সুদের হারে ব্যাংক মুনাফায় প্রভাব

জেলা প্রশাসক সম্মেলন কি বার্তা দিয়ে গেলো

ড: মিহির কুমার রায়: বিগত ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, মঙ্গলবার তিন দিনের ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে প্রধানমন্ত্রী বলেন সেবার মনোভাব নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় তথা উন্নয়নের দিকে বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যায়। সত্যিকার অর্থে এবারের সম্মেলনের প্রধান বিষয় ছিল জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করা যেখানে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড- ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টিতে। তাছাড়াও অন্যান্য আরও নির্দেশনা ছিল যেমন- করোনা সংকট মোকাবিলা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে নেওয়া উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সেবা প্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জন, এসডিজি স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে তৎপরতা জোরদার, গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শিক্ষায় অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো যেন কার্যকর থাকে তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান, শিশু কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীলতার চর্চা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রেখে চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করন ইত্যাদি। প্রধানমন্ত্রী আরও নির্দেশনা দিয়েছেন- ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় অনলাইনে বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠদান কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।’ এসব কাজে শিক্ষা কর্মকর্তাদেরও সংযুক্ত করা প্রয়োজন।

এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে করোনাকালে যখন কভিড-১৯ এর নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে জনসচেতনতা গড়ে তোলার  প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রতি বছরের মত সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৪ থেকে ১৮ জুলাই জেলা প্রশাসক সম্মেলন হয়েছিল। এরপর করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীর কারণে গত বছর (২০২০ ও ২০২১) জেলা প্রশাসক সম্মেলন হয়নি এবং চলতি বছরের ৫ থেকে ৭ জানুয়ারি ডিসি সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারনে তা স্থগিত করা হয়। সাধারণত প্রতি বছর জুলাই মাসে ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করার রেওয়াজ রয়েছে। ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রথম বারের মতো প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান, জাতীয় সংসদের স্পীকারের সঙ্গে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা বৈঠক করেন। ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের কার্য-অধিবেশন, এছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত, স্পীকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত ও একটি সমাপনী অনুষ্ঠান থাকে। কার্য অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকেন। সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা লিখিতভাবে মাঠ প্রশাসনের সমস্যাগুলো নিয়ে প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। অধিবেশনের সময় এগুলো ছাড়াও ডিসিরা তাৎক্ষণিক বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এটি একটি রুটিন ওয়ার্ক হলেও এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দেশের সার্বিক প্রশাসনিক চিত্র পাওয়া যায় এবং একই সঙ্গে সিভিল সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ আমলা হিসেবে জেলা প্রশাসকদের মনোভাব সম্পর্কেও সরাসরি একটি ধারণা পাওয়া যায়।

এবারের সদ্যসমাপ্ত  সম্মেলনে ২১টি কার্য অধিবেশনসহ মোট ২৫টি অধিবেশন ছিল এবং কার্য অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এবার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ২৬৩টি প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছিল যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি-সংখ্যক প্রস্তাব এসেছি ভূমি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত (১৮টি); দ্বিতীয় স্থানে ছিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় (১৬টি) এবং তৃতীয়ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত  প্রস্তাব (১৫টি)। জেলা প্রশাসকরা তাদের সম্মেলনে ব্যাপক অর্থে অনেক প্রস্তাব রেখেছেন যেমন শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, জমিজমা থেকে মাদক, খেলাধুলা থেকে মারামারি, নদী ভাঙন থেকে রাস্তায় কীভাবে বাস চলবে ইত্যাদি। সব কিছুতেই ডিসিরা তাদের সরাসরি অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেছেন তা হলে সংসদ সদস্যরা কি করবে? একজন সংসদ সদস্য যদিও আইন প্রণেতা; কিন্তু তিনি তো তার এলাকার প্রকৃত জনপ্রতিনিধিও। তারা কি এসব কথা সংসদে তুলে ধরেন না বা ধরলেও তাতে কি কোনো কাজ হয় না? সংসদ সদস্যরা কি এগুলো নিয়ে কোনো চিন্তা করেন না? সবই ডিসিদের করতে হবে?

একজন বিভাগীয় কমিশনার প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যাওয়ার সুযোগ চেয়েছেন। বর্তমানে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মিশনে পোস্টিং পেয়ে থাকেন। কিন্তু বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার সেখানে গিয়ে কী করবেন? সবকিছু যাতে ঢাকাকেন্দ্রিক না হয়ে পড়ে সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষমতায়িত করার বিষয়টি নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিতে চান না। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য মাঠ প্রশাসন এখনও অনেক ক্ষেত্রে ‘কেন্দ্রের দিকে’ তাকিয়ে থাকে। এতে সাধারণ মানুষ সরকারী সেবা পেতে বিড়ম্বনা ও দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন যেসব সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারে সেসব। জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন যেসব কাজ নিজেরাই করতে পারে সেগুলো অনেক সময় ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় এবং নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যায়। এর ফলে সবাই হচ্ছে ঢাকাকেন্দ্রিক। এসব বিষয়ে ডিসিদের সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতিয়মান হয় যে জেলা প্রশাসক ও জন প্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষমতা কেন্দ্রীক যে ভারসাম্য তা অনেক ক্ষেত্রেই বিঘ্নিত হয় এবং উভয় পক্ষই আরও বেশী প্রতিনিধিত্ব চান যা ডিসিদের বক্তব্য থেকে বুঝা যায়। যেমন এক: পূর্বে নিয়ম ছিল জেলার বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেনেজিং কমিটির সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু পরবর্তিতে তা পরিবর্তন করে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে সংসদ সদস্যরা তাদের নির্ধারিত লোকদের যাতে নিয়োগ দেয়া হয় সেই প্রচেষ্টার সবটাই করে থাকেন যার সাথে স্থানীয় রাজনীতি জড়িত। ফলে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, এলাকার নিরীহ লোকজন মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো কমিটিতে যাতে কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকে এবং পূর্বের অবস্থায় বজায় থাকুক। কারণ ওই ধরনের পাবলিক প্রতিনিধিদের  থেকে মাঠ পর্যায়ের এসব আমলাকে সাধারণ মানুষ ঢের পছন্দ করেন, তাদের ওপর নির্ভর করা তারা অনেকটাই নিরাপদ মনে করেন। তারই অংশ হিসেবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘নিয়োগ পুল’ গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে। বেসরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধ করার জন্যই এই প্রস্তাব। এবার সম্মেলনে একজন জেলা প্রশাসক সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সিন্ডিকেট এবং পরিচালনা কমিটিতে ডিসিকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন। জেলা পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সার্বিক সমন্বয়ের জন্য এটা প্রয়োজন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময় আন্দোলনের সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ডিসি সহায়তা দিতে পারবে; দুই: প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধি অর্থাৎ সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে কি-না বা বাস্তবায়নও যথযাথভাবে হচ্ছে কি-না সেগুলো সমন্বয় করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প যত্রতত্র যেন না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। কিন্তু  বাস্তবে ডিসিদের দ্বারা এত সকল কাজ করা সম্ভব হবে কিনা তা কতটুকু সম্ভব হবে তা বলা দুষ্কর; তিন: স্বাস্থ্য বিধি সবাই যাতে মেনে চলে তা নিশ্চিত করার তাগিদও পেয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। এখন প্রশ্ন দাড়ায় ডিসিরা নিজ নিজ জেলায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবে এবং জাতী গঠনমূলক সকল দফতর তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবে। সবকিছুই যদি ডিসিদের দেখতে হয় তা হলে তারা নির্বাহী কাজ কখন করবে? মাঠ প্রশাসনে তারা উপজেলাগুলোতে তদারকির সময় পাবে তো? জেলার প্রশাসক হিসাবে গ্রামের মানুষের সাথে ডিসির সংযোগ কিভাবে হবে?; চার: অনেকেই বলে ডিসিরা  সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়নই প্রধান কাজ যদিও তাদের বিধিবদ্ধ অনেক কাজ রয়েছে যা তাদের চাকুরী বিধিতে উল্লেখ রয়েছে। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু প্রশাসনিক কাঠামোতে তাদের অবস্থান রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রভাবান্বিত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সব নির্বাচিত সরকারই জনপ্রশাসনকে  রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে যা কাম্য নয়। এর ফলে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই ডিসিরা বিভিন্নভাবে দন্ডিত হয় চাকুরীতে; পাঁচ: সমালোচকরা বলেন ডিসিরা পদায়ন পান রাজনৈতিক বিবেচনায়, মেধার মানদন্ডে নয় যা বাংলাদেশের সব সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে একটি সংস্কৃতিতে পরিনত হয়েছে। যার ফলে এটি একটি  অর্থনেতিকভাবে লাভজনক পদ হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে যেখানে নৈতিকতার বিষয়টি একটি বিবেচ্য বিষয়। নিশ্চয়ই বিসিএস (প্রশাসক) ক্যাডারের কর্মকর্তারা সি.এস.পি./ইপিসিএস ক্যাডারের মত  মানসম্মত হবে না যার একটি প্রতিফলন ঘটবে তাদের সার্বিক কার্যক্রমের উপর সেটাই স্বাভাবিক যা ৫০ বছরের বাংলাদেশের একটি বাস্তব প্রতিবিম্ব। তারা না পারছে অফিস কিংবা মাঠ প্রশাসন সামলাতে যার সাথে যুক্ত হয়  জনপ্রতিনিধি (এমপি, উপজেলা/মিউনিসিপালিটি/ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান)’দের প্রভাব। যার ফলে প্রধানমন্ত্রীর ২৪টি নির্দেশনা  বাস্তবায়নে কতটুকু সফলকাম হবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে জাতি আশা করে মুজিববর্ষে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে দেশে একটি জনবান্ধব দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন মাঠপর্যায়ে গড়ে উঠোক যা এই সম্মেলনের মূখ্য উদ্দেশ্য। তিনদিনের এ সম্মেলন শেষে জেলার প্রশাসকগণ ফিরে গেছেন তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে এবং প্রত্যাশার বিষয় হলো মাঠ পর্যায়ের সম্পর্কে সরকারের উপলব্ধির পরিসর বাড়াতে জেলা প্রশাসকগণ অবদান রাখবেন যা  সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জেলা প্রশাসকদের করণীয় কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করবে।

লেখক: গবেষক ও অর্থনীতিবিদ, সিটি  ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।


Comment As:

Comment (0)