বেকারত্ব দূরীকরণ ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে বিদেশী শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করা জরুরী

পানির মান রক্ষায় বহুস্তর প্রতিরোধ পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন

মুনতাসীর মামুন: বহুস্তর প্রতিরোধ পদ্ধতি হলো উৎস পানি (সের্সো ওয়াটার প্রটেকশন) রক্ষা, ছাকনি (ফিলট্রেশন) এবং শোধন (টিট্রমেন্ট)। পৃথিবীর প্রতিটি উন্নত দেশ পরিবেশ ও পানিসম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে, কারণ এই দুইটি বিষয়ের সাথে জনস্বাস্হ্য সরাসরি জড়িত, বাংলাদেশে এই দুটি মন্ত্রণালয়সহ স্হানীয় সরকারের সংস্হাগুলো এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, যার ফলে রোগ বালাই ও পরিবেশ দূষন বেড়েই চলছে।

পানি জীবনের অত্যন্ত অপরিহার্য অংশ যা ছাডা এক মূহু্র্তও চলে না। পানি পান করা, মুখ হাত  ধুয়া, গোসল করা, বাথরুম করা, রান্না করা, ওষুধ ও খাবার তৈরি থেকে শুরু করে এমন কিছু নেই যাতে পানির দরকার পড়ে না। আর সে পানি যদি দূষিত হয় তার প্রভাব সরাসরি জনস্বাস্হের উপর পড়ে। 

প্রতিটি উন্নত দেশেই পানির গুণগত মান রক্ষায় স্বাস্হ্য, পরিবেশ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্হানীয় সরকারের সংস্হাগুলো যৌথভাবে কাজ করে। কারণ মানবদেহে যত ধরনের রোগ বালাই আছে তার অধিকাংশই পানি বাহিত, ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ, বি ও সিসহ প্রায় ৪০ ধরনের রোগ দূষিত পানি পানে অথবা দূষিত পানিতে খাবার প্রস্তুত, হাত-মুখ ও থালাবাসন ধোয়া এবং গোসল করার কারণে হয়ে থাকে। 

এই সব রোগ নিরাময়ে সরকারের পাশাপাশি জনগণ দেশে ও বিদেশে যেয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে, তাই পানির দূষন রোধ করা গেলে এই অপচয় অনেকাংশেই হ্রাস করা সম্ভব, দরকার প্রয়োজনীয় আইন তৈরি ও তার কঠোর বাস্তবায়ন করা।

 স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার মানদণ্ড অনুযায়ী পানের পানির মান নির্ধারণ করে দেয়া, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো মনিটরিং ও টেস্টিং এর মাধ্যমে উৎস (Source water ) কাঁচা পানির গুণগত মান রক্ষা এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো নদী, খাল ও বিলের পানিতে কেউ দূষিত বর্জ্য যথা কল কারখানা দূষিত পানি, পৌরসভার ও সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনেজের পানি শোধন ছাডা যাতে ছাড়তে না পারে তা পর্যবেক্ষণ করা ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। 

উল্লেখ্য যে, কলকারখানার বর্জ্যে রয়েছে মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ক্রোমিয়াম, কপার, মার্কাকরি, নিকেল, আর্সেনিক ও লেড (ভেহী মেটাল)।

পানি শোধন ও সরবরাহকারী স্থানীয় সরকারের সংস্থা যথা ওয়াসা, পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ হলো ভাল উৎস হতে পানি সংগ্রহ করে ফিলট্রেশন ও শোধন পূর্বক (ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলনে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে) স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এক্ষেত্রে শোধনের পর শোধনাগারে পানির মান পরীক্ষার করার পাশাপাশি মানুষের ঘরে টেপের পানি সময় সময় পরীক্ষা করতে হবে।

সরবরাহ পাইপে যাতে দূষিত পানি ঢুকতে না পারে তার জন্য পাইপের কোথাও ছিদ্র আছে কিনা তা পরীক্ষা করে মেরামতের ব্যবস্থাকরতে হবে।

উৎসের পানির মান ভালো না হলে শোধনে ব্যবহৃত জীবাণু নাশক ক্লোরিন পানির জৈব উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বাই প্রডাক্ট তৈরি করে, যা পানে মানব দেহে ক্যান্সার রোগের সৃষ্টি করে, এবং পানিতে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী দ্রবিভূত হেভি মেটাল দূরীকরণও  কঠিন কাজ, তাছাডা দূষিত পানি শোধন করতেও কয়েকগুণ বেশি খরচ পড়ে।

 তাই জনস্বাস্হ্য রক্ষা ও হাজার হাজার কোটি টাকার চিকিৎসা ব্যয় , এবং বৈদেশিক মু্দ্রার অপচয় রোধ কল্প জনগণের কাছে সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে উপরে উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট সংস্হারগুলোর মাল্টি ব্যবিয়ার প্রদ্ধতি বাস্তবায়নে যৌথ ও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করার কোনো বিকল্প নেই, এক্ষেত্রে সরকারকে প্রয়োজনীয় আইন তৈরি ও তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্হাগুলোকে সহায়তা করতে হবে।

লেখক: প্রকৌশলী ও গবেষক।

বিনিয়োগবার্তা/এসএল/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)