মিহির০০

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড: আচার্যের ভাষণ ও উচ্চশিক্ষার গতি -প্রকৃতি

ডঃ মিহির কুমার রায়: প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোঃ আব্দুল হামিদ বলেছিলেন - পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিনের বেলায় পাবলিক আর রাতের বেলায় প্রাইভেট। তার অর্থ এই যে তিনি সান্ধ্যকালীন কোর্সের কড়া সমালোচনা করেছিলেন - শিক্ষা নয় বানিজ্য সান্ধ্যকোর্সের মূল উদ্দেশ্য অথচ সান্ধ্যকোর্স চালুর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল যারা দিনের বেলায় নানা কারনে ক্লাস করতে পারবে না তারা যাতে এসব কোর্সে ভর্তি হয়ে পাড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে এটা একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে যা পূর্বে কখনও কল্পনায় আসেনি।

মহামান্য রাষ্ট্রপতির ঘোষনার পর পরই বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জরী কমিশন (ইউজিসি) এর এক দাপ্তরিক নির্দেশে বলা হয় সান্ধ্যকালীন কোর্স পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশিষ্ট ও ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে বিধায় তা বন্ধ হওয়া বাঞ্চনীয়। এর পর পরি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কয়েকটি এই ধরনের কোর্সে আর নতুন করে ছাত্র ভর্তি না করার ঘোষনা দেয়। মাহামান্য রাষ্ট্রপতি পদাধিকার বলে সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে থাকেন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুপারিশক্রমে। অতি সম্প্রতি দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তৃতায় মাননীয় আচার্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান দুর্নীতি, অব্যবস্থা, শিক্ষকদের কাজের অবহেলা, র‌্যাগিংয়ের মত নিষ্ঠুরতা বন্ধে ব্যর্থতা ইত্যাদি নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন সান্ধ্যকোর্স পরিচালনা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পাঠদান তথা গবেষনাসহ মুল কাজের বাহিরে নানা অর্থকারী কাজে জাড়িত থাকা এখন বানিজ্যে পরিণত হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির এসব সমালোচনা জনগনকে কিছুটা হলেও আশাবাদী ও আশ্বস্থ করেছে সত্যি কিন্তু উচ্চ শিক্ষার মান, উপাচার্যদের কার্যকলাপ ও সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়াতে যে আলোচনার ঝড় উঠেছে তাতে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে জাতী চিন্তিত যার একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষনধর্ম্মী আলোচনার প্রয়োজন।

প্রথমে আসা যাক উচ্চ শিক্ষা দিয়ে যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পর্যায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জরী কমিশন তথ্য মতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে প্রায় একশত আটচল্লিশটি এবং সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিটি জেলায় একটি করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টা করা হবে যার সর্বশেষ সংযোজন চাঁদপুর বগুড়া ও হবিগঞ্জ জেলা। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও সারাদেশের উচ্চ শিক্ষার পাদপাঠ এই সকল বিশ্ববিদ্যালযগুলোর উপাচার্য সহ ছাত্র রাজনীতির নামে যে নৈরাজ্য চলছে তা নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে দেশের জাগ্রত সমাজ। শুধু তাই নয় এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান কিংবা বিশ্ব রেংকিং কিংবা আঞ্চলিক রেংকিং এ কোন স্থান করতে না পারা ইত্যাদি দেশের সুশীল সমাজকে হতাশাগ্রস্ত করছে। সাম্প্রতিক কালে দেশের পুরোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স কিংবা উইকেন্ড কোর্স নিয়ে পর্যায়ক্রমে চারটি প্রতিবেদন প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছিল এবং সেই সকল প্রতিবেদনে সান্ধ্যকালীন কোর্সের সাথে যে বানিজ্য জড়িয়ে আছে তার একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য তুলে ধরেছেন যা খুবি ভয়াবহ। যেমন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় উইকেন্ড কোর্স নামে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে ক্লাস পরিচালনা করা হয় যা থেকে বছরে উপার্জন হয় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা যা ৫০:৫০  ভাগ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বনাম প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে। ছুটির দিনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০০ ছাত্র/ছাত্রী জড়ো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো বাসে করে এবং দুদিনে ক্লাস ৯টা থেকে সান্ধ্য এমনকি রাত পর্যন্ত ক্লাস/পরীক্ষা চলে। ২০১১ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি ইনিষ্টিটিউটের মাধ্যমে উইকেন্ড কোর্স্ চালূ হলেও এখন তা চলছে ১৮টি বিভাগ ও ইনষ্টিটিউটে। সাধারণত: এক বছরে তিনটি সেমিষ্টারে সাপ্তাহিক এসব কোর্সের স্নাতকোত্তোর ডিগ্রি দেয় বিভাগগুলো। আবার আইবিএ ও ইংরেজী বিভাগ দু-বছরের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেয় মুলত বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যাক্তি, জাতীয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্মান করা শিক্ষার্থীদের।

এবার আসা যাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসংগে যেখানে ৮৪টি বিভাগ ও ১২টি ইনষ্টিটিউট রয়েছে, যার মধ্যে মোট ৪১টি বিভাগ ও ইনষ্টিটিউট সান্ধ্যকোর্সসহ অন্তত ৮০টি কোর্স পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে কেবল সান্ধ্যকালীন কোর্স রয়েছে ২৫টি বিভাগ ও ১০টি ইনষ্টিটিউটে, যেখানে কেবল ছুটির দিনে শুক্র ও শনিবার বিকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত ক্লাস চলে। প্রতি বছর শিক্ষাথী ভর্তি হন তিন হাজার পাচশত জন এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি কোর্স ফি ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়, যার মাধ্যমে বছরে আয় হয় ৭০-৮০ কোটি টাকা। নিয়ম অনুযায়ী এই টাকার ৬০ শতাংশ শিক্ষকরা পাচ্ছেন আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ হওয়ার কথা ৩০ শতাংশ, বাকি পরিচালনা ব্যয় ১০ শতাংশ। সান্ধ্যকোর্সে ক্লাস নেওয়া শিক্ষকেরা প্রতি সেমিষ্টারে ৮০ থেকে ৯০ হাজার পান, যার ফলে চাকুরীর বেতনের আওতায় নিয়মিত কোর্সগুলোর আকর্ষন কমে যাচ্ছে। যার ফলে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষক বা শিক্ষা ও গবেষনা থেকে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয় আভ্যন্তরীন আয় বাড়ানোর জন্য চাকুরীজীবিদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্য কোর্স শুরু হয় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের চারটি বিভাগের কোর্স নিয়ে, যা বর্তমানে সারা বিশ্ববিদ্যালয়ে রমরমা ব্যবসায় পরিনত হয়ছে। অনেকে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কোন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয় এখানে জ্ঞানের চর্চার মাধ্যমে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হবে।

এখন বিশ্ববিদ্যলয়গুলোতে সান্ধ্য কোর্সের নামে যা কিছু চলছে তার দায়ভার উপাচার্যদের যিনি হলেন একাডেমিক ও প্রশাসানিক প্রধান অর্থাৎ সিন্ডিকেট সিই, একাডেমিক কমিটি ইত্যাদির সভাপতি। তাছাড়াও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান যার উপর সরকারের নিয়ন্ত্রন একেবারেই সীমিতি কেবল মাত্র বাজেট বরাদ্দ ও তার হিসাব নিকাশ ছাড়া। সেই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে আছে স্বল্প পরিসরে হলেও যা সার্বিক সরকারের বাজেট বরাদ্দের নুন্যতম অংশ মাত্র শতকরা হারে। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালযের আইনের সংশোধন এনে স্বায়ত্বশাসনের অধিক সুযোগ করে দিয়েছিলেন এই সকল উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু দীর্ঘসময়ের পথ পরিক্রমায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তার এই মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যার্থ হয়েছে যা খুবি দুঃখজনক জাতীর জন্য। সাম্প্রতিককালে বিশ্ববিদ্যালযের উপাচার্যদের কার্যকলাপ নিয়ে গনমাধ্যমে যে সকল অনিয়ম দুনীতির খবর বেড়িয়েছে যার মধ্যে রয়েছে যেমন- নিয়োগ বানিজ্য, নির্মান কাজে বানিজ্য, যন্ত্রপাতি ছাত্র ভর্তি বানিজ্য, সান্ধ্যকোর্স বানিজ্য, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে বানিজ্য,  রাজনীতির নামে বানিজ্য ইত্যাদি, যা এই পদটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে যার ধারাটির শুরু হয়েছিল নব্বই পরবর্তি রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত সরকারগুলোতে ক্ষমতায় আসার পরপরি যে ধারা এখনও অব্যাহত আছে। তার সাথে যোগ হয়েছে ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর ছাত্র সংগঠনের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি তথা উপাচার্যকে তার ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার বাহিনী হিসাবে। এর মাধ্যমে সরকারি দল থেকে অথবা সরকারি দলের সমর্থক শিক্ষক সংগঠনের নেতা হয়ে উপাচার্য পদে আসিন শিক্ষকদের ক্ষমতার বলয়ে সারা প্রতিষ্ঠান কম্পিত যার ফলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়ন্ত্রক বা পরামর্শক (ইউজিসি)  কারও তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে গেছে যা এখন জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র না হয়ে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। এমন একদিন খুজে পাওয়া যাবেনা যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল মিটিং অবরোধ আন্দোলন না চলছে যেখানে মিডিয়ার সামনে প্রক্টর কথা বলছেন না। তাহলে এই প্রতিষ্ঠানটিতে পড়াশুনো কিংবা গবেষনার পরিবেশ আছে কি? প্রথাগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের তিনটি কাজ, যথা শিক্ষক গবেষনা ও সম্প্রসারন যার মধ্যে শিক্ষা প্রদান হয়ে দাড়িয়েছে মুখ্য বিষয় সেটি যে মানেরই হউক না কেন। আর গবেষনার মধ্যে রয়েছে স্নাতকোত্তর পরবর্তি গবেষনা, ছাত্র বিশেষত এমফিল, এমএস ও পিএইডি পর্যায়ে যার জন্য সাধারন অবকাঠামোগত সুযোগ যেমন বিশাল গ্রন্থাগার, হোস্টেল, সেমিনার কক্ষ, বিভাগীয় লাইব্রেরী ও অভিজ্ঞ শিক্ষক (সুপারভাইজার)। তারপরও দেখা যাচ্ছে এই সকল গবেষনা কার্যক্রমে ছাত্রদের তেমন কোন আকর্ষন পরিলক্ষিত হয় না যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষুদ্রকার হলেও গবেষনা বৃত্তির ব্যবস্থা করে থাকে তাদের সামর্থ্যের ভিত্তিতে। তারপরও যারা ভর্তি হয় তারা সুপারভাইজারদের তেমন কোন পায়না কার্যকর ভাবে। এর একটি বড় সেই শিক্ষক তত্ত্বাবধায়ক বিভিন্ন আয় বর্ধনমুলক কাজে যেমন কোচিং, সান্ধ্যকোর্স, কনসালটেন্সি, বিদেশে ভ্রমন ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়েন, যার ফলে সময়মত মানসম্মত গবেষনা হয় না তথা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের মধ্যে কার্য্যক্রম শেষ করতে অক্ষম হয়। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষকের পিএইডি থিসিসে ৯৮ ভাগ প্রেগারিজ এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যারপর ফলশ্রুতিতে কর্তৃপক্ষ সেই শিক্ষককে বিভাগীয় তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অপসারন করেছে। বিষয়টি এখানেই শেষ তথা মাননীয় হাইকোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্দেশ দিয়েছে যে সকল থিসিস চলমান আছে বা নতুন প্রস্তাবনা জমা পড়বে সেগুলো অনুমোদনের জন্য আসিটি মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন    সাম্প্রতিককালে যত পিএইচডি থিসিস সম্পন্নপূর্বক ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে সেই সকল পত্রের কপি জমা দেওয়ার জন্য। তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষনা কার্যক্রম এখন এমন একটি ইমেইজ সংকটে পড়েছে তা থেকে বেড়িয়ে আসা সহজ হবে বলে মনে হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী উপদেষ্টা কিংবা খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে নিয়োজিত আছে। যা আদৌ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ (উপাচার্যের সচিবালয় কিংবা রেজিষ্ট্রার অফিস কিংবা ডীন অফিস) অবগত আছে কিনা। রংপুর ভিত্তিক একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় উপচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। অধিকার সুরক্ষা পরিষদ কর্তৃপক্ষ যেমন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, ক্ষমতার অপব্যবহার একই সাথে দুটি অনুষদের ডীন, একটি রিসার্চ ইনষ্টিটিউটের পরিচালক, একটি বিভাগীয প্রধানের দায়িত্ব ইত্যাদি (উৎস প্রথম আলো ৬ই ফ্রেবুয়ারী ২০২২)। এখন প্রশ্ন হলো কি মহামান্য আচার্য্যের আকুতি অনেক আছে এবং তিনি সঠিক জায়গাটিতে প্রশ্ন রেখেছেন। এই ধরনের পরিস্থিতি এক দিনে তৈরি হয়নি বা এর সমাধান এক দিনে সম্ভব হবে না। এখন মাননীয় আচার্য মহোদয় যে সকল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতামত রাখেন তার কতটুকু বাস্তবায়িত হয় যেমন সমন্বিত ভর্তি নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কথা তুলেছিলেন আজ থেকে দুবছর আগে যার বাস্তবায়ন কতটুকু। দেশের প্রায় ১৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় তদারক কিংবা নিয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ইউজিসি কতটুকু শক্তিশালী? উচ্চ শিক্ষা কমিশন গঠন করার কথা দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে তার অগ্রগতি কতটুকু? অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠিত হলেও তার কার্যকারিতা কি? 

দেশের বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য, উপ-উপাচার্য্য ও কোষাধক্ষ্যবিহীণ চলছে কেন এবং সেই সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রদত্ত সাটিফিকেট বৈধ কি? কোষাধক্ষ্যবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ কিনা যদিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এ বলা হয়েছে সেই সকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে আয় হবে তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে ব্যয় করার কথা থাকলেও তা স্বচ্ছতার সাথে কি হচ্ছে? এই সকল প্রশ্নের বেড়াজাল জড়িয়ে গেছে দেশের উচ্চশিক্ষা গবেষনা ও সম্প্রসারন ভবিষ্যত। আচার্য হিসাবে এই সকল বিষয়গুলোর দেখভালের দায়িত্ব মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপরই পড়ে তাহলে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বা সরকারেরই বা কি দায়িত্ব। কিছুদিন আগে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী হঠাৎ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদেরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিউিটে মিলানয়তনে এক সভায় মিলিত হয়েছিলেন এমন একটি সময়ে যখন বেশীরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় যেমন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। উপাচার্য বিরোধ আন্দোলনের কারনে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছিল বেশ কিছু দিন ধরে। এমন একটি মুহুর্তে বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জুরী কমিশন ইউজিছি কর্তৃক গঠিত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখে থাকেন এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে অবস্থিত আচার্য সচিবালয়ে যার সদস্য সচিব শিক্ষা সচিব নিজেই, তা দাখিল করা হয়। এই সকল তদন্তের সুপারিশ মতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে আচার্য সচিবালয় উপাচার্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকেন যা গোপালগঞ্জ শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে হয়েছে সত্যি কিন্তু যে প্রমানিত অভিযোগের ভিত্তিতে অপসারিত উপাচার্যের শাস্তি হলো তা আর জানা যায় নি। কিন্তু জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে তা হয়নি।

লেখক: অর্থনীতিবিদ, গবেষক।


Comment As:

Comment (0)