করোনা নিয়ে গবেষণার ফলাফল কি?

বিদায়ী বছর ২০২১: কেমন গেলো দেশের অর্থনীতি

: মিহির কুমার রায়: বিদায়ী বছরটি অনেক দিক থেকে উল্লেখযোগ্য ছিল  বলা যায়। যেমন- এটি ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ ( মুজিব বর্ষ) পালনের বছর, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর, মুক্তিযুদ্ধ ৫০তম বছরে পদার্পণনের বছর, ধারাবাহিকভাবে  ক্ষমতাসীন  বর্তমান সরকারের এক যুগপূর্তি, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (জুলাই ২০২০- জুলাই ২০২৫) ঘোষণার বছর

 

তারপরও কেমন গেলো দেশের অর্থনীতি- প্রশ্নটি বারবারই আসে। আর  মূল্যায়নে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী পণ্য জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। যে কারণে বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে। ফলে এর প্রভাব গিয়ে পড়েছে পণ্য সেবা খাতে। বছরজুড়ে মূল্যস্ফীতি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তবে যে কোনো মূল্যে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্ঠা চলছে-  যা সম্ভব না হলে মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

বছরের শুরুতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মহামারি মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউনের আঘাত লাগে প্রবৃদ্ধির গতিতে। যে কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা . শতাংশ থেকে নামিয়ে . শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে .৪৭ শতাংশ।

 

করোনার কারণে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগেও খুব বেশি আশার সঞ্চার হয়নি। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহও কম ছিল। রেমিট্যান্স খাতেও নেতিবাচক ধারা বইছে। তবে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কিছুটা গতি ফিরছে। স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসতে শুরু করেছে আমদানি রপ্তানি। রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিতেও বইছে ইতিবাচক ধারা।

 

বাংলাদেশের অন্যান্য সূচকের  মধ্যে রপ্তানি আয় কিছুটা বেড়েছে, রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি বাজেট বাস্তবায়ন আগের বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। বছরের শেষদিকে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা গেলেও করোনার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। উৎপাদন, ভোগ, আমদানি-রপ্তানি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যাংক আর্থিক খাত, প্রকল্প বাস্তবায়ন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা মুদ্রাস্ফীতির মতো সূচকে যে প্রত্যাশা ছিল, তার চেয়ে অর্জন কম হয়েছে।

 

সরকারি হিসাবে ২০২১ সালে এক কেজি আটায় ২৪.১৪ শতাংশ, ময়দায় ৩৭.৩৮ শতাংশ, সয়াবিন তেলে ৩৯.৭১ শতাংশ, পাম অয়েলে ৪২.৬২ শতাংশ মসুর ডালে বেড়েছে ২৯.৬৩ শতাংশ হারে দাম বেড়েছে। আবাব তার সাথে যোগ হয়েছে পরিবহণ ভাড়া।

 

এদিকে চলতি বছর মার্চে দেখা দেয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, তা মোকাবিলা করতে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু মহামারিতে ক্ষুদ্র আয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কর্ম হারিয়ে চরম দরিদ্র লোকের সংখ্যা ২২ শতাংশে নিয়ে যায়।

 

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এই প্রণোদনা বড় শিল্প-কারখানায় ব্যাংকগুলো সন্তোষজনকভাবে বিতরণ করলেও, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা নানা জটিলতায় তা গ্রহণ করতে পারেননি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে আড়াই মাসে প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন শতাংশের কম হয়েছে।  এর মধ্যে শিল্প সেবা খাতে বাস্তবায়ন .৫৬ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বাস্তবায়ন .৩৮ শতাংশ। এদিকে কলকারখানায় উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও সেগুলো ১০০ ভাগ সক্ষমতায় চলছে না। শিল্প-কারখানায় নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে খুবই কম। সেজন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিও কম হয়েছে। চালু শিল্প-কারখানাগুলো টিকে থাকার জন্য চেষ্টা করছে। এদিকে বছরের শেষ মাসে অর্থনীতি ধীরে ধীরে চাঙা হয়েছে। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাজেট থেকে টাকা খরচ করা হয় লাখ ৩২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে ব্যয় হয় লাখ ২৪ হাজার ১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ সময় খরচের পরিমাণ বেড়েছে হাজার ৮৬০ কোটি টাকা।

 

এদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরায় রাজস্ব খাতেও আদায়ের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। গত পাঁচ মাসে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে লাখ ২৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। জুলাই-নভেম্বর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ঘাটতি মেটাতে এখন সবচেয়ে বেশি ঋণ নেওয়া হচ্ছে ব্যাংকিং খাত থেকে। গত বছর সময় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয় ১২ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। অথচ বছর সেটি ১৯ হাজার ৭৬২ কোটি টাকায় পৌঁছে গেছে। ঋণ নেওয়া অপর খাত সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। যা গত বছর ছিল ১৯ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। এদিকে বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্যতা কমেছে। করোনার কারণে অনেক দেশ আগের মতো ঋণ সহায়তা দিচ্ছে না। কারণ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি দেশ নিজস্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত। যে কারণে বৈদেশিক ঋণ কম পাওয়া যাচ্ছে। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া পরিমাণ হল হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। যা আগের বছরে একই সময়ে ছিল হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা . শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও এটি শেষ বাড়িয়ে . শতাংশে উঠতে পারে এমন আশঙ্কা করছে অর্থ বিভাগ।

 

অর্থনৈতিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো দেশের আমদানি-রপ্তানি। যদিও করোনা মহামারির আগে থেকেই দেশের আমদানিতে নেতিবাচক অবস্থা বিরাজমান ছিল। করোনার কারণে দেশে ব্যবসা মন্দা হওয়ায় আমদানিতে ধস নামে। বাংলাদেশের মোট আমদানির ২৬ শতাংশ আসে চীন থেকে। করোনার প্রাথমিক পর্যায়ে আমদানির অনেকাংশ কমে যায়। অবশ্য পরবর্তী পর্যায়ে চীন থেকে আমদানি সচল হয়। বর্তমান আমদানি ব্যয়ে রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে। গত অক্টোবরে ৭১১ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে। যা গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে ৬২ .৫০ শতাংশ বেশি। এর আগে কখনোই এক মাসে পণ্য আমদানিতে এত বেশি অর্থ ব্যয় হয়নি। এর আগে সেপ্টেম্বরে ৬৯৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়। আগস্টে আমদানি হয়েছিল ৬৫৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের পণ্য। গত জুলাই-অক্টোবর সময়ে মোট দুই হাজার ৫৮৩ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছেএদিকে জুলাই থেকে নভেম্বরে রপ্তানি বাণিজ্য থেকে হাজার ৯৭৯ কোটি ডলার আয় হয়েছে। সময় রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪.২৯ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে রপ্তানি আয় হয় হাজার ৫৯২ ডলার

 

বিদায়ী বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সময় জাতীয় গড় মূল্যস্ফীতি - শতাংশের মধ্যেই ওঠানামা করেছে। যদিও সময় দানাদার খাদ্যশস্য, বিশেষ করে চালের মূল্যস্ফীতির হার প্রায় সাড়ে ১২ থেকে শুরু হয়ে ১৫ শতাংশও ছাড়িয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে জাতীয় মূল্যস্ফীতির চেয়ে চালের মূল্যস্ফীতি ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। কখনো কখনো তা তিন গুণের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গড় মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চে উঠেছিল জুনে। ওই সময় গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল দশমিক ৬৪ শতাংশ। যদিও সময় চালের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। পরের মাস জুলাইয়ে গড় মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমে দশমিক ৩৬ শতাংশে নামলেও চালের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ৮২ শতাংশে। এছাড়া এপ্রিল মে মাসে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল যথাক্রমে দশমিক ৫৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। যদিও দুই মাসে চালের মূল্যস্ফীতির হার ছিল যথাক্রমে ১২ দশমিক ৪৫ ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে আগস্ট সেপ্টেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল যথাক্রমে দশমিক ৫৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। চালের মূল্যস্ফীতির হার ছিল যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৬২ ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপে উঠে এসেছে, দেশে খানাপিছু গড় মাসিক আয় ১৫ হাজার ৯৪৫ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশই যায় খাদ্য কেনায়। দরিদ্র প্রান্তিক পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে মাসিক মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় হয় খাদ্যের পেছনে। আবার জনগোষ্ঠীর চাল ভোগের পরিমাণও অন্যদের চেয়ে বেশি। দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চালের মাথাপিছু দৈনিক ভোগ ৪৭০ গ্রাম, যেখানে অন্যদের ক্ষেত্রে তা ৩৬৬ গ্রাম। প্রধান খাদ্যশস্যটির মূল্যস্ফীতির বোঝাও আবার তাদের জন্যই সবচেয়ে ভারী হয়ে দেখা দেয় বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

 

বিবিএসের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজধানীতে প্রতি কেজি নাজিরশাইল মিনিকেটের গড় দাম ছিল ৬৮ টাকা ১৫ পয়সা, যা চলতি অর্থবছরের আগস্টে ৬৯ টাকা ৫০ পয়সা, সেপ্টেম্বরে ৬৯ টাকা ৭৩ অক্টোবরে ৬৯ টাকা ৭৭ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। গত অর্থবছরে বোরো ধানের চালের গড় দাম ছিল ৫২ টাকা পয়সা। সেখান থেকে বেড়ে আগস্টে তা ৫২ টাকা ৮৬ পয়সা, সেপ্টেম্বরে ৫২ টাকা ৯৭ অক্টোবরে ৫৫ টাকা ৯৯ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

 

হঠাৎ করেই দাম বাড়ছে পেঁয়াজের। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজে মানভেদে থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) গতকাল তাদের প্রতিবেদনে দাম বাড়ার বিষয়টি জানিয়েছে। শুধু পেঁয়াজই নয়, দাম বাড়ার তালিকায় আরও রয়েছে ভোজ্য তেল, ব্রয়লার মুরগি, ডিম, আদা, হলুদ রসুন। এদিকে হঠাৎ করে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।

 

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। আর ভারতেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি। গত সপ্তাহে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬৫ টাকা আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। যা এর আগের সপ্তাহে ছিল যথাক্রমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা।

 

টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে দেশি পেঁয়াজের দাম ৩২. ১৮ শতাংশ আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম ১৭ .৬৫ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দর বেঁধে দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না ভোজ্য তেলের বাজার। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সয়াবিন তেল পাম অয়েলের দাম আরও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলে থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৬৮০ থেকে ৭২০ টাকা এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলে টাকা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এই দর দেশের ইতিহাসে খুচরায় সয়াবিনের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ২০১২ সালের মাঝামাঝিতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৩৫ টাকায় উঠেছিল।

 

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন পাম অয়েলের দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

 

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই সময়ে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে। লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম ছিল ৪৬০ থেকে ৫১০ টাকার মধ্যে। এক লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯৩ টাকায়। আর প্রতি লিটার সুপার পাম অয়েলের দাম ছিল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা। আর  এখন বাজারে প্রতি লিটার সুপার পাম অয়েল ১২৮ থেকে ১৩৫ টাকায় খোলা সয়াবিন তেল ১৩০ থেকে ১৩৬ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি লিটার সুপার পাম অয়েলের দাম ১১৬ টাকা প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের দাম সর্বোচ্চ ১২৯ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত সরিষা, সূর্যমুখীসহ অন্যান্য তেলবীজ থেকে সোয়া দুই লাখ টন তেল পাওয়া যায়। বাকিটা আমদানি করতে হয়। মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা থেকে এই তেল আমদানি করা হয়।

 

আশার খবর  হচ্ছে, দেশে বছর মাথাপিছু আয় বেড়েছে- যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে মানুষের গড় মাথাপিছু আয় বর্তমানে ২৫৫৪ মার্কিন ডলার, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ২২২৭ ডলার, গড় মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩২৭ ডলার, যার বর্তমান বাজার মূল্যে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৯ হাজার ৪৩০ টাকা।

 

সার্বিক বিবেচনায়, আসন্ন নতুন ইংরেজী বছর ২০২২ সালে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখার সর্বাত্নক চেষ্ঠা অব্যাহত রাখতে হবে। সংশ্লিষ্টদেরকে এ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। তানাহলে সাধারণ মানুষের দুরবস্থা আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

লেখক : অর্থনীতিবিদ গবেষক।

 

বিনিযোগবার্তা/এমআর/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)