান; আওয়ামী লীগের যুদ্ধ মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু নির্দেশিত পথের কৌশল নির্ধারণ এবং বর্বর বাহিনী কর্তৃক ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগসহ ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অগ্নি, হত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসলীলা শুরু করা এবং ২৫-২৬ মার্চের রাত ১২টা ১ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার পর পরই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার সংবাদ কমবেশি সবারই জানা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম বঙ্গবন্ধুর নামে, আদর্শে এবং নির্দেশিত ছকেই সংগঠিত হয়। সগৌরবে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরলেন এবং তিন বছরের অধিক সময়ে যুদ্ধবিদ্ধস্ত অর্থনীতিকে পূণ:গঠনের চেষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ১৯৭৫ এর ১৬ই আগষ্ট একদল বিপথগামী সেনা সদস্যদের দ্বারা বঙ্গবন্ধু পরিবার সহ শহিদ হন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেচে যান যারা বর্তমানে দেশ পরিচালনার নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

বিগত ৫০ বছরে দেশটির অর্জন অনেক যা বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক সফল নেতৃত্বের ফসল। পৃথিবীর পাঁচটি সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০২০ সালে ৪.৪ শতাংশ (আইএমএফ), ৬.৮ শতাংশ (এডিবি) প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ইকোনমিস্ট সাপ্তাহিকীর মতে, (১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সংখ্যা) বাংলাদেশ সে বছরই জিডিপি  বৃদ্ধির দিক থেকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে। ওই সাময়িকীতে আরও বলা হয় যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি আয় ভারত ও পাকিস্তানের সম্মিলিত রফতানি আয়ের সমতুল্য। এর পরেও আমাদের প্রাপ্তি কোন অংশে কম নয়। ৫০ বছরে বিশেষ করে গত ১৩ বছরে অর্জনের তালিকা বেশ লম্বা। প্রবৃদ্ধি আর সামাজিক রূপান্তরের পাশে যে বিশাল অর্জন এল তা হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে ভাষা বাংলার স্বীকৃতি। বিশ্বব্যাংকের অন্যায়ভাবে ঋণ বাতিল করে জনবন্ধুর কণ্যা শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থাৎ মডেল নকশা, করিগরি, ব্যবস্থাপনা ও শ্রমজীবী নিয়ে প্রায় চার মাইল লম্বা পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন, তাতে বিশ্ববলয়ে দেশের ভাবমূর্তি অনেক অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। অতিরিক্ত অগ্রাধিকারে রেলের কাজ ত্বরান্ব্বিত করে জুন ২০২২-এ যদি একযোগে সেতু, সড়ক ও রেলপথ চালু হয় তাহলে অর্থনৈতিক সংযুক্তির মাধ্যমে বার্ষিক সামষ্টিক আয় প্রবৃদ্ধিতে ১.০২২ থেকে ১.০৭ শতাংশ যোগ হবে; হবে কর্মসংস্থান; পণ্যের বেশি মূল্য পাবেন কিষান-কিষানীরা, পর্যটনের ঢেউ আসতে পারে। প্রতি বছর দারিদ্র্য হ্রাস পাবে ০.৪৮৪ থেকে ১ শতাংশ। কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, বাংলাদেশব্যাপী নদী ড্রেজিং, রেলের ব্রডগেজীকরণ ও বিদ্যুাতায়ন ইত্যাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক রূপান্তরে আরো গতি আসবে। মহান স্বাধীনতার পরেই কিন্তু অর্জনের দিক থেকে শীর্ষস্থানে আছে জাতিসংঘসহ বিশ্বময় শেখ হাসিনার অকুতোভয়, উদ্ভাবনী এবং অসাধারণ নেতৃত্ব। এটি পদ্মা সেতু নির্মাণের পর আরো বেড়েছে, যেমনটি ইতিবাচক হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিয়ে বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, কৃষি খাতে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য বিশ্ব দরবারে বারবার আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সমগ্র বিশ্বের নিকট প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র্র্য দূরীকরণে সাফল্য, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সালের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে—ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনোমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের ওয়ার্ল্ড লিগ টেবিল ২০২১ রিপোর্টে। রিপোর্ট অনুযায়ী উন্নয়নের চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১৫ বছর পর বিশ্বের ১৯৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান হবে ২৫তম। 

বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছেন; সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের মাধ্যমে, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করার মাধ্যমে এবং খাদ্যঘাটতির দেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত করার মাধ্যমে। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক পথ-পরিক্রমায় মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একদিকে যেমন তিনি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন; তেমনি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য উল্লেখযোগ্য এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করেছেন। বাংলাদেশ এখন দ্রুত উন্নয়নশীল প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে একটি। জলবায়ুর ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ নামের শতবর্ষের একটি পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। রূপকল্প-২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নের পথে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। ভারতের সঙ্গে ৬৮ বছরের অমীমাংসিত স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলের মানুষ অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে। ১১১টি ছিটমহলের ১৭ হাজার ৮৫১ একর জায়গা বাংলাদেশের সীমানায় যুক্ত হয়েছে। সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্লু - ইকোনমির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৮ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশের সীমানায় যুক্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বিজ্ঞানের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিদ্যুৎ-চালিত বুলেট ট্রেন স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ফোর জি মোবাইল প্রযুক্তি চালু, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট, অনলাইনে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও ভর্তি প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডার প্রবর্তন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, ই-কমার্স প্রভৃতির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তব। তার পরও বিশেষ করে আয়, সম্পদ ও সুযোগ বৈষম্যে, দুর্নীতিতে এবং অর্থনৈতিক খাতে বিশৃঙ্খলার ব্যর্থতা সেই অর্জনের ঔজ্জ্বল্যকে বেশ খানিকটা ম্লান করেছে। বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত এবং প্রদর্শিত পথে যে কাজ করা হয়নি, তার একটি হচ্ছে সমবায় ব্যবস্থা প্রবর্তন।  তার পরও বর্তমানে মোট রফতানির ৮২ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতের অবদান, ৪০ লাখের বেশি শ্রমজীবী এ খাতের পেশায় নিয়োজিত রয়েছে যার আশি ভাগই নারী শ্রমিক। সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন বাংলাদেশে আমদানি ব্যয়ের চেয়ে রফতানি আয় বেশি হবে। বিজয়ের পাচ দশকের সন্ধিক্ষনে এসে আমরা বিশ্বসভায় অন্য এক মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত।

লেখক: গবেষক ও অর্থনীতিবিদ।


Comment As:

Comment (0)